অনেকেই আপনাকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার বলেন, এ নিয়ে ভাবনা

আমি কখনো বলিনি আমিই ইতিহাসের সেরা। এটা ভাবিও না। সেরাদের একজন হতে পারাটাই আমার জন্য যথেষ্ট। এটাও আমি কখনো কল্পনা করিনি। আমি সবার সেরা হওয়া না হওয়াতে কিছু বদলাবে না। আমি হতে চাইওনি।

ছোটবেলায় হরমোনের ঘাটতিজনিত সমস্যা

মনে আছে, আমি মায়ের সঙ্গে গিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা করালাম। যখন সমস্যাটা জানলাম, সত্যি বলতে, আমি ভেঙে পড়িনি। জানি না, ছোট ছিলাম বলেই কি না, হয়তো আমি সমস্যাটা বুঝতেই পারিনি। তারপর আমাকে এর চিকিৎসাটা বলা হলো—প্রতিদিন ইনজেকশন নিতে হবে। আগের দিন এক পায়ে, পরের দিন অন্য পায়ে। তবে এটা আমার চলার পথে বাধা হতে পারেনি। এর জন্য আমার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আমি স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করেছি। তবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়েছে। যখন চিকিৎসা শুরু হলো, এটা আমার জীবনের অংশই হয়ে গিয়েছিল।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের শহর রোজারিও ছাড়া

আমার চিকিৎসা চলছিল, কিন্তু এটা খুবই ব্যয়বহুল ছিল। আমার ক্লাব নিওয়েলস বলেছিল, ওরা সেটার খরচ দেবে, কিন্তু দিতে পারছিল না। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেল। সেই সময়ই বার্সেলোনায় যাওয়ার সুযোগটা এল। রোজারিও ছেড়ে আসার সময়টা আমার খুব ভালো মনে আছে। সবাই যখন বিদায় দিচ্ছিল, আমার জন্য খুবই আবেগঘন মুহূর্ত ছিল সেটা।

নিজেকে কি বাকিদের জন্য আদর্শ মনে করেন

আমি জানি না, বাকিদের জন্য আমি আদর্শ কি না। আমি কখনো বাকিদের আদর্শ হওয়া বা কাউকে উপদেশ দেওয়ার কথা ভাবিনি। আমি নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছি। প্রথমে স্বপ্ন ছিল, পেশাদার ফুটবলার হওয়া। তারপর আমি নিজের উন্নতি করতে চেয়েছি এবং প্রতিবছর নতুন উচ্চতায় যেতে চেয়েছি। এই সময়গুলোতে কখনো কখনো ভাগ্যের সাহায্যও পেয়েছি।

সব সময় লাজুক ভাব

আমার পরিবার, বন্ধু বা যাঁদের আমি বিশ্বাস করি, তাঁদের সঙ্গে কিন্তু আমি অন্য রকম। এর বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে আমাকে হয়তো কিছুটা লাজুক মনে হয়, স্বচ্ছন্দ হতে পারি না বা সময় লাগে। কিন্তু নিজের বলয়ের মানুষের সঙ্গে আমি খুবই স্বাভাবিক একজন। ওদের সঙ্গে সব সময় ভালো মুডেই থাকি এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই।

ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা

না না। সত্যি বলি, আমি নিজেকে কখনো ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করি না। কখনোই না। এসব তুলনায় আমি কখনো মনোযোগ দিইনি। জাতীয় দলের হয়ে খারাপ সময়ের কারণে যখন সমালোচনা হয়েছে, তখন হয়তো কিছুটা খারাপ লাগত। তবে কোনো তুলনায় আমি কখনোই আগ্রহী ছিলাম না।

মেসির সতীর্থ হওয়াটা কি সহজ

এটা তো অন্যদের জিজ্ঞেস করতে হবে (হাসি)। আমি জানি না, এটা সহজ কি না। যারা আমাকে চেনে, তাদের জন্য এক রকম; যারা চেনে না, তাদের জন্য হয়তো আলাদা। তরুণদের জন্য হয়তো কিছুটা কঠিন। কারণ, তাদের কাছে আমার এক রকম ভাবমূর্তি থাকে। তবে তারা যখন আমাকে চেনে, তখন সহজ হয়ে যায় সবকিছু।

গোলের সংখ্যায় রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য আছে কি না

আমি সব সময় নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চাই, অন্যদের নয়। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন একই লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এটা এক অসাধারণ সময় ছিল এবং আমাদের দুজনকেই বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তবে আমরা একে অন্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবিনি। আমি নিজেকে ছাড়িয়ে সেরা হতে চেয়েছি, অন্যদের ছাড়িয়ে গিয়ে নয়।

থিয়েরি অঁরি বলেছেন, আপনি সাধারণ মানুষ নন

তিতি (অঁরি) এমন একজন, যাঁর সঙ্গে আমি ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছি, অনেক শিরোপা জিতেছি। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক এবং তিনি সব সময় আমার সম্পর্কে ভালো কথাই বলেন। তাঁর মতো একজনের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া দারুণ ব্যাপার।

প্রতিদিন মেসি হয়ে থাকাটা কতটা কঠিন

আমি ৩৪ বছর ধরে তো মেসি হয়েই আছি, তাই এটাতেই অভ্যস্ত হতে শুরু করেছি। যা করেছি, যা পেয়েছি, আমি সন্তুষ্ট। তবে অস্বীকার করব না, কখনো কখনো একটু আড়ালে থাকতে পারলে ভালো লাগত। কেউ আমাকে চিনছে না, এভাবে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে পারলে ভালো লাগত। তবে এ নিয়ে আমার অভিযোগ নেই। বরং এভাবে মানুষের প্রশংসা পাওয়া, হাসিমুখ দেখা কিংবা কারও কাছ থেকে ছবি তোলার বায়না শোনা—এগুলো দারুণ ব্যাপার। আমি এখন এতেই অভ্যস্ত এবং এটাই আমার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।