চোট কাটিয়ে সার্জিও রামোস আজ খেলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চোট কাটিয়ে সার্জিও রামোস আজ খেলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবি : রিয়াল মাদ্রিদ টুইটার

ম্যাচ রাত আটটায়। তাতে কী? রিয়াল ভক্তদের এখনই কপালে চিকন ঘাম দেওয়ার কথা। দল আগের দুই ম্যাচেই হেরেছে, খেলছেও ছন্নছাড়া। এই অবস্থায় বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকো খেলার জন্য রিয়াল ঠিক কতটুকু প্রস্তুত? রিয়াল সমর্থকদের মনে সন্দেহের আনাগোনা হওয়া স্বাভাবিক।

মৌসুমে এর মধ্যেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছয় ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে রিয়ালের। জিদান এই ছয় ম্যাচে মূলত দুই ছকের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছেন। হয় ৪-৩-৩, নয় ৪-৩-১-২। গত দুই ম্যাচে রিয়াল হেরেছে বলে ক্লাসিকোতে জিদান দলের খোলনলচে একেবারে আগপাশতলা বদলে ফেললে ভিন্ন কথা, না হলে এই দুই ছকের মধ্যে যেকোনো এক ছকেই খেলাবেন রিয়ালকে, এটা নিশ্চিত।

গোলবারের নিচে নির্ভরশীল বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া থাকছেন। তবে রক্ষণভাগে রিয়ালের চিন্তা বাড়াবে দুই ফুলব্যাক পজিশন। প্রথাগত দুই রাইটব্যাক দানি কারভাহাল ও আলভারো ওদ্রিওসোলা চোটে আক্রান্ত। ফলে এই জায়গায় জিদান কাকে খেলাবেন, দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। এই জায়গায় গত কয়েক ম্যাচে হয় নাচো ফার্নান্দেজ, না হয় ফারলাঁ মেন্দিকে খেলানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, ডিফেন্স লাইনের কেউ চোটে পড়লেই তাঁর জায়গায় খেলানো হয় নাচোকে, রক্ষণভাগের যেকোনো জায়গায় ‘সার্ভিস’ দেওয়ার ক্ষমতা আছে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই আদর্শ রাইটব্যাকের মতো খেলার সামর্থ্য নেই তাঁর। এই সমস্যা কাটাতে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে লেফটব্যাক ফারলাঁ মেন্দিকে টেনে ডানদিকে এনে খেলিয়েছেন জিদান। খারাপ যে খেলেছেন, বলা যাবে না। কয়েক দিন আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নেশনস লিগের এক ম্যাচে ফ্রান্সের জার্সিতেও রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছিলেন মেন্দি। তাই এই ম্যাচে তাঁর রক্ষণভাগের ডানদিকে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

default-image

তবে মেন্দিকে যদি রাইটব্যাক হিসেবে খেলানো হয়, তাহলে লেফটব্যাকে কে খেলবেন, তা নিয়ে জিদানের কপালে চিন্তার ভাঁজ বেড়ে যেতে পারে। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রিয়ালের মূল লেফটব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া মার্সেলো বেশ কয়েক মাস ধরেই ফর্মে নেই। আক্রমণে ওপরে উঠলে রক্ষণের কথা যেন মনে থাকে না তাঁর! ফলে পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে ঝামেলায় পড়ে রিয়াল।

মার্সেলোর জায়গায় লেফটব্যাক হিসেবে মেন্দি খেললে আবার সে সমস্যা হয় না। কী আক্রমণ, কী রক্ষণ—সবদিকেই সব্যসাচীর মতো ভূমিকা পালন করেন এই লেফটব্যাক। ফলে ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফর্মহীন মার্সেলোকে খেলানোর চাইতে স্বদেশি মেন্দিকে খেলানোটা হয়তো বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করবেন জিদান। আর সেটা যদি হয়, সে ক্ষেত্রে কপাল খুলে যেতে পারে নাচোর। কাদিজের বিপক্ষে রিয়াল হারলেও, রাইটব্যাক হিসেবে নাচো যে খুব বেশি খারাপ খেলেছিলেন, তা কিন্তু নয়।

তবে, কাদিজ আর বার্সা অবশ্যই এক নয়। সেখানে অখ্যাত লেফট মিডফিল্ডার অ্যালেক্স ফার্নান্দেস কিংবা স্ট্রাইকার অ্যান্থনি লোজানোকে সামলাতেই বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছিল নাচোর। এ ম্যাচে তিনি সামলাবেন মেসি-পরবর্তী যুগে বার্সা সবচেয়ে বড় ভরসা হিসেবে যাকে মানছে, সেই আনসু ফাতিকে। ফলে মাঠের ডানদিকটা নাচো একা অবশ্যই সামলাতে পারবেন না, দরকার হবে সাহায্যের। আর এ সাহায্যটাই আসতে পারে মিডফিল্ড থেকে।

সাধারণত ৪-৩-৩ ছকে খেলানো জিদান আজ হয়তো ওই ছকেই খেলবেন। তবে প্রথাগত কোনো উইঙ্গারের জায়গায় নামানো হতে পারে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দেকে। কারণ তিনটা—রক্ষণে বাড়তি নিরাপত্তা, আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় গতির অভাব পূরণ ও বার্সার বিপক্ষে মিডফিল্ডের লড়াইয়ে জেতা। উইঙ্গার হিসেবে নামানো হলেও, এই ম্যাচে ভালভার্দের প্রাণশক্তি, ক্রমাগত ওপর-নিচ করতে পারার ক্ষমতা সুবিধা করে দেবে রাইটব্যাকে খেলা নাচোকে।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান বলছে, এই মৌসুমে কোমানের অধীনে বার্সা তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণ করছে বাঁ দিক থেকে, ফাতির নেতৃত্বে। এই দিকের কার্যকারিতা হ্রাস করার জন্য নাচো-ভালভার্দে জুটির জমে ওঠা বড্ড জরুরি। আর মিডফিল্ডে কাসেমিরো, ক্রুস, মদরিচ তো থাকছেনই। গত কয়েক ম্যাচে রিয়ালের মিডফিল্ড প্রয়োজনীয় মাত্রায় ‘প্রেস’ করতে পারছে না প্রতিপক্ষকে, এটাও জিদানের এক চিন্তার কারণ। ভালভার্দেকে নামিয়ে সে সমস্যাটাও কাটিয়ে উঠতে চাইবেন জিদান।

ওপরে বাকি দুজন হিসেবে নামানো হতে পারে করিম বেনজেমা ও ভিনিসিয়ুসকে। করিম বেনজেমা এমনিতেই অত বেশি গতিশীল ফরোয়ার্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন না কোনোকালে, রিয়ালের ফর্মহীন ও চোটগ্রস্ত আক্রমণভাগে গতির ঝলক দেখানোর জন্য তাই ভিনিসিয়ুসকে নামানো হবে হয়তো। বার্সার রাইটব্যাক হিসেবে দেস্ত বা রবার্তো যিনিই খেলুন, ভিনিসিয়ুসের দায়িত্ব থাকবে নিজের কারিকুরি ও গতিশীলতা দিয়ে ক্রমাগত বার্সার রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়ানো, ‘হাই-লাইন ডিফেন্স’ ভেদ করা।

default-image

রিয়ালের আক্রমণভাগের আরেকটা সমস্যা, প্রয়োজনের সময়ে ডি-বক্সে কারওর উপস্থিতি না থাকা। শেষ কবে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেছিল রিয়াল? গবেষণার বিষয়। বেনজেমা নিচে নেমে খেলতে চান বিধায় উইং থেকে ক্রস এলে হেড করার কেউ থাকে না ডি-বক্সে। এই সমস্যার সমাধানও খুঁজতে হবে আজকে রিয়ালকে। ভিনিসিয়ুস সে ক্ষেত্রে অবশ্য কতটা কাজে আসবেন, তা প্রশ্নসাপেক্ষ!

রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য একাদশ (৪-৩-৩): থিবো কোর্তোয়া; নাচো ফার্নান্দেজ, রাফায়েল ভারান, সার্জিও রামোস, ফারলাঁ মেন্দি; লুকা মদরিচ, কাসেমিরো, টনি ক্রুস ; ফেদেরিকো ভালভার্দে, করিম বেনজেমা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

মন্তব্য পড়ুন 0