বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনাহীনভাবে কোচ নিয়োগ ও বদলের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে। সাম্প্রতিক কালে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মানেই ১৮০–এর (বর্তমান ১৮৯) নিচে ঘোরাঘুরি। ২০১৮ সালে নেমে গিয়েছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন ১৯৭–তে। মাঠের খেলায় লবডঙ্কা হলেও কোচ বদলাতে যে বাফুফের জুড়ি নেই, সেটি তো ১৩ বছরে ২০ বার কোচ বদলেই স্পষ্ট! এই সময়ে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন মোট ১৬ জন কোচ। সাফ ফুটবলের গত চার আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশকে তাই কোচ বদলে সাফ অঞ্চলের ‘চ্যাম্পিয়ন’ই বলতে হয়।

নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা পর্যালোচনা করে প্রায় প্রতিটি দেশই খেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলে। সে অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয় বয়সভিত্তিক ও মূল জাতীয় দলের কোচ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেলেও বাংলাদেশের ফুটবলের যেন সেদিকে দৃষ্টিই নেই। সে জন্যই কোচ নির্বাচনেও হযবরল অবস্থা। এই লাতিন কোচ আনা হয়, তো কিছুদিন পরই তাঁকে বিদায় করে নেওয়া হয় ইউরোপিয়ান কোচ। তাঁকেও পছন্দ হলো না, অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় স্থানীয় কোনো কোচের কাঁধে।

default-image

একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে ভালো খেলোয়াড় তৈরি করারও জোর চেষ্টা নেই বাফুফের। বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়ে বাফুফে কর্তারা এমন বড় বড় কথা বলা শুরু করেন যেন কোনো ‘জাদুকর’ এনেছেন। সেই জাদুকর মন্ত্রবলে বদলে যাবে জাতীয় দলের চেহারা। শুরুতে প্রশংসার ফুলঝুরি, কিন্তু এরপরই ধীরে ধীরে শুরু হয় কোচের ভুলভ্রান্তি ধরা। এমন নয় যে কোচ ভুল করলে সেটি নিয়ে কথা বলা যাবে না। কিন্তু প্রশংসা এবং সমালোচনার মধ্যে যে ভারসাম্যটাই নেই!

আসলে গলদটা বাফুফের কোচ ব্যবস্থাপনাতেই। মোটা বেতনে বিদেশি কোচ নিয়োগ দেওয়া হলেও কোচের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেওয়ার সামর্থ্যটাই যেন নেই তাদের! যে কারণে জাতীয় দলের কার্যক্রম না থাকলে ছুটি নিয়ে দেশে চলে যেতেন জেমি ডে। কাজ ছাড়া হোটেল ভাড়া দিয়ে তাঁকে ঢাকায় বসিয়ে রাখাটা বাফুফের কাছেও মনে হতো অপচয়। অথচ কোচকে কাজ দেওয়ার কথা তো বাফুফেরই! ব্রাজিলিয়ান এডসন সিলভা ডিডো থেকে শুরু করে ইউরোপিয়ান লোডভিক ডি ক্রুইফ, অ্যান্ড্রু ওর্ড এবং জেমি ডে—সবার ক্ষেত্রেই ঘটেছে এমন ঘটনা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বাফুফের বিরুদ্ধে কোচদের বেতন নিয়মিত না দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য জেমি ডে একটা বিষয় নিয়ে গর্ব করতে পারেন। সাম্প্রতিক কালে তিনিই সবচেয়ে বেশি সময় (৩ বছর) বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন।

default-image

সালাউদ্দিন যুগের শুরুতে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পান স্থানীয় কোচ আবু ইউসুফ। তিনি টিকেছিলেন মাত্র দুই মাস। তাঁর জায়গায় শফিকুল ইসলাম বসে স্থায়ী হয়েছিলেন পাঁচ মাসের মতো। বিদেশি কোচদের মধ্যে সার্বিয়ান জোরান জর্জেভিচ, ইতালিয়ান ফাবিও লোপেজ, স্প্যানিশ গঞ্জালো মোরেনো ও বেলজিয়ামের টম সেইন্টফিট ছয় মাসও বাংলাদেশে টিকতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে মোরেনোর কোচ হওয়ার গল্পটা বেশ হাস্যরসও তৈরি করেছিল। বাংলাদেশে তিনি এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীর ঢাকায় ইউনিসেফে চাকরির সুবাদে। সন্তানেরা বাবার হাত ধরে স্কুলে যাবে, এটিই ছিল তাঁর ভাবনা। কিন্তু বার্সেলোনা ‘বি’ দলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় পাকেচক্রে তিনিই হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের কোচ। রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জর্ডানের বিপক্ষে ৮ গোল খাওয়ার পর চুকে যায় মোরেনো অধ্যায়।

জাতীয় দলের কোচ নিয়োগে বাফুফে বরাবরই অদূরদর্শী চিন্তাভাবনার পরিচয় দিয়ে আসছে। তবে ব্যর্থতার ভার তারা নিতে চায় না। পরিকল্পনার অভাব বাফুফের, অথচ জাতীয় দলের ব্যর্থতা মানেই সব দোষ কোচের। কোচ বদলানোতেই যেন এর সমাধান! সে কারণেই ১৩ বছরে ২০ কোচ। কোচ বিদায়ে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বাংলাদেশ!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন