ফাইনালের আগে সংবাদকর্মীদের নেইমার বলেন, ‘মেসি, সব সময়ই বলে এসেছি আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় ও অসাধারণ বন্ধু। কিন্তু এখন আমরা ফাইনালে, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী। আমি এ শিরোপাটা সত্যিই জিততে চাই, যেটা হবে আমার প্রথম কোপা আমেরিকা।’ ১৯৯৩ সালের পর আর্জেন্টিনা আর বড় কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। ২৮ বছরের শিরোপাখরা ঘোচাতে নেইমারের মুখোমুখি হবেন মেসি। অর্থাৎ ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার সময় মেসির মনেও নেইমারের সঙ্গে বন্ধুত্বটা তেমন মনে থাকার কথা নয়।

নেইমার জানালেন, ব্রাজিল কোনো টুর্নামেন্টে না থাকলে (যেখানে আর্জেন্টিনা আছে), তিনি বরাবরই মেসিকে সমর্থন দিয়েছেন, ‘২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে এ কাজটাই করেছি, যখন জার্মানির মুখোমুখি হলো।’ আর্জেন্টিনা সে ফাইনালে ১–০ গোলে হেরেছিল জার্মানির কাছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা। নেইমারকে তাই বন্ধুত্ব ভুলে দেশের কথাটাই আগে ভাবতে হচ্ছে, ‘এখন যেহেতু বিপক্ষ, তাই বন্ধুত্বটা হুমকির মুখে। আমাদের মধ্যে সম্মানের সম্পর্কটা থাকবে কিন্তু জিততে পারবে তো শুধু একজনই।’

সম্পর্কটা যেহেতু পারস্পরিক সম্মানবোধেরই থাকছে, তাহলে কোপার ফাইনালে নেইমার বন্ধুত্বকে একপাশে সরিয়ে রাখবেন কীভাবে? ভিডিও গেমসে খেলার উদাহরণ দিয়ে নেইমার তার ব্যাখ্যা দিলেন, ‘যখন কারও বন্ধু হবেন, তখন সেটা ভুলে থাকা কঠিন। কিন্তু বন্ধুর সঙ্গে যখন ভিডিও গেমস খেলেন, তখন তো তাকে যেকোনো মূল্যে হারাতে চান। ফাইনালে ঠিক এটাই হবে।’

নেইমারের এসব কথা নিশ্চয়ই মেসির কান পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর্জেন্টাইন তারকাও নিশ্চিত বন্ধুত্ব এক পাশে সরিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজের মতো করে।