টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন ভিনিসিয়ুস।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন ভিনিসিয়ুস। ছবি: রয়টার্স

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কেমন খেলেন, এ প্রশ্নের উত্তরে দ্বিধান্বিত উত্তর মিলবে। বল নিয়ে ছুটতে পারায় তাঁর সঙ্গে তুলনা করার মতো খেলোয়াড় খুব কম, পায়ের স্কিলও তাঁর কম নয়, প্রতিপক্ষকে তটস্থ করতে পারেন ভালো। কিন্তু গোলের সামনে গেলেই গুবলেট পেকে যায়। এক মুহূর্তে মনে হয় অসাধারণ এক ফুটবলার, পর মুহূর্তেই মনে হয় ইনি কে! আজ লেভান্তের বিপক্ষে দুই ভিনিসিয়ুসের দেখাই মিলেছে।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সুখবর হলো, ইদানীং দ্বিতীয় ভিনিসিয়ুসের চেয়ে মাঠে প্রথমজনের দেখাই মিলছে বেশি। আগের ম্যাচে রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে তাঁর একমাত্র গোলেই জিতেছিল রিয়াল। আজ লেভান্তের বিপক্ষেও রিয়ালকে জেতালেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ। গত ম্যাচের গোলটি ছিল প্রতিপক্ষের উপহার। আর আজ যে গোলটা করেছেন সেটায় ছিল নিখাদ লাতিন ফুটবলের সৌন্দর্য। লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগে আপাতত শীর্ষে চলে গেল রিয়াল।

বিজ্ঞাপন

স্কোরলাইন ২-০ দেখাচ্ছে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে করিম বেনজেমার গোলের কারণে। কিন্তু ম্যাচের স্কোরলাইন খেলার পরিস্থিতি বোঝাতে পারছে না। প্রথমার্ধে শুধু ১৬ মিনিটে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাঁকানো শটটি ছাড়া ম্যাচের হাইলাইটসে স্থান পাওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। কিন্তু ম্যাচটি সব সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দশ মিনিটে অন্তত চারবার ব্যবধান বাড়াতে পারত রিয়াল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও করিম বেনজেমা মিলে নষ্ট করেছেন সব সুযোগ। বেনজেমার শট তো ফিরেছে পোস্টে লেগে। ওই দশ মিনিটে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে রিয়াল। কিন্তু এরপরই ম্যাচে দাপট শুরু হয়েছে স্বাগতিকদের। ৫৫ মিনিটে রিয়ালের দাপট কমাতে দুজন বদলি খেলোয়াড় নামিয়েছেন লেভান্তে কোচ পাকো লোপেজ। এরপরই রিয়ালের আত্মা কাঁপানো ফুটবল খেলেছে দলটি। এ সময়টায় রিয়ালকে ম্যাচে রেখেছেন থিবো কোর্তোয়া। গত ম্যাচেও রিয়ালের ত্রাতা ছিলেন এই গোলরক্ষক। আজও দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় একাই রিয়ালকে রক্ষা করেছেন কোর্তোয়া।

default-image
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদেহী এই গোলরক্ষক একবারই বোকা বনেছিলেন। সেটা প্রতিপক্ষ নয়, নিজের দলের খেলোয়াড়ের কারণে। লেভান্তের একটি শট ঠেকাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন কোর্তোয়া, কিন্তু কাসেমিরোর পায়ে লাগায় বল পথ বদলে জালের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু কোর্তোয়ার লম্বা পা সে বল ঠেকিয়ে দিলে বেঁচে যায় রিয়াল। ৭০ মিনিটে রামোসের গোল রিয়ালকে স্বস্তি দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সে গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেয় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি।

যোগ করা সময়ে গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল লেভান্তে। একদম শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে উঠে এ মৌসুমে প্রথম গোল পেয়েছেন বেনজেমা।

এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেরই সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৬-১ গোলে লজ্জার হার উপহার দিয়েছেন জোসে মরিনিও ও তাঁর দল টটেনহাম। প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বার ছয় গোল খেয়েছে ম্যান ইউনাইটেড, সর্বশেষটি ২০১১ সালে নিজেদের মাঠে নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির কাছে।

ম্যাচের ৬২ মিনিট ইউনাইটেড ১০ জন নিয়ে খেলেছে, এটাও হয়তো প্রিমিয়ার লিগ যুগে ইউনাইটেডের যৌথভাবে সবচেয়ে বড় এই হারের ব্যাখ্যা হয় না! ইউনাইটেডের রক্ষণ ছিল হাস্যকর, মাঝমাঠ নিষ্ক্রিয়।

অথচ ম্যাচের ৯০ সেকেন্ডেই পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড, সেটি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। কিন্তু ৭ মিনিটের মধ্যে তাঙ্গি এনদোমবেলে ও সন হিউং-মিনের গোলে উল্টো এগিয়ে যায় মরিনিওর স্পার্স। এরপর ওই লাল কার্ড–কাণ্ড। কর্নারের সময়ে টটেনহামের এরিক লামেলার মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে লাল কার্ড দেখেন আন্থনি মার্শিয়াল।

এরপর আর কী? গোলের বন্যা। হ্যারি কেইন ও সনের গোলে প্রথমার্ধেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে টটেনহাম, দ্বিতীয়ার্ধে সার্জ অরিয়েরের গোলের পর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কেইন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন