দুই শিষ্যকে মাঠে নামানোর আগে কৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। কাল চেলসির বিপক্ষে সেভাবে সৌরভ ছড়াতে পারেনি তাঁর কৌশল।
দুই শিষ্যকে মাঠে নামানোর আগে কৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। কাল চেলসির বিপক্ষে সেভাবে সৌরভ ছড়াতে পারেনি তাঁর কৌশল।ছবি: এএফপি

‘আমি জানতাম, ওরা এর আগে ৫-৩-২ ছকে খেলেছে। কিন্তু আমরা এই ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম এই ভেবে যে ওরা ৪-৩-৩ ছকে খেলবে, যে ছকে ওরা সব সময় খেলে থাকে। কিন্তু ম্যাচের আগে ওদের দল দেখে আমি সে অনুযায়ী নিজের দলের কৌশলটাও একটু বদলে নিয়েছি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাড়াতাড়ি কথা বলে রক্ষণভাগে কিছু পরিবর্তন এনে মাঠে নেমেছি।’

ম্যাচ শেষে বিটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চেলসির কোচ টমাস টুখেলের বলা কথাগুলো ফুটবলের কৌশলগত দিকে আগ্রহী মানুষজনের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই কথাতেই মূলত ফুটে উঠেছে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চেলসি ঠিক কীভাবে রিয়ালকে তাদের মাঠেই আটকে দিয়েছে।

একটু গভীরে ভেবে দেখা যাক। কয়েক বছর ধরে জিদান মূলত ৪-৩-৩ ছকের ওপরেই আস্থা রেখেছেন। এই ছকই জিদানকে এনে দিয়েছে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার স্বাদ। অবশ্য মাঝমাঠে যার টনি ক্রুস, লুকা মদরিচ আর কাসেমিরোর মতো তিনজন বিশ্বমানের মিডফিল্ডার আছে, তাঁর তিন মিডফিল্ডারবিশিষ্ট ছকের বাইরে যাওয়ারই–বা কী দরকার?

জিদানও যাননি। ৪-৩-৩ ছকও জিদানকে দুহাত ভরে দিয়েছে। চেলসির কোচ টমাস টুখেল ভেবেছিলেন, তাঁর দলের বিপক্ষে সেমিতেও রিয়াল মাদ্রিদ এই ছকের ওপরেই ভরসা রাখবে। খেলবে ৪-৩-৩ ছকে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এই মৌসুমের জিদানের সঙ্গে অন্যান্য মৌসুমের জিদানকে মেলালে চলবে না। অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় এই মৌসুমে জিদান আরও অনেক বেশি কৌশলী। রোনালদো ক্লাব ছেড়েছেন, বিকল্প হিসেবে দলে আসা এডেন হ্যাজার্ডও নতুন দলের হয়ে যত দিন অনুশীলন করেছেন, তার চেয়ে বেশি দিন থেকেছেন চোটের কারণে মাঠের বাইরে।

বেল তো থেকেও ছিলেন না, এ মৌসুমে তিনিও ধারে চলে গেছেন। ফারলাঁ মেন্দি আর থিবো কোর্তোয়া ছাড়া আর প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে মাঠের বাইরে ছিলেন। চাইলেও জিদান নির্দিষ্ট কোনো একাদশে স্থির থাকতে পারেননি।

default-image

স্থির থাকতে পারেননি নির্দিষ্ট কোনো ছকের গণ্ডিতে। চিরপরিচিত ৪-৩-৩ ছক ছেড়ে প্রায়ই আশ্রয় নিয়েছেন ৪-৪-২, ৪-২-৩-১, এমনকি ৩-৫-২ বা ৩-৪-৩ ছকেও। ম্যাচের মধ্যে পরিস্থিতি অনুযায়ী জিদানের কৌশলগত পরিবর্তন নজর কেড়েছে বেশ ভালোভাবেই।

জিদান বেশ ভালোই জানতেন, টুখেল কোনো নির্দিষ্ট ছকে দলকে নিয়মিত খেলানোর মতো কোচ নন। নিজের এই প্রবণতা বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও পিএসজি—নিজের সাবেক দুই ক্লাবেই দেখিয়েছেন টুখেল। ফুটবল পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট এফবিরেফ ডটকম জানাচ্ছে, ডর্টমুন্ডে থাকতে টুখেল ৪-২-৩-১ ছকে দলকে খেলিয়েছেন ২৪ বার, ৪-১-৪-১ ছকে খেলিয়েছেন ১৫ বার, ৩-৪-৩ ছকে ডর্টমুন্ড খেলেছে ১৩ বার, ৪-৩-৩ ছকে খেলেছে ৬ ম্যাচ, বাকি পাঁচ ম্যাচ খেলেছে ৩-১-৪-২ ছকে।

পিএসজিতেও একই কাহিনি। এখানে অবশ্য ৪-২-৩-১ নয়, ৪-৩-৩ ছকেই নেইমারদের বেশি খেলিয়েছেন টুখেল, ২৬ বার। ৪-৪-২ ছকে খেলিয়েছেন ১৪ ম্যাচে, ৪-২-২-২ ছকে ১০ ম্যাচ, ৪-২-৩-১ ও ৩-৫-২ ছকে দলকে খেলিয়েছেন যথাক্রমে আট ও সাতবার।

চেলসিতে এসেও ছক নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছেই টুখেলের। ৩-৪-৩, ৩-৪-২-১, ৪-৩-৩, ৪-২-৩-১; সব ছকেই এই দুই মাসে চেলসিকে খেলানো হয়ে গেছে টুখেলের।
তো টুখেলের দলের বিপক্ষে নামার আগে জিদানের আগে এই ব্যাপারটা ঘুরবে না, সেটাই বরং অস্বাভাবিক। তার ওপর আগেই বলা হয়েছে, আগের যেকোনো মৌসুমের চেয়ে এই মৌসুমে জিদান নিজেও ছক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে আতালান্তার ৩-৪-৩ ছকের বিপক্ষে দলকে নামিয়ে দিয়েছিলেন ৩-৪-৩ ছকে। সুফলও পেয়েছেন।

default-image

জিদানের ম্যাচের আগে মনে হয়েছে, টুখেলের এই চেলসির বিপক্ষে ওই তিন সেন্টারব্যাক বিশিষ্ট ৩-৫-২ ছকটাই কাজে দেবে। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। রামোস ছিলেন না, তিন সেন্টারব্যাকের জায়গায় খেলানো হলো নাচো ফার্নান্দেস, রাফায়েল ভারান ও এদের মিলিতাওকে।

মাঝমাঠে যথারীতি ক্রুস, কাসেমিরো, মদরিচ। তাঁদের দুপাশে দুই উইংব্যাক হিসেবে মার্সেলো (বাম) ও দানি কারভাহাল (ডান)। ওপরে বেনজেমার আক্রমণসঙ্গী ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে নামার আগে টুখেলের কাছে এই খবর পৌঁছে গিয়েছিল যে জিদান ৩-৫-২ ছকে দলকে খেলাবেন। আগে ভেবেছিলেন, জিদান ৪-৩-৩ ছকেই দলকে খেলাবেন। কিন্তু ম্যাচের আগেই বুঝে গেলেন—সেটা আর হচ্ছে না। ব্যস, তড়িঘড়ি করে নিজের খেলোয়াড়দের দায়িত্ব একটু করে বদলে দিলেন, বিশেষ করে রক্ষণভাগে খেলা তারকাদের।

তিন সেন্টারব্যাক বিশিষ্ট দলের বিপক্ষে পাল্লা দেওয়ার জন্য তিন সেন্টারব্যাক বিশিষ্ট ছকই সাধারণত সবচেয়ে বেশি কাজে আসে, তাই টুখেলও ৩-৪-২-১ ছকে দলকে সাজালেন। এতে অবশ্য টুখেলের একটু সুবিধাই হলো। কারণ, চেলসিতে এসে এই ছকেই দলকে বেশির ভাগ সময় খেলিয়েছেন টুখেল।

default-image

চেলসির ৩-৪-২-১ ছকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, দলের ডিফেন্ডারদের চেয়ে মিডফিল্ডার আর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা অনেক বেশি প্রেস করে থাকেন। মাঝমাঠে এনগোলো কান্তে, মাতেও কোভাচিচ, মেসন মাউন্ট, আর আক্রমণভাগে টিমো ভেরনার, কাই হাভার্টজ, ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক—প্রত্যেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে উঠে গিয়ে যথেষ্ট কার্যকর উপায়ে প্রেস করতে থাকেন। যে প্রেসিংটা তাঁরা সাবেক কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অধীনে এতটা করতেন না।

ফলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা রক্ষণভাগ থেকে বল বের করতেই হিমশিম খেয়ে যান। প্রতিপক্ষের অর্ধে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি বলের দখল পুনরুদ্ধার করতে পারছে চেলসি। এই কাজে সবচেয়ে কার্যকর শিষ্য হিসেবে টুখেল পেয়েছেন কান্তে, কোভাচিচ ও মাউন্টকে।

বিশেষ করে মাউন্টের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। যে মাউন্টকে আগে ভাবা হতো ল্যাম্পার্ডের পছন্দের শিষ্য বলেই ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ পেয়ে যান, এমনিতেই নিয়মিত খেলার যোগ্যতা নেই তাঁর, সেই মাউন্ট এই টুখেলের অধীনেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ৩-৪-২-১ ছকে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন, কখনো সহকারী স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে ওপরে উঠে প্রেস করেছেন।
এই কাজটা মাউন্ট গত রাতে আবারও করে দেখিয়েছেন।

চেলসির ৩-৪-২-১ ছকে একমাত্র স্ট্রাইকার ছিলেন টিমো ভেরনার, পেছনে জোড়া ‘নাম্বার টেন’ ভূমিকায় খেলানো হয়েছে মাউন্ট আর পুলিসিককে। তিন সেন্টারব্যাক আন্তোনিও রুডিগার, আন্দ্রেয়া ক্রিস্টিয়ানসেন আর থিয়াগো সিলভার ওপরে দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন কান্তে ও জর্জিনিও। যাঁদের দুপাশে উইংব্যাক হিসেবে খেলেছেন বেন চিলওয়েল (বাঁ) ও সেজার আজপিলিকুয়েতা (ডান)।

প্রতিপক্ষের তিন সেন্টারব্যাককে এক স্ট্রাইকার (ভেরনার) ও দুই আক্রমাত্মক মিডফিল্ডার (মাউন্ট, পুলিসিক) দিয়ে প্রেস করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন টুখেল। শুধু প্রেসই নয়, বরং মাঝে মাঝে মাউন্ট আর পুলিসিককে নিচে নামতেও বলছিলেন টুখেল।

ফলে বিশেষ করে মিলিতাও আর নাচো তাঁদের পিছু পিছু ওপরে উঠে গিয়ে ভারানকে একা করে দিচ্ছিলেন, তিন সেন্টারব্যাকের মধ্যে থাকা অদৃশ্য ‘ডিফেন্সিভ লাইন’ ভেঙে যাচ্ছিল তাতে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছিল লেফট উইংব্যাক হিসেবে মার্সেলোর উপস্থিতি। ভদ্রলোকের বয়স হয়েছে, আক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারলেও আগের মতো রক্ষণ করতে আর পারেন না! যাঁকে মার্ক করেন, মাঠভর তার পেছনে ছুটতে পারেন না। যে কারণে এখন মার্সেলো নন, বরং ফারলাঁ মেন্দির ওপরেই বেশি ভরসা করেন জিদান।

default-image

ওপরের গ্রাফিক্সে দেখা যাচ্ছে, নিচ থেকে বল বাড়াতে ক্রুস নেমে গেছেন তৃতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে। তাঁকে জায়গা করে দিতে নাচো লেফট উইংব্যাকের ভূমিকা নিতে গিয়েও পারেননি, কারণ লেফটব্যাক হিসেবে খেলতে পারলেও লেফট উইংব্যাক হিসেবে যে আক্রমণ করার ক্ষমতা থাকতে হয়, সেটা তাঁর নেই।

ওদিকে নাচোকে লেফট উইংব্যাক হিসেবে জায়গা করে দিতে, ক্রুসের ফেলে আসা জায়গা ভরাট করতে ও নিজের রক্ষণ দুর্বলতা ঢাকতে মার্সেলো হয়ে গেছেন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, কাসেমিরোর পাশে। তবে বড় দলের বিপক্ষে মিডফিল্ডে ক্রুসের মতো সার্ভিস দিতে পারেননি তিনি মিডফিল্ডে, সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রেসে ভেঙে পড়া, রক্ষণ করতে সময়মত না নেমে আসতে পারার মতো সমস্যা ছিলই।

মার্সেলো, ক্রুস ও নাচোর অবস্থানগত এই জটিলতার কারণে প্রায়ই ঐ দিক দিয়ে ফাঁকা জায়গা বের হয়ে আসছিল যেখান দিয়ে পুলিসিক-মাউন্টরা আক্রমণ করছিলেন। মদরিচ ক্রমাগত ওপরে বেনজেমার পাশে প্রেস করেছেন প্রথমার্ধে। লাভ হয়নি। ভিনিসিয়ুস লেফট উইংয়ে একা পড়ে গিয়েছিলেন।

চোটের কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না মেন্দি। কোনো উপায় ছিল না বলে তাই জিদান মার্সেলোকেই নামিয়েছিলেন। ফলে রিয়ালের বাঁ দিকটা চেলসির ডান দিকে খেলা খেলোয়াড়েরা মিলে একদম ব্যতিব্যস্ত করে রাখছিলেন। ডান দিকে থাকা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার কান্তে, রাইট উইংব্যাক আজপিলিকুয়েতা, রাইট উইঙ্গার পুলিসিক, নাচো উঠে আসার কারণে রিয়ালের রক্ষণে ফাঁকা হয়ে যাওয়া জায়গাটায় আক্রমণ করতে প্রত্যেকে উঠে আসছিলেন কিছুক্ষণ পরপর। আর রিয়াল এতেই ভুগেছে সবচেয়ে বেশি। চেলসির ডান দিকের শক্তিমত্তার কাছে রিয়াল এতটাই অসহায় ছিল, গোটা ম্যাচে দলটার লেফট উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস তেমন কিছু করার সুযোগই পাননি।

default-image

আক্রমণভাগে প্রেস করতে গিয়েও রিয়ালের সমস্যা চোখে পড়েছে। ৩-৪-৩ বা ৩-৫-২ ছকে সাধারণত স্ট্রাইকারের পাশে দুদলের কোচই একজন মিডফিল্ডারকে ওপরে পাঠান ছদ্ম স্ট্রাইকারের ভূমিকায় খেলে প্রেসে অংশ নেওয়ার জন্য। চেলসির হয়ে যে কাজটা মাউন্ট খুব সফলভাবে করেছেন, আগেই বলা হয়েছে। এই ভূমিকায় জিদান ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন লুকা মদরিচকে।

৩৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার প্রেসিংয়ের কাজটা যে খারাপ করেন, তা বলা যাবে না। বিশেষ করে দ্বিতীয় রাউন্ডে আতালান্তার বিপক্ষে ম্যাচটায় বারবার দেখা গেছে, বেনজেমার পাশে তিনিও প্রেস করতে উঠে যাচ্ছিলেন, এভাবে বেনজেমাকে দিয়ে গোলও করিয়েছিলেন একটা। কিন্তু এই ম্যাচে আর পারলেন না সেভাবে কার্যকর প্রেস করতে। চেয়ে চেয়ে দেখলেন, একই ভূমিকায় তরুণ মাউন্ট চেলসির হয়ে কী দুর্দান্তভাবেই না খেলছেন!

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, মদরিচ কেন? ওপরে উঠে প্রেস করার দায়িত্বটা তো কাসেমিরো বা ক্রুস; এঁদেরকেও দেওয়া যায়। এখানেও আছে সমস্যা। ক্রুসের ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা যাক। দলের অধিনায়ক সের্হিও রামোস থাকলে পেছন থেকে ছোট ছোট পাসে দলের আক্রমণ গড়ে তোলার কাজটা করতে পারেন।

কারণ, বল পায়ে রামোসের দক্ষতা রিয়ালের যেকোনো ডিফেন্ডারের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। রামোস ফিট থাকলে রিয়াল মাদ্রিদ বাঁ দিক থেকে অপেক্ষাকৃত বেশি আক্রমণ করে। রামোসের পাশাপাশি ক্রুস, মেন্দি আর ভিনিসিয়ুস যে কাজে রিয়ালকে সাহায্য করেন।

চোটের কারণে রামোস এখন দলের বাইরে, জিদান তবু এই মৌসুমে ‘বামপন্থী’ আচরণ থামাননি! রামোসের অনুপস্থিতি বরং রিয়ালকে ছোট ছোট পাসে নয়, বরং ‘লং বল’ বা লম্বা পাসে খেলতে উদ্বুদ্ধ করছে, সেটা সোজা হোক বা আড়াআড়ি। আর এই কাজে রামোসের জায়গায় অনেকটা তৃতীয় বা ছদ্ম সেন্টারব্যাকের ভূমিকায় নেমে এসে ক্রুস আক্রমণভাগে বল পাঠান।

ক্রুসকে এই কাজে ব্যবহার করার অর্থ, তাঁকে সামনে পাঠানো যাবে না। ৪-৩-৩ ছকে ক্রুস নেমে আসলে বাঁ দিকের সেন্টারব্যাক (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নাচো) ক্রুসকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য হয়ে যান লেফটব্যাক, ওদিকে লেফটব্যাক (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মেন্দি) হয়ে যান বাঁ দিকের মিডফিল্ডার। আর ওপরে লেফট উইঙ্গার হিসেবে ভিনিসিয়ুস তো থাকেনই।

বিজ্ঞাপন

এই ম্যাচে রিয়াল ৩-৫-২ ছকে খেললেও ক্রুস ওই ছদ্ম সেন্টারব্যাকের ভূমিকা পালন করতে নেমে যাচ্ছিলেন, যেহেতু ৪-৩-৩ ছকের তুলনায় এই কাজ করতে গিয়ে একজন সেন্টারব্যাক বেশি হয়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে নাচোকে হতে হচ্ছিল লেফট উইংব্যাক, লেফটব্যাক নয়।

অর্থাৎ স্বাভাবিক লেফটব্যাকের চেয়েও আক্রমণে উঠে যেতে হচ্ছিল তাঁকে, যে কাজে তিনি কখনোই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ওদিকে লেফট উইংব্যাকের ভূমিকায় মার্সেলো ক্রুসের ফেলে আসা জায়গায় খেলছিলেন অনেকটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে। মার্সেলোর রক্ষণাত্মক দুর্বলতা ঢাকার জন্য তাঁকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর এই কৌশল দুর্বল দলের বিপক্ষে কাজে দিলেও গত রাতে দেয়নি। ফলে প্রেসে প্রায়ই খাবি খাচ্ছিলেন তিনি।

default-image

ওদিকে মদরিচ আর ক্রুসের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিল অনেক, হিসাব অনুযায়ী মাঝমাঠেই থাকছিলেন না এই দুই মিডফিল্ডার। ফলে মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্ব মার্সেলোর পাশাপাশি কাসেমিরোর ওপরে এসে পড়ে। মার্সেলোর দুর্বলতা থাকার অর্থ, কাসেমিরোকে একাই সামলাতে হচ্ছিল কান্তে-জর্জিনিওদের। কান্তে তাই জায়গা পেয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন গোটা ম্যাচ। চেলসি আরও কয়েকটা গোল পেয়ে গেলেও আশ্চর্যের কিছু ছিল না।

সব মিলিয়ে তিন সেন্টারব্যাকবিশিষ্ট ছকের সার্থক প্রয়োগ করেছেন টুখেল। আর জিদান বুঝেছেন, দ্বিতীয় লেগে ভালো কিছু করতে হলে টুখেলের দলের বিপক্ষে কী কী করতে হবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন