গতকাল মেসির এক কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে।
গতকাল মেসির এক কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। ছবি: এএফপি

এ মৌসুমে এখনো নিজের সেরা রূপে দেখা দেননি লিওনেল মেসি। এখনো মাঠে দারুণ সব সুযোগ তৈরি করছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন—এসবই ঠিক আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন মৌসুমে পেনাল্টি ছাড়া গোল করতে পারেননি বার্সেলোনা অধিনায়ক। সবশেষ পাঁচ গোলের সব কটিই এসেছে তাঁর পেনাল্টি থেকে। এ রকম পেনাল্টিনির্ভর সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কখনো পার করতে হয়নি।

মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু আইনি ঝামেলায় ৩৩ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের সে ইচ্ছা পূরণ হয়নি। আসছে জানুয়ারিতেই চাইলে নতুন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে যেতে পারবেন। ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর পদত্যাগের পর তাঁর ক্লাবে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও মাঠে যেন এখনো মন দিয়ে খেলছেন না মেসি। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে দিনামো কিয়েভের বিপক্ষে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মেসির আচরণে সেটারই যেন ছাপ দেখতে পাচ্ছিলেন ভক্তরা। দলের জন্য শেষটুকু দেওয়ার কোনো চেষ্টার ছাপ দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

কাল কিয়েভের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। এ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন জয় পেয়েছে বার্সা। লিগে অবশ্য বেশ বাজে অবস্থা। দুটি করে জয়, হার ও ড্রতে লা লিগায় ১২তম অবস্থান বার্সেলোনার। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা জয় পেলেও দলের খেলায় একদমই সন্তুষ্ট নন কোচ রোনাল্ড কোমান। আর গতকাল ম্যাচের শেষদিকে মেসির ঘটনাটা দেখে থাকলে কোমানের ক্ষোভ বাড়বে বৈ কমবে না। বার্সেলোনার ম্যাচ শেষে সাধারণত মেসির দারুণ কোনো ড্রিবলিং বা গোলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কাল ছড়িয়েছে মেসির অন্য ধরনের এক ভিডিও।

গতকাল ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া কিয়েভ ৭৫ মিনিটে এক গোল ফিরিয়ে দেয়। এরপর বহু চেষ্টায়ও সমতা ফেরাতে পারেনি তারা। যোগ করা সময়ে মাঝমাঠে বল পেয়েছিলেন কিয়েভ মিডফিল্ডার ওলেক্সান্দর আন্দ্রিয়েভস্কি। একটু দূরেই ছিলেন মেসি। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে যান। উদ্দেশ্য—বল কেড়ে নিতে পারলে তো হলোই, তা না হলেও অন্তত যেন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়টি তাঁর সতীর্থ খুঁজে নিয়ে পাস দেওয়ার মতো অত সময় না পান। সেই মুহূর্তে দায়িত্বটা নেওয়ার কথা ছিল মেসির।

বার্সেলোনা অধিনায়কের দিক থেকে এমন কিছু করার আগ্রহ দেখা যায়নি। তাঁর চোখের সামনে দিয়ে বল নিয়ে আক্রমণে উঠে গেছেন আন্দ্রিয়েভস্কি। আর মেসি পাশে দাঁড়িয়ে দেখলেন কীভাবে প্রতিপক্ষ বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন! ম্যাচের ৯০ মিনিট পার হয়ে যাওয়ায় খেলার আগ্রহ যেন হারিয়ে ফেলেছেন মেসি। বল নিয়ে তাঁর আর বলার বা করার কিছু ছিল না। যোগ করা সময়ের বাকিটুকু কোনোমতে কাটিয়ে দিলেই পারেন। এ সময় অযথা বল কাড়াকাড়ি করতে যাওয়ার কারণ যেন খুঁজে পাননি বার্সা অধিনায়ক। তাই তো চেয়ে চেয়ে দেখলেন কীভাবে বল নিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় চলে যাচ্ছেন চোখের সামনে দিয়ে।

মাঠে মেসির নিস্পৃহ আচরণ নতুন কিছু নয়। বল পায়ে দুর্দান্ত ফুটবলারটিই প্রতিপক্ষের পায়ে বল গেলে অনেক সময় নিস্পৃহ থাকেন। মাঠে দৌড়াদৌড়ি না করে হেঁটে বেড়াচ্ছেন মেসি—আর্জেন্টিনা বা বার্সেলোনার জার্সিতে এটা নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগের এল ক্ল্যাসিকোতে ভিন্ন এক মেসির দেখা মিলেছিল। রিয়াল মাদ্রিদের বাঁ প্রান্ত ধরে একটি আক্রমণের সময় বল নিয়ে ছুটছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই ব্রাজিলিয়ানের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সাধারণত কঠিন হয়ে ওঠে ডিফেন্ডারদের জন্য। কিন্তু ম্যাচের সে মুহূর্তে বার্সেলোনার রাইটব্যাক সের্হিনিও দেস্তকে কোনো কষ্ট করতে হয়নি। নিজেদের ডি বক্স পর্যন্ত নেমে আসা মেসি বল কেড়ে নিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুসের কাছ থেকে। মেসির এভাবে রক্ষণে সাহায্য করতে নেমে যাওয়ায় মনে হয়েছিল, কোমানের অধীনে বোধ হয় বদলাতে শুরু করেছেন তিনি। কিন্তু গতকালের ম্যাচ উল্টোটাই জানাল।

বিজ্ঞাপন
default-image

মেসির সেই ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, বার্সেলোনার উচিত জানুয়ারিতেই মেসিকে চলে যেতে দেওয়া। ওই আক্রমণ থেকে গোল হয়ে গেলে, ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো বার্সেলোনাকে। অনেকেই তাই ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে অধিনায়কের এমন আচরণে অসন্তুষ্ট। আরেক ভক্তের দাবি, খেলা বা ক্লাবের প্রতি আবেগ হারিয়ে ফেললে এমনই হয়। সম্ভবত ক্লাবের প্রতিই। তবে এক চেলসিভক্ত মেসির ওই মুহূর্তকে সবচেয়ে ভালো বর্ণনা করেছেন। মেসির এ কাণ্ড দেখে তাঁর মনে হয়েছে, মনে হচ্ছে কোনো বৃদ্ধা তাঁর সামনে দিয়ে বাস চলে যেতে দেখছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0