গোলের পর সতীর্থদের দিয়ে দিওগো জোতার উল্লাস।
গোলের পর সতীর্থদের দিয়ে দিওগো জোতার উল্লাস। ছবি : রয়টার্স

কত উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে কাটল এই এক মাস, লিভারপুলের জন্য।

গত মৌসুমের ধার এই মৌসুমে যে অতটা নেই, শুরু থেকেই তা বোঝা যাচ্ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও একের পর এক ম্যাচ জিতে যাচ্ছিলেন সালাহ-মানেরা। উড়তে থাকা চ্যাম্পিয়নদের এক ধাক্কায় মাটিতে নামিয়ে আনে অ্যাস্টন ভিলা। লিভারপুলকে শুধু হারিয়েছে বললে ভুল হবে, নাকানি-চুবানি খাইয়েছে সাত গোলের মালা পরিয়ে। গত সপ্তাহেও নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী এভারটনের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া হয়নি। ড্র হওয়া সেই ম্যাচে লিভারপুলের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে দলের মূল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের চোট। এত কিছুর মধ্যে লিভারপুলকে স্বস্তি দিতে পারত লিগে শুধু একটি জয়। সেই জয়টি এসেছে গত রাতে। শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। কিন্তু লিভারপুলের জয়ের আনন্দে একটু হলেও ছেদ পড়েছে প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিংয়ে। আর তাতেই বিরক্ত হয়েছেন ক্লপ।

ফন ডাইক নেই, তাঁর জায়গায় রক্ষণভাগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাবিনিও। ম্যাচের শুরুতে একদম স্রোতের বিপরীতে গোল খেয়ে বসে লিভারপুল। ডি-বক্সের একদম প্রান্তে ফাবিনিওর কড়া এক ট্যাকলে পড়ে যান স্কটিশ স্ট্রাইকার অলিভার ম্যাকবার্নি। প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় রেফারি মাইক ডিন শেফিল্ডকে পেনাল্টি নিতে বলেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নরওয়ের মিডফিল্ডার স্যান্ডার বার্গা। আর এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে শুরু হয় আলোচনা। ম্যাকবার্নিকে ফাবিনিও যেভাবে ট্যাকল করেছিলেন, সেটা কী আদৌ ফাউল ছিল কি না, ফাউল হলেও সেটা কি ডি-বক্সের মধ্যে হয়েছে কি না— আলোচনায় দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যান নেটিজেনরা।

default-image
বিজ্ঞাপন

ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ নিজেও রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, সিদ্ধান্তটা মোটেও ভালো লাগেনি তাঁর, ‘যে ফাউলে এই পেনাল্টিটা দেওয়া হলো, সেটা কোনো ফাউলই ছিল না। একটা মৌসুমে অনেক সময় পার করতে হয়, অনেক পর্যায় পার করতে হয়। এই মৌসুমে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে আর এটা মেনে নিয়েই আবারও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যে কারণে পেনাল্টিটা দেওয়া হয়েছে, সেটা বল জেতার জন্য পরিষ্কার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আরেকটা ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছি আমরা, কিন্তু সৌভাগ্যবশত ম্যাচ শেষে সেই সিদ্ধান্ত আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এর চেয়ে বেশি কথা বলা উচিত নয় হয়তো।’

তবে শেফিল্ডকে প্রাপ্য কৃতিত্ব দিয়েছেন ক্লপ। জানিয়েছেন, ক্রিস ওয়াইল্ডারের দলের বিপক্ষে খেলা ছেলের হাতে মোয়া নয়, ‘এসব ম্যাচগুলো আমি ভালোবাসি। আমি একদমই চমকাইনি শেফিল্ডের খেলা দেখে। শেফিল্ডের সঙ্গে জিততে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর খাটতে হবে। তাঁরা কখনো হারের আগে হারে না। আর আমি এই গুণটাকে শ্রদ্ধা করি। ক্রিস দুর্দান্ত কাজ করছে ওর ছেলেদের নিয়ে।’

পরে রবার্তো ফিরমিনো আর দিওগো জোতার গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।

মন্তব্য পড়ুন 0