বিজ্ঞাপন

এই তথ্যটাই সাহস জোগাতে পারে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবগুলোকে। জানা গেছে, কেইনকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে এর মধ্যেই তাঁর মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলা শুরু করে দিয়েছে এই তিন ক্লাব। বহু বছর ধরেই কেইনকে দলে আনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে ম্যানচেস্টারের দুই ক্লাব।

সের্হিও আগুয়েরো কিছুদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, সিটি ছাড়ছেন, তাঁর বিকল্প হিসেবে এবার একজন স্ট্রাইকার কিনবেন পেপ গার্দিওলা—এটা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। এত দিন আর্লিং হরলান্ড, লাওতারো মার্তিনেজ কিংবা রোমেলু লুকাকুকে নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও, হ্যারি কেইনের ক্লাব ছাড়ার খবর শুনলে গার্দিওলা এই স্ট্রাইকারকে আনার চেষ্টা করবেন না, এমনটা হতেই পারে না।

default-image

ওদিকে কিছুদিন আগেই এদিনসন কাভানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কারণ একটাই, আপাতত স্ট্রাইকারের পেছনে টাকা ঢালতে চায় না রেড ডেভিলরা। সেন্টারব্যাক কিংবা নতুন একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আনার ব্যাপারেই আগ্রহ তাঁদের।

কেইন নিজেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছিলেন, ইউরোপের বড় ট্রফিগুলো পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে চান, যা টটেনহামে থাকলে সম্ভব নয়। ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল, এবার লিগ কাপের ফাইনাল—দুটিতেই রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাঁকে।

মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে লিগ শিরোপার জন্য লড়াই করতে পারলেও পচেত্তিনো যাওয়ার পর সে শিরোপা পাওয়ার আশাও কমেছে। জোসে মরিনিওর মতো ম্যানেজার এসেও কেইনের ট্রফির আশা মেটাতে পারেননি। মরিনিও যাওয়ার পরও ক্লাবে কে আসবেন, নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেইন আছেন অনিশ্চয়তায়। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে অনিশ্চয়তা নিয়ে হয়তো থাকতে চাননি আর!

এর আগেও পচেত্তিনো যাওয়ার পর একবার ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন কেইন। তখন ক্লাবের কর্তাব্যক্তিরা মরিনিওর লোভ দেখিয়ে বুঝিয়ে দলে রেখে দিয়েছিলেন এই তারকা স্ট্রাইকারকে। মরিনিওর ব্যর্থতায় কেইন যেন আরও হতাশ হয়ে পড়েছেন। যদিও কেইনের সঙ্গে স্পার্সের চুক্তি ২০২৪ সাল পর্যন্ত, চাইলে দলের অধিনায়কের জন্য আকাশছোঁয়া দাম হাঁকাতে পারেন স্পার্স সভাপতি ড্যানিয়েল লেভি।

খেলোয়াড় বিক্রির ব্যাপারে এই লোক যে লড়তে জানেন, সেটা গ্যারেথ বেল, লুকা মদরিচ, মাইকেল ক্যারিক, দিমিতার বারবেতভের মতো খেলোয়াড়দের বিক্রি করার সময়েই বোঝা গেছে। এমনিতেই কম দামে খেলোয়াড় ছাড়তে রাজি হন না, আর এখন তো করোনার সময়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন একবার তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ক্যারিক আর বারবেতভকে কেনার সময়ে লেভির সঙ্গে আলোচনা করতে তাঁর যে পরিমাণ কষ্ট হয়েছিল, কোমরের অস্ত্রোপচারে তার থেকে কম কষ্ট হয়েছে!

default-image

টাকাপয়সার এই টানাটানিতে কেইনকে কম দামে বিক্রি করবেন লেভি, এ আশা করা বোকামি। আর এই করোনাকালে কেইনের জন্য আদৌ কোনো বড় ক্লাব আকাশছোঁয়া টাকা দিতে রাজি হবে কি না, সেটাও একটা কথা। শুধু তা-ই নয়, কেইনকে বেতন বাবদ প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই লাখ পাউন্ড করে গুনতে হবে আগ্রহী যেকোনো ক্লাবকে, বর্তমানে এই বেতন পান ইংলিশ অধিনায়ক।

default-image

স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের বিকল্প এর মধ্যেই খোঁজা শুরু করে দিয়েছে টটেনহাম। যদিও এখনো এই ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি নয় ক্লাবের কেউই। স্কাই স্পোর্টসকে স্পার্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমাদের মৌসুম এখনো শেষ হয়নি, শেষ করতে হবে। যত ভালোভাবে সম্ভব আমরা মৌসুম শেষ করতে চাই। এটাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন