তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে এখন মেসুত ওজিল।
তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচে এখন মেসুত ওজিল।ছবি: রয়টার্স

খবরটা শুনে আর্সেনালের রাগ হতেই পারে!

ক্লাবের সবচেয়ে বেশি বেতনভোগী হয়েও মাঠে নামছিলেন না মেসুত ওজিল। না খেলেই সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ ইউরো কামিয়ে নিচ্ছিলেন। কোনো প্রতিযোগিতার স্কোয়াডে না থাকা এক ফুটবলারকে তাই যেকোনোভাবেই হোক ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টায় ছিল আর্সেনাল। ২০২১-এর জুন পর্যন্ত চুক্তি ছিল ওজিলের। কিন্তু ছয় মাস আগেই তাঁকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে আর্সেনাল।

এ দলবদলে কোনো অর্থ পায়নি আর্সেনাল। অন্তত এটা ভেবেই তারা খুশি যে বাকি ছয় মাসের বেতন দিতে হবে না ওজিলকে। কিন্তু আর্সেনাল ছেড়ে ফেনেরবাচে যাওয়া ওজিলের বর্তমান বেতন শুনলে রাগ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ, সেখানে বছরে মাত্র ৩০ লাখ ইউরোতেই রাজি হয়ে গেছেন ওজিল। আর্সেনালে এর পাঁচগুণের বেশি বেতন নিতেন জার্মান প্লেমেকার।

গত মার্চের পর থেকেই আর্সেনালের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি ওজিলের। এর পেছনে ফুটবলীয় কারণ কতটা, আর কতটা ফুটবলের বাইরে রাজনৈতিক কারণ, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চীনের উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে মন্তব্য করে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের বিরাগভাজন হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ওদিকে মাঠেও গত দুই বছরে পুরোনো ওজিলের দেখা খুব একটা মেলেনি। তাই ওজিল প্রসঙ্গে আর্সেনাল সমর্থকেরা দুই ভাগ হয়ে যেতেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

এক ভাগ ক্লাবের ইতিহাসের সেরা প্লেমেকারকে কেন খেলানো হচ্ছে না, এ নিয়ে হা-হুতাশ করতেন। অন্য দল ওজিলের বিপক্ষেই মত দিতেন। কেন সবচেয়ে বেতনভোগী খেলোয়াড় হয়েও বসে থাকছেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতো। ওজিলও বিতর্কে ইন্ধন দিয়েছেন। করোনাকালে ফুটবলের সব পরাশক্তিই খেলোয়াড়দের বেতন কমাতে বাধ্য হয়েছে। আর্সেনাল তো শুরুর দিকেই বেতন কমিয়েছে। কিন্তু সে অবস্থাতেও বার্ষিক ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর বেতন এক পয়সা কমাতে রাজি হননি ওজিল।

যেই ওজিল আর্সেনালের বিপদের সময়েও ৩০ ভাগ বেতন কমাতে রাজি হননি, সেই ওজিলই তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচে যাওয়ার জন্য ৮০ ভাগের বেশি বেতন কমিয়েছেন। অবশ্য বেতন কমাতে বাধ্যও হয়েছেন এই জার্মান। আর্সেনালে যে বেতন পাচ্ছিলেন, সেটা ইউরোপে অন্য কোনো ক্লাব তাঁকে দিতে রাজি নয়। আবার প্রায় এক বছর মাঠে না নামা ওজিলও খেলার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। পূর্বপুরুষের দেশের ফেনেরবাচই শুধু তাঁকে নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু সেটাও মাত্র ৩০ লাখ ইউরো বেতনে।

আর্সেনাল থেকে বিদায় বেলায় অবশ্য ক্লাবের প্রতি আরও একবার ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন ওজিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সে বার্তায় লিখেছেন, ‘উত্তর লন্ডনেই আমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছি। একে আমি সব সময় ঘর হিসেবেই জানব। এ ক্লাব আর ভক্তদের জন্য যে ভালোবাসা, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একটা চিঠিতে এত বছরের কৃতজ্ঞতা আমি কীভাবে প্রকাশ করি? যদিও এই ক্লাবের হয়ে আর খেলব না, প্রতিটি খেলায় তাদের সমর্থন দিয়ে যাব। আমি সারা জীবন গানার থাকব—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’

default-image

আর্সেনালের প্রতি ভালোবাসা নিয়েই তুরস্কে গেছেন ওজিল। আর তুরস্কের ক্লাবের প্রতি ভালোবাসাটা টের পাইয়েছেন বেতনের অঙ্কটা ৮০ ভাগেরও বেশি কমিয়ে। বেতনের এ অঙ্কটা ফেনেরবাচই প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে ফেনেরবাচ জানিয়েছে, আর্সেনালে যে বেতন পেতেন ওজিল, তুর্কিতে খেলতে এসে তার চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরো কম নেবেন। এ চুক্তি থেকে আর্সেনালের অবশ্য লাভের সম্ভাবনা এখনো আছে। খেলছেন না এমন এক খেলোয়াড়ের বেতন দিতে হচ্ছে না, সে সঙ্গে কিছু শর্ত পূরণ করলে ওজিলের কারণে আর্সেনালকে ২০ লাখ ইউরো দেবে ফেনেরবাচ।

আবারও মাঠে নামার আশাতেই এই বিসর্জন ওজিলের। তবে ৩০ তারিখের আগে তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা কম। প্রায় এক বছর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকার ধকল কি এত সহজে কাটে? তাই কোচ এরুল বোলুত ধীরে ধীরে ওজিলকে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পক্ষে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন