জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন দশরথ স্টেডিয়ামে স্মৃতিকাতর।
জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন দশরথ স্টেডিয়ামে স্মৃতিকাতর।ছবি: প্রথম আলো

কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ঢুকলেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন ইকবাল হোসেন। ১৯৯৯ সালের ৪ অক্টোবর এই স্টেডিয়ামেই সাফ গেমস ফুটবলের সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৫—টানা ৭টি সাফ গেমসে চারবার ফাইনালে উঠে ফুটবলের সোনা হারানো বাংলাদেশের কাছে সেই সোনা ছিল পরম আরাধ্য। ২১ বছর আগে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের সেই বিকেলটি তাই হয়ে আছে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা ও এখন জাতীয় দলের ম্যানেজার ইকবালের জন্য অনন্য এক স্মৃতি।

১৯৯৯ সাফে ইরাকি কোচ সামির শাকিরের সেই বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন মধ্যমাঠের ইকবাল। দশরথ স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকের গোলপোস্টটি দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘ওই পোস্টেই আলফাজ গোল করেছিল। এরপর যতবার কাঠমান্ডু এসে দশরথে ঢুকেছি, ওই দিকে একবার তাকিয়েছি। জটলার মধ্য থেকে কীভাবে যেন গোলটা করেছিল আলফাজ।’

সেবার সাফের শুরুটা বাংলাদেশের ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচেই মালদ্বীপের কাছে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে কোনোমতে সেমিতে ওঠে জুয়েল রানার বাংলাদেশ। সেমিতে শাহাজউদ্দিন টিপুর দূরপাল্লার এক অবিস্মরণীয় গোলে ভারতকে হারিয়ে নিশ্চিত হয় ফাইনাল। ফাইনালটি তো হয়ে আছে দেশের ফুটবলেরই দারুণ এক ইতিহাস।

‘ওই পোস্টেই আলফাজ গোল করেছিল। এরপর যতবার কাঠমান্ডু এসে দশরথে ঢুকেছি, ওই দিকে একবার তাকিয়েছি। জটলার মধ্য থেকে কীভাবে যেন গোলটা করেছিল আলফাজ।’
ইকবাল হোসেন, ১৯৯৯ সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের অন্যতম খেলোয়াড়, জাতীয় দলের ম্যানেজার
বিজ্ঞাপন

২১ বছর পর ইকবালের সামনে কাঠমান্ডুতে আরও একটি ফাইনাল। সেদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন খেলোয়াড় হিসেবে আর আজ থাকবেন ম্যানেজার হয়ে। সে ফাইনাল জয়ের গল্প শুনিয়ে জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানাদের অনুপ্রাণিত করছেন তিনি, ‘এই মাঠে যেহেতু আমাদের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে, সে ম্যাচের গল্প বর্তমান খেলোয়াড়দের শুনিয়েছি। অনেক সময় অতীতের সাফল্যের গল্প খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে।’

খেলোয়াড়ি জীবনে খুবই কুশলী আর পরিশ্রমী ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি ছিল ইকবালের। সেবার সাফেও খেলেছিলেন দুর্দান্ত। সোনাজয়ী সেই সাফে তাঁকে তিনবার ডোপ টেস্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই স্মৃতিটা অবশ্য তাঁর কাছে অস্বস্তিরই, ‘আমার কপালটাই খারাপ ছিল। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাধারণত লটারি করে ডোপ টেস্টের জন্য একজন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া হয়। আমার এমনই দুর্ভাগ্য যে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ আর সেমিফাইনাল আর ফাইনালের আগে—মোট তিনবার লটারিতে আমার নামই উঠেছিল। এমনকি ফাইনালে জেতার পর সবাই যখন আনন্দ করছে, হোটেল হইচই করে মজা করছে, আমি তখন পরিশ্রান্ত শরীরে ডোপ টেস্ট দেওয়ার জন্য বসে আছি।’

default-image

সে ম্যাচে খেলা আরেকজন আজকের ম্যাচে থাকবেন। তিনি অবশ্য থাকবেন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে। তিনি নেপালের কোচ বালগোপাল মহারজন। কাল ফাইনালের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আগে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই ৯৯–এর ফাইনালের স্মৃতি রোমন্থন করলেন বালগোপাল, ‘পুরো ম্যাচটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক বিপ্লব সে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিল। অবিশ্বাস্য কিছু সেভ করেছিল। আমরা বাজে একটি গোল হজম করে বসি। খুব ভালো খেলে সে ম্যাচের হার মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। সেদিন মাঠে আসা প্রচুর সমর্থক মন খারাপ করে স্টেডিয়াম ছাড়ে।’

নেপালে জাতীয় দলের ম্যাচ মানেই স্টেডিয়ামে উপচে পড়া দর্শক। ১৯৯৯ সালের সাফ ফাইনালে ২০ হাজারের বেশি দর্শক ছিল। এখন দশরথ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ১৫ হাজার। আজ তিন জাতি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও প্রচুর দর্শক থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার। সে দর্শকদের ৯৯ শতাংশই যে নেপালকে মনপ্রাণ উজাড় করে সমর্থন দেবেন, এটা না বললেও চলছে। ২১ বছর আগে বিরুদ্ধ স্রোতের বিপক্ষে লড়াই করে শিরোপা ঘরে তুলেছিলেন ইকবাল হোসেন-আলফাজ আহমেদ-জুয়েল রানা-হাসান আল মামুনরা। আজ জামাল ভূঁইয়ারা সেটি করতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন