বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার মাহিন্দা রাজাপক্ষে টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের ড্র হলেই হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কার মতো তুলনামূলক দুর্বল দল ৩২ মিনিটে ১০ জনের হয়ে পড়লেও তাদের বিপক্ষে ড্র-ও করতে পারেনি বাংলাদেশ, হেরেছে ২-১ গোলে।

চার জাতি টুর্নামেন্টটি দেখিয়ে দিল বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের নিচে এখন আর দল নেই! ২০৪ র‍্যাঙ্কিংয়ের শ্রীলঙ্কার কাছে হারের আগে ১৯৯-এ থাকা সেশেলসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারে এমনই অবস্থা যে মাঝে মালদ্বীপের বিপক্ষে যে জিতেছে বাংলাদেশ, সেটিকেই অনেকে বলছেন অঘটন।

default-image

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারা ম্যাচের বড় আফসোসটা পেনাল্টি মিস। স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। পরে জুয়েল রানার গোলে সমতায় ফিরলেও বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল খেয়ে হারে ২-১ ব্যবধানে, বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে।

সাধারণত স্পট কিক থেকে গোল করতে জুড়ি নেই দলের সহ-অধিনায়ক তপুর। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ৬ গোলের তিনটিই পেনাল্টি থেকে। গত মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসটা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাঁকে। অবস্থাটা এমনই যে পেনাল্টি মিসটা তাঁকে ঘুমাতে দিচ্ছে না। আজ দেশে ফিরে প্রথম আলোকে তপু বলেন, ‘আমি দুদিন ঘুমাতে পারিনি। কষ্ট নিয়েই বাসায় এসেছি। এটা আমার জন্য খুবই হতাশার। বাংলাদেশের জন্য হতাশার। এই দুঃখ ভোলা কঠিন।’

যদিও পেনাল্টি মিসের পরেও ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তপু, ‘আমার মিসের পরেও বিশ্বাস ছিল আমরা গোল করব। গোল পেয়েছিলামও। কিন্তু আবার শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে যাই। এমন সময়ে গোলটি খেয়েছি যে আর শোধ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।’

default-image

শ্রীলঙ্কার চার জাতি এই টুর্নামেন্টে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করেন পর্তুগিজ মারিও লেমোস। আবার আবাহনী ক্লাবের দায়িত্বে ফিরে যাবেন তিনি। দেশে ফিরে বাফুফের পাঠানো ভিডিও বার্তায় লেমোস আক্ষেপ জানিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা হতাশার। আমরা ফাইনাল খেলার খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমাদের মূল লক্ষ্যও ছিল ফাইনালে খেলা। আমরা যেভাবে হেরেছি, সেটা ভীষণ হতাশার। আমি মনে করি, আমরা আরেকটু ভালো করতে পারতাম।’

এর আগে ম্যাচ হারের পেছনে মনোযোগের অভাবকে দায়ী করেছিলেন লেমোস। কিন্তু বারবার মনোযোগের ঘাটতি কেন? ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নিবেদনের ঘাটতি ও সামর্থ্যের অভাব থেকে মাঠে খেলোয়াড়েরা অমনোযোগী হয়ে থাকেন। অল্প বয়সে এ বিষয়গুলো শিখে না এলে জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের এসব শেখানো যায় না।

খেলোয়াড় তৈরিতে ক্লাব ও বাফুফের অনীহা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে জাতীয় দলকে। নিচের দিকের লিগগুলোর দিকে নজর না দিয়ে বাফুফে পড়ে আছে সবেধন নীলমণি এক প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে।

সাময়িক একটা সমাধান হতে পারত ভালো মানের প্রবাসী খেলোয়াড় সংগ্রহ করা। অনেক দেশের মতো এ অঞ্চলের শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানও সে পথে হেঁটেছে। কিন্তু মানসম্মত প্রবাসী খেলোয়াড় খুঁজে আনতে বাফুফের সামর্থ্য নিয়েও আছে প্রশ্ন।

বাফুফের নিজেদের তো উদ্যোগ নেই-ই, অনেকে নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও বাফুফের সাড়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ আছে। গত মার্চে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া নাইজেরিয়ার ফুটবলার এলিটা কিংসলির আন্তর্জাতিক ছাড়পত্র এখনো আদায় করতে পারেনি বাফুফে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন