default-image

বার্সেলোনার দেনার বর্তমান অবস্থা

বার্সেলোনার বর্তমান দেনার পরিমাণ ১৩৫ কোটি ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ৬৭ কোটি ৩০ লাখ ইউরোই ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া। গত আগস্টে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্সেলোনার জন্য মূল দুশ্চিন্তা দেনার ধরন। টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বার্সেলোনার দেনার ৬০ শতাংশের বেশিই হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি। অর্থাৎ দ্রুততম সময়ে এই দেনা শোধ করতে হবে। বার্সেলোনার যে আর্থিক অবস্থা এবং করোনা যেভাবে এখনো দাপট দেখাচ্ছে, বার্সেলোনার পক্ষে আয় বাড়িয়ে সে দেনা শোধ করা কঠিন।

এর মধ্যেই বার্সেলোনা নিজেদের দায় আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। নিজেদের স্টেডিয়ামকে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করে ভবিষ্যৎ আয় নিশ্চিত করার পথে হাঁটছে বার্সা। আর সে জন্য ১৫০ কোটি ইউরো ধার নিচ্ছে তারা। তবে এতে বার্সেলোনার বিপদ বাড়ছে না। কারণ, তারা ঋণ নিয়েছে গোল্ডম্যান সাচের কাছ থেকে। ৩৫ বছরের জন্য এ লোন দিচ্ছে তারা। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে যা হয়, প্রথম পাঁচ বছরে কোনো অর্থ শোধ করতে হবে না বার্সেলোনাকে।

এ প্রতিষ্ঠানই বার্সেলোনাকে দেনার দায় থেকে বাঁচানোর পথ করে দিয়েছে এর আগে। বার্সেলোনার স্বল্পমেয়াদি ধার শোধ করে দেওয়ার জন্য কয়েক মাস আগে ৫৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিয়েছে তারা। ফলে কাগজে–কলমে বার্সেলোনার দেনার পরিমাণ এখনো অনেক বেশি হলেও অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বলে সেটা পরিশোধ করার সময় পাচ্ছে বার্সেলোনা।

default-image

ফেরান তোরেসের দলবদলের কারণ কী

এই দলবদলে সবার স্বার্থই দেখা হচ্ছে। মূলত উইঙ্গার হলেও সিটিতে গোল করাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন তোরেস। বার্সেলোনাতে এসেই জাভি এমন উইঙ্গার খুঁজছেন, যিনি গোল করতে পারেন। অস্ট্রিয়ার ক্লাব সালজবুর্গের ১৯ বছর বয়সী জার্মান উইঙ্গার করিম আদেয়েমির নাম শোনা গেলেও জাভির পছন্দ ছিল তোরেসকেই। ওদিকে ম্যানচেস্টার সিটি গত বছর তোরেসকে ভ্যালেন্সিয়া থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ ইউরোতে কিনেছে। দলের মূল একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না, এমন এক খেলোয়াড়কেই শর্ত সাপেক্ষে ৬ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে বিক্রি করে বেশ ভালোই লাভ করছে সিটি।

ওদিকে বিশ্বকাপের বছরে ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত খেলতে না পারা অনেক খেলোয়াড়কেই জাতীয় দল থেকে ছিটকে দেয়। ফেরান তোরেস বার্সেলোনায় গেলে নিয়মিত খেলতে পারবেন। কারণ, কোচ নিজেই পছন্দ করে তাঁকে নিচ্ছেন।

default-image

বার্সেলোনা তোরেসকে যেভাবে কিনছে

বার্সেলোনার আয় আচমকা বেড়ে যায়নি। বরং কদিন আগেই গোল্ডম্যান সাচের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থই এ ক্ষেত্রে কাজে লাগাবে বার্সেলোনা। অর্থাৎ বার্তোমেউর সময়ে চলা অভ্যাস অন্তত আরও কিছুদিন বজায় রাখছে বার্সেলোনা। দেনা বাড়িয়ে খেলোয়াড় কিনে নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে চাইছে বার্সেলোনার ‘থিঙ্কট্যাংক।’

তোরেসকে তাহলে জানুয়ারিতেই দেখা যাবে বার্সেলোনায়?

ব্যাপারটা এত সহজ নয়। বার্সেলোনা তোরেসকে সরাসরি কিনে নিতে পারে অথবা আধা মৌসুমের জন্য ধারে আনতেই পারে। কিন্তু তাঁকে খেলানোর ক্ষেত্রে অনেক নিয়মের বাধা আছে। মৌসুমের শুরুতে লা লিগার আর্থিক সংগতির নীতিই মেসির চুক্তি নবায়ন হতে দেয়নি। এখন নতুন করে কোনো খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করতে হলেও সেই নিয়ম মানতে হবে। বার্সেলোনার বেতনের বিল এখনো বিপৎসীমার ওপরে। এ অবস্থায় নতুন করে খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে হলে বার্সেলোনাকে বেশ কিছু ধাপ পার করতে হবে।

সের্হিও আগুয়েরো তো অবসর নিয়েছেন, তোরেসকে তো চুক্তিবদ্ধ করতেই পারে বার্সেলোনা?

এখানেও ব্যাপারটা সহজ নয়। আগুয়েরোর বেতন থেকে বেঁচে যাওয়া অংশের পুরোটা দিয়ে তোরেসের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। লা লিগার সীমার চেয়ে বেশি বেতন খরচ করায় বার্সেলোনা এখন যে অর্থই আয় করুক বা বাঁচাক না কেন, সে আয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশ দলবদলে বা খেলোয়াড়ের বেতনে খরচ করতে পারবে। অর্থাৎ বার্সেলোনা যদি ২০ কোটি ইউরো বাঁচায়, সে ক্ষেত্রে মাত্র ৫ কোটি ইউরো দলবদল বা খেলোয়াড়ের বেতনে ব্যয় করতে পারবে।

বার্সেলোনা এখন একটি পথেই এগোতে পারে। আর সেটা হলো, তোরেসের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তিতে প্রথম ছয় মাসের বেতন কম রাখা হবে। সেটা চুক্তির বাকি সময়ে তাঁকে পুষিয়ে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এই মৌসুমের সীমার মধ্যে থেকেই তোরেসকে নিবন্ধন করাতে পারবে বার্সেলোনা। এ ছাড়া সের্হি রবার্তোরও চুক্তি নবায়নের সময় হয়েছে। তাঁকেও আপাতত স্বল্প মেয়াদে কম বেতন নিয়ে পরে বেতন পুষিয়ে নেওয়ার কথা বলা হবে। ২০১৪–১৫ মৌসুমের দিকে মেসি যেমন প্রথম দুই মৌসুমে কম বেতন নিয়ে পরের দুই মৌসুমে বেশি বেতন পেয়েছিলেন।

বার্সেলোনার হাতে আরেকটি বিকল্প আছে। ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দিয়ে কিনে আনা উসমান দেম্বেলের চুক্তি এই মৌসুমেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাঁচ বছরের চুক্তিতে তাঁকে কেনা বার্সেলোনার এ বছর অবচয় খরচ হতো ২ কোটি ১০ লাখ ইউরো। তাঁকে নতুন করে চার বা পাঁচ বছরের চুক্তিতে রাখতে পারলে সে খরচ এক ধাক্কায় চার বা পাঁচ ভাগ কমে যাবে। তাঁকেও নতুন চুক্তিতে বর্তমানে বেতন কম নিয়ে পরে সেটা পুষিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা বার্সেলোনার।

শুধু এটুকুতেই কি হবে?

না, এখানে অনেক বেশি যদি-কিন্তু আছে। বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, ক্লাবের জন্য অগুরুত্বপূর্ণ ও বোঝা হয়ে ওঠা খেলোয়াড়দের বিদায়ের ব্যবস্থা করা। স্যামুয়েল উমতিতি ও ফিলিপে কুতিনিওর মতো খেলোয়াড়েরা বেতন হিসেবে বার্ষিক তিন কোটি ইউরোর বেশি পান। অথচ মূল একাদশ তো নয়ই, এমনকি বেঞ্চেও ইদানীং জায়গা হয় না তাঁদের। বিক্রি করা না গেলে এই খেলোয়াড়দের অন্তত ধারে পাঠানো গেলেও বেতনের ধাক্কা অনেক কমে যাবে বার্সার।

তবে অনেকেরই ধারণা, এত বেতন দিয়ে উমতিতি বা কুতিনিওকে কেনার মতো ক্লাব ইউরোপে নেই। সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনার মূল তারকাদের একজন, যেমন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং বা সের্হিনিও দেস্তের মতো লা মাসিয়ার বাইরের খেলোয়াড় বিক্রি করতে পারে বার্সেলোনা।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন