default-image

শাস্তির রায় চলে এসেছে বহু আগেই। আদালতের রায় অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে সাবেক ব্রাজিল তারকা ফুটবলার রবিনিও এখন একজন হীন, দুশ্চরিত্র ও ঘৃণ্য একজন মানবসন্তান ছাড়া আর কিছুই নন। সাত বছর আগে ইতালির এক নৈশক্লাবে আলবেনিয়ার এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছেন ব্রাজিল তারকা, এমন অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৭ সালে যে অপরাধের রায়ে ৯ বছর জেলের সাজা জোটে রবিনিওর ভাগ্যে। এরপর জেলে যাওয়ার ভয়ে ইতালি-মুখো হননি আর। কিন্তু এমন কুৎসিত কাজ করার পর জেলে না গেলেই কি শুধু সম্মান রক্ষা করা যায় নিজের? যায় না। রবিনিও-ও পারছেন না। এই পাপের শাস্তি হিসেবে যে কাজটা সবচেয়ে ভালো করতে পারেন, সে কাজটাই করতে পারছেন না - ফুটবল খেলা।

নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরেছিলেন কিছুদিন আগে। ঘরে ফিরে আবেগের বশে রবিনিও-ও জানিয়েছিলেন, প্রিয় ক্লাবকে সাহায্য করাই তাঁর লক্ষ্য, যে কারণে একদম সর্বনিম্ন বেতনের চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে রবিনিওর এই মধুর মিলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ব্রাজিল তারকার কালো অতীত। এর মধ্যেই ধর্ষণ কাণ্ডের জের ধরে রবিনিওর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে সান্তোস। সবকিছুর পর অবশেষে মুখ খুলেছেন রবিনিও। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানিয়েছেন, অমন ঘৃণ্য কাজ কস্মিনকালেও করেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিনিও জানিয়েছেন, ‘একটা মেয়ে আমার কাছে এল। ওর সম্মতি নিয়েই আমরা একে অন্যের সংস্পর্শে আসা শুরু করলাম, তারপর আমি বাসায় চলে গেলাম।’ রবিনিও দাবি করেছেন, সেই মেয়ে নেশাগ্রস্ত ছিল না, ফলে সে নিজ সম্মতিতেই করেছে যা করার, ‘যখন আমার কাছে এল, তখন ও নেশাগ্রস্ত ছিল না। কারণ আমার নাম ওর ঠিকই মনে আছে। ওর মনে আছে আমি কে। যে মদ খেয়ে নেশাগ্রস্ত থাকে তাঁর তো এত কিছু মনে থাকার কথা না। কিন্তু তার ঠিকই মনে আছে সব।’

জীবনের এই পর্যায়ে রবিনিওর মনে পড়ছে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করার কথা। তাঁর মতে, ওই একটা ‘পাপ’ই করেছিলেন তিনি। কাউকে ধর্ষণ করার মতো অপরাধ করেননি, ‘একটা জিনিস নিয়েই আমার আক্ষেপ আছে, আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমি প্রতারণা করেছিলাম। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। তখন পত্র-পত্রিকার বিক্রিবাট্টা বাড়ানোর জন্য অনেক উল্টোপাল্টা লেখা হয়েছিল। গত সাত বছরে আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই ঘটনাটা ২০১৩ সালে ঘটেছিল, আর এর পর আমার পরিবর্তন শুধু ভালোর দিকেই হয়েছে। প্রশ্ন হলো, আমি কোন ভুলটা করেছি? কোন অপরাধটা করেছি আমি? অপরাধটা ছিল, আমি আমার স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলাম না। তবে আমি কাউকে ধর্ষণ করার মতো অপরাধ করিনি। কোনো মেয়েকে নির্যাতন করার মতো ঘটনা ঘটাইনি। কোনো মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্মতির বাইরে কিছু করিনি।’

default-image

রবিনিওর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানিয়ে বিবৃতিতে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি লিখেছে, ‘সান্তোস ও রবিনিও জানাচ্ছে, পারস্পরিক সম্মতিতেই দুই পক্ষ গত ১০ অক্টোবর সই করা চুক্তি বাতিল করেছে, যাতে খেলোয়াড় (রবিনিও) ইতালিতে চলতে থাকা বিচার প্রক্রিয়ায় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারেন।’ রবিনিও নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে চুক্তি বাতিল হওয়ায় অনুতাপ করেছেন। সঙ্গে বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ‘সান্তোসকে সাহায্য করা।’
নিজের ঘৃণ্য অতীত রবিনিওকে সে সাহায্য করতে দিল না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0