গোল করে ছুটছেন নিক্সন গিয়াহামে।
গোল করে ছুটছেন নিক্সন গিয়াহামে।ছবি: প্রথম আলো

কাউসার আলীকে যখন বদলি হিসেবে নামাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক, কাঁধে হাত রেখে কিছু একটা বলছিলেন। কী দারুণভাবেই কোচের আস্থার প্রতিদান দিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর এই মিডফিল্ডার! কাউসার নামতেই বেড়েছে দলের আক্রমণের গতি। শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর নিক্সন গিয়াহামে যে গোল দিয়েছেন, এর জোগানদাতা তো ছিলেন কাউসারই।

আজই শেষ হলো চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্ব। জয় দিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করেছে চট্টগ্রামের দলটি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রকে হারিয়েছে ১-০ গোলের ব্যবধানে।

বিজ্ঞাপন
default-image

চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে শুরু থেকেই অতিরক্ষণাত্মক খেলেছে মুক্তিযোদ্ধা। রক্ষণ সামলে মাঝেমধ্যে দুই-একবার আক্রমণে উঠেছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার অধিনায়ক ইউসুকে কাতো ছাড়া কেউই পোস্টে সেভাবে শট নিতে পারেননি।

চোটের কারণে চট্টগ্রাম আবাহনীর বড় ভরসা চার্লস দিদিয়ের আজ মাঠেই নামেননি। সেই অভাব ভালোমতোই টের পেয়েছে দলটি। অবশ্য নিক্সন, চিনেদু ম্যাথু, সাখাওয়াত রনিরা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সুযোগগুলো নষ্ট হয়েছে। করোনা থেকে সেরে ওঠার পর ম্যাথুকে সেভাবে মাঠে জ্বলে উঠতে দেখা যাচ্ছে না।

ম্যাচের ৪০ মিনিটে একটা ভালো সুযোগ পেয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা মান্নাফ রাব্বি একটা ক্রস ফেলেন বক্সে। কিন্তু নিক্সন বলটা রিসিভ করতে পারেননি। সামনে দাঁড়ানো চিনেদু ম্যাথু বলটা মারলেন বাইরে। প্রতি–আক্রমণ থেকে পরের মিনিটেই কাতো বল নিয়ে ঢোকেন চট্টগ্রাম আবাহনীর বক্সে। কিন্তু ফিনিশিং ছিল দুর্বল, বল মারলেন ডিফেন্ডারের গায়ে। সময় যত গড়িয়েছে, চাপ বেড়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীর।

default-image

দুর্ভাগ্য চট্টগ্রাম আবাহনীর, ৫৪ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত তারা। কিন্তু নিশ্চিত গোলটি গোললাইন সেভ করেন মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার সুজন মিয়া। ওই সময় জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক মাহফুজ হাসান। রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে মান্নাফের শটটি গোললাইন থেকে সেভ করেন সুজন।

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মান্নাফকে তুলে নিয়ে কোচ নামিয়েছেন কাউসার আলীকে। কোচের কৌশলে বেশ সফল হয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনী। কাউসার নামতেই বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে গতি বেড়েছে। অবশেষে ৭৭ মিনিটে গোল করেন নিক্সন। কাউসারের ক্রস থেকে রাকিবের হেড প্রথম দফায় সুজনের গায়ে লাগে। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত নিক্সন তখন প্লেসিংয়ে করেন জয় নিষ্পত্তিসূচক গোল। ম্যাচ শেষের মিনিট তিনেক আগে সাখাওয়াত রনির শট পোস্টে লেগে ফেরে। না হলে ব্যবধান বাড়তেই পারত চট্টগ্রাম আবাহনীর।

১২ মাচে ৫ জয়, ৪ ড্র ও ৩ হারে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাতেই রইল চট্টগ্রাম আবাহনী। সমান ম্যাচে ২ জয়, ৩ ড্র ও ৭ হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে মুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন