default-image

সথবি অবশ্য দালমার দাবি উড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের কথা, এটাই সেই জার্সি কি না, তা বিভিন্ন পদ্ধতিতে যাচাই করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ-ও বলেছে, বেঁচে থাকা অবস্থায় ম্যারাডোনাও বলে গেছেন যে তিনি ওই ম্যাচে হজের সঙ্গে জার্সি বদল করেছেন। দালমার দাবি, তাঁর বাবা দ্বিতীয়ার্ধে যে জার্সি পরে খেলেছেন, সেটি অন্য একজনের কাছে আছে। কিন্তু তিনি সেই মালিকের নাম প্রকাশ করেননি।

সাংবাদিকদের দালমা বলেছেন, ‘এটা সেই জার্সি নয়। আমি বলতে চাইছি না যে সেই জার্সি কার কাছে আছে। কারণ, বিষয়টা একটু পাগলাটে। তিনি (ম্যারাডোনা) এটা বলে গেছেন। তিনি বলেছেন, “আমি তাকে কীভাবে আমার জীবনের সেরা জার্সিটা দিতে পারি?” সাবেক ওই খেলোয়াড় (হজ) হয়তো ভাবছেন, তিনি আমার বাবার দ্বিতীয়ার্ধে পরা জার্সিটা পেয়েছেন। কিন্তু পুরো বিষয়টি গুলিয়ে গেছে। তিনি বাবার প্রথমার্ধে পরা জার্সিটা পেয়েছেন।’ দালমা এরপর চ্যানেল ১৩ টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছি। কারণ, যারা জার্সিটা কিনতে চায়, তাদের সত্যটা জানা থাকা উচিত।’

default-image

দালমার এমন দাবির প্রেক্ষাপটে সথবির এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘এটা ঠিক যে ম্যারাডোনা প্রথমার্ধে ভিন্ন আরেকটি জার্সি পরেছিল। কিন্তু তিনি গোলের সময় যে জার্সি পরেছিলেন, সেটির সঙ্গে প্রথমার্ধের জার্সির পরিষ্কার পার্থক্য আছে।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘জার্সিটি বিক্রির জন্য নিলামে তোলার আগে আমরা এটাই সেই জার্সি কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা করেছি।’ এ ছাড়া বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যে জার্সিটির ফটো ম্যাচিংও করানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সথবি।

সথবি কর্তৃপক্ষ সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘টাচড বাই গড’ বইয়ে ম্যারাডোনা তাঁর সেই জার্সি হজকে দিয়ে যাওয়া কথা বলেছেন। আর ২০১৬ সালে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিচারণায় ম্যারাডোনা লিখেছিলেন, ‘লকার রুমে যাওয়ার সময় ইংল্যান্ড দলের একজন আমার সঙ্গে জার্সি বদল করতে চেয়েছিল। সে কে, সেই সময় আমি নিশ্চিত হতে পারিনি। হয়তো হজই হবে। আমি তার সঙ্গে জার্সি বদল করতে রাজি হয়েছিলাম।’

২০১০ সালে হজ তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্য ম্যান উইথ ম্যারাডোনাস শার্ট’ বইয়েও একই কথা লিখেছেন, ‘ম্যারাডোনা তার দুজন সতীর্থের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল। আমি তার চোখে চোখ রাখি। আমার জার্সিটা খুলতে খুলতে বলেছিলাম, “বিনিময় করা যায়?” সে এগিয়ে এল, প্রার্থনার মতো কিছু একটা করল এবং জার্সিটা আমার সঙ্গে বিনিময় করল।’

এমন বিতর্ক ২০১৮ সালে একবার উঠেছিল জিনেদিন জিদানের জার্সি নিয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স দলের সদস্য জিদানের ফাইনালের জার্সিটি নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি সত্যিই সেই জার্সি কি না, এমন বিতর্ক ওঠার পর নিলাম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড জার্সি নিয়ে সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের ২০ তারিখে তোলা হবে নিলামে। ৪ মে পর্যন্ত চলবে সেই অনলাইন নিলাম।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন