default-image

গত কদিনেই যেন গুঞ্জনটা আরও বেশি জোর পেয়েছে। পিএসজির পক্ষ থেকে আজ একজন তো কাল অন্যজন জানিয়ে দিচ্ছেন, লিওনেল মেসিকে আগামী মৌসুমে বার্সেলোনা থেকে নেওয়ার চেষ্টা করবে ফ্রেঞ্চ ক্লাবটি।

সরাসরি না বললে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে মেসির বার্সেলোনায় চুক্তিও শেষ হয়ে এসেছে, তার ওপর একের পর এক বিতর্কেও না চাইতেই জড়িয়ে যাচ্ছে ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের নাম।

বার্সা ছেড়ে আগামী মৌসুমে তাই মেসির পিএসজি যাওয়ার গুঞ্জন বিশ্বাসযোগ্যতাও পাচ্ছে বেশি। কিন্তু স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্তের খবর দেখে মনে হয়, ব্যাপারটা এমন যে যাঁর বিয়ে তাঁর খোঁজ নেই, পাড়াপড়শির ঘুম নেই!

পিএসজির সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে এত এত গুঞ্জনে মেসি নিজেই বিরক্ত হয়ে উঠেছেন বলে জানাচ্ছে স্পোর্ত।

গত আগস্টে মেসি নিজে বার্সেলোনা ছাড়তে চাওয়ার পর প্রথমে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গেই তাঁকে জড়িয়ে গুঞ্জনটা শোনা গেছে বেশি।

বিজ্ঞাপন

ম্যান সিটিতে পেপ গার্দিওলা আছেন, বার্সেলোনায় তাঁর অধীনেই মেসি ‘অবিশ্বাস্য এক প্রতিভা’ থেকে ‘বিশ্বসেরাদের একজন’ হয়েছেন।

সে কারণে সিটিকে ঘিরে গুঞ্জন তখন বাজার পেয়েছিল বেশ। মেসিকে পাওয়ার দৌড়ে পিএসজিও তখন থেকেই ছিল। কিন্তু গত কদিনে গুঞ্জনটা বেশি শোনা যাচ্ছে।

নেইমার গত ডিসেম্বরে জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে মেসির সঙ্গে একই দলে আবার খেলতে চান। দেনার ভারে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা বার্সেলোনার নেইমারকে কেনার সামর্থ্য এখন আর নেই, তাই নেইমারের ইচ্ছার কথা শুনে সবাই ধরে নিয়েছেন, মেসিই পিএসজিতে যাচ্ছেন।

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পর মেসির সঙ্গে পিএসজিতে খেলতে চাওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির সতীর্থ আনহেল দি মারিয়া ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস।

খেলোয়াড়েরা এভাবে ইচ্ছা জানাতেই পারেন। কিন্তু পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দোও কদিন আগে মেসিকে নিয়ে গুঞ্জনের প্রশ্নে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন এই বলে যে ‘পিএসজি সব সময়ই সেরা খেলোয়াড়দের কিনতে চায়।’

পিএসজির চোখে মেসি সেরা খেলোয়াড়দের একজন না হলে সেটা ভিন্ন প্রশ্ন, তবে লিওনার্দোর কথায় মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইঙ্গিতই দেখছেন সবাই।

কদিন আগে পিএসজির ডাগআউটে আসা আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও এরপর আকারে-ইঙ্গিতে জানিয়ে দিলেন, মেসিকে কেনার সুযোগ থাকলে পিএসজি এগোবে।

বার্সেলোনায় মেসির চুক্তি আগামী জুনে শেষ। গত ১ জানুয়ারি থেকেই চাইলে মেসি যেকোনো ক্লাবের সঙ্গে আগামী মৌসুমে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে দলবদলের আলাপ করতে পারবেন, সে ক্ষেত্রে বার্সেলোনার কিছু বলারও থাকবে না।

কিন্তু মেসি কদিন আগেই স্প্যানিশ চ্যালেন লা সেক্সতার সাংবাদিক জর্দি ইভোলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনাকে নিশ্চিত করেছেন, জুনের আগে তিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গেই কথা বলবেন না।

এর মধ্যে মেসিকে ঘিরে পিএসজির দিক থেকে প্রকাশ্যে এসব কথায় বার্সেলোনা যারপরনাই বিরক্ত। বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোমান ও বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হোয়ান লাপোর্তা সরাসরিই বলে দিয়েছেন, মেসিকে নিয়ে পিএসজির এভাবে কথা বলা মানে বার্সাকে অপমান করা।

বিজ্ঞাপন

অনেকে আবার এখানে ভিন্ন কিছুর গন্ধও পাচ্ছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে এবার পিএসজির মুখোমুখিই হচ্ছে বার্সেলোনা, ক্যাম্প ন্যুতে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম লেগ। তার আগে মেসিকে ঘিরে এসব কথা বলে পিএসজি মেসির মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে চাইছে—এমনটাও ভাবছেন অনেকে।

কারণ যা-ই হোক, দলবদলের এত গুঞ্জনে মেসি নাকি বিরক্ত। বার্সেলোনাভিত্তিক ক্রীড়াদৈনিক স্পোর্ত তা-ই জানাচ্ছে।

মেসির ‘ঘনিষ্ঠ সূত্রের কাছ থেকে’ স্পোর্ত জানতে পেরেছে, পিএসজির সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে এসব গুঞ্জন শুনতে শুনতে মেসি ‘ক্লান্ত’। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড নাকি পরিষ্কার করে দিতে চেয়েছেন, এসব গুঞ্জনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

মেসির ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে জেনেছে দাবি করে স্পোর্ত আরও বলছে, মেসি ‘পিএসজির কারও সঙ্গে কোনো কথা বলেননি’। তাঁর পরিকল্পনা আছে আগের মতোই—৭ মার্চ বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করা।

নবনির্বাচিত সভাপতি বার্সেলোনাকে মাঠে আবারও সেরা দল বানাতে, চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতার মতো দল গড়তে, ক্লাবে একটা ‘স্পোর্টিং প্রজেক্ট’ গড়তে কী কী পরিকল্পনা নেন, সেসব শুনে পছন্দ হলে বার্সেলোনায়ই নতুন চুক্তি সই করবেন মেসি।

না করলে? ম্যানচেস্টার সিটি আর পিএসজির মেসিকে কিনতে চাওয়ার ইচ্ছা আসলে কতটুকু সত্যি, সেটা টের পাওয়া যাবে তখনই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন