বিশ্বকাপ শেষেই তো ব্রাজিলের কোচের পদ ছাড়বেন, সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কতটা কঠিন ছিল?

তিতে: এটা তো পুরোনো কথা। সবকিছুরই চক্র শেষ করার ব্যাপার আছে। আমি শেষ করব, আরেকজন আসবেন—এটাই জীবন।

কাতার বিশ্বকাপের পর কি বিশ্রাম নেবেন?

তিতে: খুব বেশি না। পরিবারকে একটু সময় দেব। চাকরিটা জাঁকজমকপূর্ণ হলেও সময়টাও তো কম লম্বা ছিল না।

এরপর কী করবেন?

তিতে: আমি এ নিয়ে ভাবছি না। এখন আমার সব চিন্তা জাতীয় দল নিয়ে। একজন পেশাদার হিসেবে চাই কাজটা ঠিকভাবে শেষ করতে। তাহলেই তো শান্তি।

ব্রাজিল দলে আপনার উত্তরসূরি হিসেবে নাকি পেপ গার্দিওলাকে ভাবা হচ্ছে?

তিতে: উফ। এখন অনেক সময় বাকি। ব্রাজিলে তো ভালো কোচের অভাব নেই। এ নিয়ে আমি ভাবছি না, আমার এখন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবার আছে।

আপনার কি ব্রাজিলিয়ান কোচ পছন্দ?

তিতে: যদিও এ নিয়ে বলার এখতিয়ার আমার নেই তবু বলছি, হ্যাঁ। যদিও সবার জন্যই আমার শ্রদ্ধা আছে।

এবার মাদ্রিদিস্তাদের নিয়ে কথা হোক। মার্সেলো কি এখনো আপনার পরিকল্পনায় আছে?

তিতে: সে প্রথম পছন্দের তালিকায় নেই। কারণ, সে তো (ক্লাবে) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার সুযোগই পায় না। তাকে দলে সুযোগ পেতে আর যাদের সঙ্গে লড়তে হবে, তাদের সম্ভাবনাই বেশি। তবে সে ব্রাজিলের জন্য যা করেছে সে কারণে ওকে নিয়ে আমি গর্বিত।

লোদি, তেলেস, আলেক্স সান্দ্রো, আরানা, কাইও হেনরিক ইউরোপে খেলা খেলোয়াড়ের তো অভাব নেই…

তিতে: ওদের সবার সম্ভাবনা আছে। ক্লাব ফুটবলে ওরা কেমন করে, সেটি দেখেই আমি সিদ্ধান্ত নেব।

সেন্টারব্যাক এদের মিলিতাওতো এই মৌসুমের আগে আগে মাদ্রিদে তেমন সুযোগ পায়নি। তাঁর ওপর কি আপনার আস্থা আছে?

তিতে: আমি খুব সহজেই হ্যাঁ বলতে পারছি (হেসে)। সে অনেক সম্ভাবনাময়। গতি, বল পুনর্দখলের ক্ষমতা, শারীরিক সক্ষমতা, বিচক্ষণতায় সে অনেক এগিয়ে গেছে। আর এটা তো স্বাভাবিকই যে সের্হিও রামোস ও ভারানে মতো খেলোয়াড় থাকলে দলে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে যখনই সুযোগ পেয়েছে সে নিজেকে চিনিয়েছে।

একই কথা তো ব্রাজিলের জন্যও প্রযোজ্য। থিয়াগো সিলভা ও মারকিনিওস আছেন।

তিতে: একটা গোপন কথা বলি। ২০১৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলি আমরা। আমি তিনজনকেই ডেকেছিলাম। মিলিতাওকে আমি বলেছিলাম, ‘তুমি দুটি ম্যাচই খেলবে কারণ আমার এমন একজন ফুটবলার দরকার যে কি না ওদের সঙ্গে একই মানের ফুটবল খেলতে পারবে। নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রমাণ করার এটাই সুযোগ।’

কাসেমিরো ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বাজে মৌসুম কাটাচ্ছেন।

তিতে: সবচেয়ে বাজে মৌসুম? আপনি যেভাবে মাদ্রিদকে অনুসরণ করেন, আমি তো সেভাবে করি না। তাই, আপনার মতামত মেনে নিতে হচ্ছে।

নেইমারের ওপর চাপ কমাতেই কি পর্যায়ক্রমিক অধিনায়কের পথে হাঁটছে ব্রাজিল?

তিতে: না, না। আলভেস-সিলভারা অনেক অভিজ্ঞ। মারকিনিওস ও কাসেমিরোদেরও নেতা হওয়ার গুণাবলি আছে। আমার এমন খেলোয়াড় আছে, যারা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সহজেই কথা বলতে পারে। কয়েকজন আবার একটু চাপা স্বভাবের। অনেকে আবার টেকনিক্যাল দিকগুলো ভালো বোঝে, অনেকেই দায়িত্ব নিতে পছন্দ করে।

নভেম্বরে ফিরমিনো চোটে পড়ায় ভিনিসিয়ুসকে ডেকেছিলেন। এত দেরি করলেন কেন?

তিতে: মাদ্রিদে গত দুই বছরে সে যত দ্রুত এগিয়েছে, জাতীয় দলে সেই গতিটা ছিল না। কোপা আমেরিকায়ও সে পাখা মেলতে পারেনি। এখন সে আরও পরিপক্ব হয়েছে। তার ওজন কমেছে। আমি আনচেলত্তির কাছে ভিনিসিয়ুসের জন্য পরামর্শ চেয়েছি। জানতে চেয়েছি কী করলে সে জাতীয় দলেও মাদ্রিদের মতো ভালো করবে। কী করলে তার সৃজনশীলতা বিকশিত হবে, সেটি নিয়ে কথা বলেছি। তার সেরাটা বের করে আনার জন্য দুই কোচের মধ্যে এর চেয়ে ভালো আর কী কথা হতে পারে।

আপনি কি মনে করেন ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের দলের নেতা হতে পারে?

তিতে: আলভেস ও থিয়াগো অধিনায়ক। তবে যে দুজন খেলোয়াড় আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে, তারা হলো নেইমার ও ভিনিসিয়ুস। ওদের নিয়ে বিশাল প্রত্যাশা।

আপনি কি নেইমারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর বিরুদ্ধে তো মদ খেয়ে পিএসজির অনুশীলনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে?

তিতে: নেইমারকে নিয়ে কে কী বলল, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি শুধু তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আমরা একসঙ্গে যেটুকু সময় কাটাই, অনুশীলন, তাঁর প্রতিভা এসবেই মূল্যে দিই। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি, আচরণগত কিছু নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সমস্যা নেই।

ভিনিসিয়ুস, নেইমার ও পাকেতাকে নিয়ে কীভাবে দল সাজাবেন?

তিতে: আমরা আক্রমণে থাকা অবস্থায় ২-৩-৫ অথবা ৩-২-৫ হয়ে যাই। আমি মিডফিল্ডের ডান পাশে পাকেতা বা কুতিনিওকে, আন্তোনিও বা রাফিনিয়ার মতো উইঙ্গারও খেলাতে পারি। বিকল্পের তো অভাব নেই।

রিয়াল মাদ্রিদের রদ্রিগো কি বিশ্বকাপে যেতে পারবে?

তিতে: আমি জানি না। তবে আমি জানি সে ব্রাজিল দলে লম্বা সময় খেলবে।

বিশ্বকাপে নিজেদের গ্রুপ নিয়ে কী ভাবছেন?

তিতে: আমাদের আরও বিশ্লেষণ করতে হবে। আমার সহকারী ক্লেবার কাজ শুরু করবে। আমি তো দৌড়াদৌড়ির ওপর আছি। বলিভিয়া থেকে দোহা গেলাম, সেখান থেকে ইংল্যান্ডে।