রাফিনহা ও থিয়াগো যখন দুজনই ছিলেন বার্সায়।
রাফিনহা ও থিয়াগো যখন দুজনই ছিলেন বার্সায়।ছবি: টুইটার

থিয়াগো আলকানতারা ও রাফিনহা আলকানতারা। ফুটবলপ্রেমী মাত্রই জানেন, এই দুই ভাই সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল তারকা মাজিনিওর সন্তান। দুই ভাই-ই এককালে খেলতেন বার্সেলোনায়। কালের বিবর্তনে দুই ভাইয়ের ফুটবলীয় ক্যারিয়ার চলে গেছে দুই দিকে। বড় ভাই থিয়াগো বার্সা ছেড়ে বায়ার্ন হয়ে এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন লিভারপুলে।

থিয়াগোকে যেখানে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার মানতে কারওর সমস্যা নেই, গোটা ক্যারিয়ারে বিভিন্ন চোটে চোটে বিপর্যস্ত রাফিনহার ক্ষেত্রে সেটা বলা যায় না অবশ্য। একের পর এক চোটে পড়ে বার্সায় জায়গা হারিয়েছিলেন আগেই, এবার পাকাপাকিভাবে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। তবে দুই ভাইয়ের বাবা মাজিনিওর কথা মানলে, রাফিনহা নয়, থিয়াগোকেই চেয়েছিল পিএসজি।

বিজ্ঞাপন
default-image

এবার দলবদলের শেষ দিনে অন্যতম বড় চমক ছিলেন রাফিনহা। না, এর আগে যে রাফিনহা বার্সা ছাড়েননি, তা নয়। ধারে সেল্টা ভিগো কিংবা ইন্টার মিলানের মতো ক্লাবে ধারে খেলেছেন। এবারও হয়তো ক্লাব ছাড়তেন, তবে পিএসজির মতো বড় ক্লাব তাঁর মতো চোট প্রবণ ফর্মহীন কোনো খেলোয়াড়কে আনবে, সেটা ভাবেননি অনেকেই। তাদের নজর ছিল থিয়াগোর দিকে।

মার্কো ভেরাত্তির মতো তারকা চোটে পড়ায় অনেক দিন ধরে যেহেতু তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তাই সমস্যা এড়াতে থিয়াগোকে নেওয়ার আগ্রহ ছিল পিএসজির। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার বায়ার্ন ছাড়বেন নিশ্চিত ছিল। ক্লাব তিনি ছেড়েছেন ঠিকই, তবে ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুলের জন্য। ওদিকে পিএসজি দলে নিয়েছে তাঁর দুই বছরের ছোট রাফিনহাকে।

তাঁদের বাবা মাজিনিও এত দিন পর জানালেন, আসলে থিয়াগোকেই দলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পিএসজির, ‘আমি পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দোর সঙ্গে কিছুদিন আগে কথা বলেছিলাম। সেটা রাফিনহার জন্য নয়, থিয়াগোর জন্য। লিওনার্দো থিয়াগোকে পিএসজিতে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু থিয়াগো তত দিনে লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে। আমরা রাফিনহাকে নিয়েও কথা বলেছিলাম, কিন্তু তখন লিওনার্দোর পরিকল্পনায় রাফিনহা ছিল বলে মনে হয় না।’

বিজ্ঞাপন
default-image

থিয়াগোকে লিভারপুলে যেতে দেখে পিএসজির নজর পড়ে রাফিনহার দিকে। যে দলবদল সম্পন্ন হতে হতে শেষ দিন পর্যন্ত লেগে গিয়েছিল, ‘এর পর আমরা যখন আবার কথা বলা শুরু করলাম, তত দিনে লিওনার্দোর মন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। দলবদল হতে হতে শেষ দিন চলে আসল। আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে শেষ দিনে, দুই ক্লাবকে রাজি করানোর জন্য। তবে লিওনার্দো থিয়াগোকেই চেয়েছিল, কিন্তু পেল রাফিনহাকে। আর রাফিনহার জন্য দলবদলটা ছিল স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার।’

পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর এখন অবশ্য রাফিনহাকে চোট সমস্যা ভোগাচ্ছে না। এর মধ্যে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে ব্রাজিল মিডফিল্ডারের।

মন্তব্য পড়ুন 0