ফাইনাল খেলছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, কিন্তু খেলার সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হবে তিন উরুগুইয়ানের হাতে। মূল রেফারি ওস্তোজিচ ও দুই লাইন্সম্যান কার্লোস বারেইরো ও মার্তিন সপ্পিরা লুইস সুয়ারেজের দেশের। তবে দুই লাইন্সম্যানকে নিয়ে নয়, মূল রেফারিকে নিয়েই দুশ্চিন্তা করছে আর্জেন্টিনা।

ওস্তোজিচের পরিচালনায় এর আগে একটি ম্যাচই খেলেছে আর্জেন্টিনা। ২০১৮ সালে কোচ স্কালোনির শুরুর দিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে এক ম্যাচে ছিলেন এই রেফারি। সে ম্যাচে ২-০ গোলেই জিতেছিল আর্জেন্টিনা এবং সে ম্যাচে কোনো বিতর্কও জন্ম দেয়নি।

কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে গত কোপা আমেরিকার ম্যাচটাই যত সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। সে ম্যাচে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের পক্ষে গিয়েছিল। ২-০ ব্যবধানে শেষ হওয়া সে ম্যাচে দুটি পেনাল্টির আবেদন পক্ষে পাননি মেসিরা। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মেসি। এসব ঘটনায় অবশ্য খুব বেশি হস্তক্ষেপ করার উপায় ছিল না ওস্তোজিচের। কারণ, সে ম্যাচে চতুর্থ রেফারি ছিলেন এই উরুগুইয়ান। কিন্তু চতুর্থ রেফারি হয়ে কেন এসব ঘটনায় মূল রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেননি, এ নিয়েই আপত্তি টিওয়াইসির।

এবারের টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন ওস্তোজিচ। এর মধ্যে ব্রাজিলের ম্যাচ ছিল একটি। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে সে ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ব্রাজিল। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ে ও পেরুর ম্যাচটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্যারাগুয়ের গুস্তাভো গোমেজকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। এই ডিফেন্ডার টানেলে গিয়ে ওস্তোজিচকে লড়ার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন, পুরুষ হলে এসো লড়ি। ম্যাচ হারার পর প্যারাগুয়ের বেশ কিছু খেলোয়াড় রেগেমেগে ওস্তোজিচের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন।
এর আগে ২০২০ সালে আরেকটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথে দায়িত্ব পেয়েছিলেন ওস্তোজিচ।

লিবার্তাদোরেসের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল পালমেইরাস ও রিভারপ্লেট। সে ম্যাচে রিভার প্লেট ২-০ গোলে জিতলেও আগের লেগের ৩-০ ব্যবধানের হারের বদলা নিতে পারেনি। সে ম্যাচে রিভার প্লেটের রবার্ত রোহাসকে লাল কার্ড না দেখালে আর্জেন্টাইন ক্লাবের ফাইনালে যাওয়ার আশা বেঁচে থাকত বলেই ধারণা। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে একটি পেনাল্টি পায়নি বলেও দাবি করেছিল রিভার প্লেট।