ফুটবলে বাংলাদেশের যত জরিমানা

>সাম্প্রতিককালে বেশ কয়েকবার জরিমানা গুনতে হয়েছে দেশের কয়েকটি ক্লাব ও ফুটবল ফেডারেশনকে।
দেশের ফুটবলে আইনকানুন আছে। তবে তা সব সময় না মানলেও চলে। আইন অমান্য করে শাস্তি পেয়েছে এমন উদাহরণ খুঁজে নিতে হয় কষ্ট করে। খোদ ফেডারেশন থেকে শুরু করে ক্লাবগুলোর আইন ভাঙার কীর্তি কম নয়। বাংলাদেশের ফুটবল এই রীতি ধরে রেখেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তবে সমস্যা হলো, সেখানে একটু রাস্তাচ্যুত হলেই নেমে আসে শাস্তির খড়্গ।
তিন বিদেশি ফুটবলারের আর্থিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ শাস্তি পেয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিকে নতুন করে দেশি–বিদেশি খেলোয়াড় কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। তিন বিদেশি খেলোয়াড়ের প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক নিষ্পত্তি হলেই মিলবে তাদের মুক্তি।
দেখে নেওয়া যাক সাম্প্রতিককালে ফিফা ও এএফসি কর্তৃক দেশের ফুটবলের পাওয়া আরও কয়েকটি শাস্তির উদাহরণ :
পর্যাপ্ত চিকিৎসা–সুবিধার অভাবে আবাহনীর শাস্তি
২০১৭ সালে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাব। এএফসির নিয়ম অনুযায়ী ড্রেসিংরুমে যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা–সুবিধা রাখা প্রয়োজন ছিল, স্বাগতিক হিসেবে তা রাখেনি আবাহনী। বিষয়টি ম্যাচ কমিশনারের নজরে আসে। পরিণতি, প্রায় ১৭ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয় আবাহনীকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আবাহনী টাকাটা পরিশোধ করে তিন কিস্তিতে।
এমেকার কাঠগড়ায় মোহামেডান
মোহামেডানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিদেশি খেলোয়াড় নাইজেরিয়ার এমেকা ইজিউগোকে। ২০১২ সালে তাঁকে কোচ হিসেবে ফিরিয়ে আনে মোহামেডান। কিন্তু দুই পক্ষের সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। বেতন আটকে যাওয়ায় মোহামেডানকে ফিফার কাঠগড়ায় তুলেছিলেন ১৯৯৪ সালের নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা এই স্ট্রাইকার। বকেয়া বেতন নিয়ে ক্লাব ও বাফুফের সঙ্গে চিঠি চালাচালি করেও কোনো সমাধান খুঁজে পাননি। অগত্যা ২০১৫ সালে ২০ হাজার ডলার পাওনা চেয়ে নালিশ করেন ফিফার কাছে। দুই বছর পর সেই ২০ হাজার ডলারের সঙ্গে আরও ৩ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা দিতে হয়েছিল মোহামেডানকে। টাকার অঙ্কে সেটি ছিল মোট ২০ লাখের মতো।
জরিমানার সঙ্গে যায় শেখ রাসেলের পয়েন্টও
২০১৫ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে খেলেছিলেন মিরোস্লাভ সাবানাভিচ। ক্লাব তাঁর ৪ হাজার ১২৬ ডলার পরিশোধ না করায় ফিফায় নালিশ জানান এই সার্বিয়ান ফুটবলার। শেখ রাসেলকে দ্রুত বেতন বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সময় বেঁধে দিয়েছিল ফিফা। সেটি না মানায় ২০১৭ সালে বেতনের সঙ্গে তিন হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা দিতে হয় রাসেলকে। শুধু তা–ই নয়, সেই মৌসুমে তাদের তিনটি পয়েন্টও কেটে নেওয়া হয়েছিল।
ওয়ার্কশপে না যাওয়ায় শেখ জামালের জরিমানা
এএফসি কাপ খেলা দলগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এএফসি। ওয়ার্কশপটি হয় মালয়েশিয়ায়। ২০১৫ সালের সভায় উপস্থিত না থাকায় ১০ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হয় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে।
জরিমানা দেয় বাফুফেও: শুধু এসব ক্লাবই নয়, বিভিন্ন সময় নিয়ম ভেঙে জরিমানার শাস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও। কখনো বিদেশি কোচের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, কখনো দর্শকদের কারণে হয়েছে এসব জরিমানা।
রেনে কোস্টারের ক্ষতিপূরণ
২০১৩ সালে সিলেট একাডেমির কোচ হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় নেদারল্যান্ডসের রেনে কোস্টারকে। পরে তাঁকে একাডেমির কোচ না করে জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক বছর অনিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা দেওয়ার পর করা হয় বরখাস্ত। পরে ৮০ হাজার ইউরো চেয়ে বাফুফের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন রেনে। ২০১৭ সালে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ৪১ হাজার ইউরো। বাকিটা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছে বাফুফে।
এএফসি সলিডারিটি কাপে অংশগ্রহণ না করার শাস্তি
২০১৯ সালের এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ে যাওয়া ছয়টি দেশ নিয়ে ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এএফসি সলিডারিটি কাপ। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের কথা বলেও শেষ পর্যন্ত না খেলায় বাফুফেকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা করেছিল এএফসি।
কারণ দর্শক
সর্বশেষ অক্টোবরে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইপর্বের কাতারের সঙ্গে ২–০ গোলে হারলেও জামাল ভূঁইয়াদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শকেরা। কিন্তু সে ম্যাচে বাংলাদেশি দর্শকদের অশোভন আচরণের জন্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে। ম্যাচ শেষে পশ্চিম গ্যালারি থেকে প্রাচীর টপকে কিছু দর্শক মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে ফিফাকে পাঠান ম্যাচ কমিশনার।