বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সায় কিংবদন্তি বনে যাওয়া স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দিয়েছেন বদলের ডাক। বদল বলতে, ক্লাবের ড্রেসিংরুমে নিয়মের প্রতিষ্ঠা! কঠোর পরিশ্রম, সবটুকু ঢেলে দেওয়া, বার্সাকে সেরাদের সারিতে নিয়ে যেতে সবটুকু দিয়ে দেওয়া...বার্সা কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিতি পাওয়ার দিনে জাভির কথায় বারবার এ শব্দগুলোই উঠে এসেছে!

‘বার্সায় আসা একটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। এই ক্লাবটা আমার ঘর। আমাদের আর্থিক সমস্যা চলছে, মাঠেও। তবে সে জন্যই তো আমি এসেছি এখানে’—বার্সায় কোচ হয়ে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাসটা গোপন রাখেননি ৪১ বছর বয়সী স্প্যানিশ। ক্লাবের সমর্থকদের উদ্দেশেও তাঁর অনুরোধ, ‘আপনাদের খুব দরকার আমাদের। এই কঠিন সময়ে আরও বেশি করে দরকার। সবাই নিজেদের অহম ভুলে গিয়ে বার্সার কথা ভেবে এগিয়ে আসুন।’

default-image

কিন্তু এসে কোন বার্সেলোনাকে দেখবেন সমর্থকেরা? সে নিয়ে মাঠে দাঁড়িয়েই এক দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাভি, ‘আমাদের ফুটবল পায়ে সময়টা উপভোগ করতে হবে। জিততেও হবে। আমাকে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ। সবাইকে কথা দিচ্ছি, সমর্থকদের খুশি রাখার জন্য সবাই কঠোর পরিশ্রম করবে।’ বার্সার বর্তমান দলকে নিয়ে উচ্ছ্বাসও ছিল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমাদের একটা ভালো দল আছে, এই দলে প্রতিভা আছে। আমি চেষ্টা করব আমার অভিজ্ঞতা এদের সবার মধ্যে ছড়িয়ে শিরোপা জেতানোর।’

বার্সার গত বছর পনেরো যে দারুণ সময়টা গেছে, সে সময়ের গোড়াপত্তন হয়েছিল জাভিদের হাত ধরেই। মেসি, ইনিয়েস্তাদের নিয়ে তৈরি বার্সার সোনালি প্রজন্মের মাঝমাঠে হৃৎস্পন্দন ছিলেন তিনি।

বলতে গেলে ২০১৫ সালে জাভি যাওয়ার পর থেকেই বার্সার দুর্দিনের শুরু। সে বছরই বার্সা লিগ চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সম্ভাব্য ছয় শিরোপার পাঁচটি জেতার ফল পড়ল বার্সার নির্বাচনে। জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর বোর্ড পুনর্নির্বাচিত হলেন। মাঠে, মাঠের বাইরে বার্সার দুর্দিনের শুরু সেখান থেকেই। জাভি মেনে নিচ্ছেন, ‘জানি ক্লাবের কঠিন একটা সময় চলছে। অন্তত আমাদের ক্লাবের ইতিহাসের সেরা সময় যে নয়, তা তো বলাই যায়।’

default-image

কিন্তু নিজে ফিরে ক্লাবের পুরোনো দিন ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন জাভি, ‘আমরাই বিশ্বের সেরা ক্লাব। আমরা ড্র বা হার কখনো মেনে নিতে পারি না। আমাদের জিততেই হবে। ড্র কিংবা হারের ক্ষেত্রে সেটার ধাক্কাও সইতে হবে। আমরা বার্সা। আমাদের সব প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সমানে সমানে লড়তে হবে। সবার সঙ্গে!’

নিজের চেতনাটা খেলোয়াড়দের মধ্যেও পৌঁছে দিতে চান জাভি, ‘বার্সাকে সব সময় সেরা হতে হবে, এই বার্তাটা সব খেলোয়াড়ের কানে পৌঁছাতে হবে। এই সংকট কাটাতে সবাইকে দ্বিগুণ চেষ্টা করতে হবে। এখানে সন্তুষ্টিজনক পারফরম্যান্স আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়, আমাদের অসাধারণ হতে হবে।’

মাঠে সে জন্য কী করতে হবে? জাভির বিশ্লেষণ, ‘আমাদের অনেক কিছুই ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সেটি কেড়ে নিতে সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়া। আমাদের অনুশীলন হবে সবটুকু নিংড়ে দেওয়া।’

তার জন্য আগে খেলোয়াড়দের নিজের দর্শনে তো একাত্ম করে নিতে হবে। জাভি তা জানেন। বার্সার তুলনায় তাঁর আগের ক্লাব কাতারের আল-সাদ হয়তো কিছুই নয়, কিন্তু জাভির কোচিং পদ্ধতি তো এক ছিল। বার্সার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার থেকে এখন বার্সার কোচ বনে যাওয়া স্প্যানিশের তাই দৃপ্ত উচ্চারণ, ‘আমার ধারণা পরিষ্কার। আল-সাদে সেই ধারণাকে আমরা মাঠে কাজে লাগিয়েছি, সাফল্যও এসেছে। যত বেশি সম্ভব অনুশীলন করতে হবে, সেটাকে উপভোগ করতে হবে। এভাবে খেলার ধারণাটা ক্লাবে অনেকে আগে থেকেই জানে।’

default-image

আগে থেকে জানেন যাঁরা, এই দলে বার্সার পুরোনো সোনালি দিনের স্মৃতি যাঁদের আছে, সেই জেরার্ড পিকে, সের্হিও বুসকেতস, জর্দি আলবা, সের্হি রবার্তোরা এখন ক্লাবের অধিনায়ক। মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনও জাভির শেষ দিকে বার্সা দলে ছিলেন।

পুরোনো বন্ধু-সতীর্থ থেকে এখন যাঁরা তাঁর অধীনে খেলবেন, তাঁদের কাছে আরও বেশিই নিবেদন চান জাভি, ‘খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অনেক বেশিই চাইব আমি, পাশাপাশি ওদের সাহায্যও করব। ক্লাবের চার অধিনায়ক বুসকেতস, পিকে, আলবা ও রবার্তো এবং টের স্টেগেনের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের আগে থেকে চেনা আমার জন্য সুবিধাই করে দেবে। পুরোনো এই খেলোয়াড়েরাও শূন্য থেকেই শুরু করবে। ওরা আমার বন্ধু, সে কারণেই ওদের কাছে আরও বেশি চাইব আমি। ওদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’

পুরো প্রক্রিয়াটা সফল হতে গেলে যে ব্যাপারটা প্রয়োজন হবে, সেই নিয়ম প্রতিষ্ঠা করার কথা বেশ কয়েকবারই জোর দিয়ে বলেছেন জাভি।

‘যেকোনো কোম্পানির মতো, যেকোনো দলেও নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। ড্রেসিংরুমে যখনই নিয়ম ঠিক থাকেনি, আমরা ভালো করতে পারিনি। চেষ্টা, আত্মত্যাগ, সঠিক মনোভাব—এই তিনটি দিক থাকতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে, উদ্যম থাকতে হবে। আমরা বার্সা, আমাদের সব নিংড়ে দিতেই হবে মাঠে’—আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জাভির কণ্ঠে জোরই থাকল কথাগুলো বলার সময়ে।

default-image

তা জাভি ফিরেছেন এমন একসময়ে, যে মৌসুমে বার্সা হারিয়েছে লিওনেল মেসিকে। ২০১৫ সালে জাভি বার্সা ছাড়ার পর মেসি একাই তো টেনেছেন দলটাকে। গোল করে, করিয়ে, খেলা গড়ে দিয়ে—তিন ভূমিকাতেই বার্সার দায়িত্ব টেনে নিয়েছিলেন কাঁধের ওপর। সেই মেসিকে ছাড়া বার্সাকে সেরাদের সারিতে ফেরাতে কষ্ট তো হবেই জাভির।

সংবাদ সম্মেলনেও তাই মেসির প্রসঙ্গ না এসে পারে না! মেসিকে নিয়ে প্রশ্নে জাভি বললেন, ‘মেসির সঙ্গে দারুণ একটা বন্ধুত্ব আছে আমার। (আমি বার্সার কোচ হওয়ার পর) ও আমাকে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে, অভিনন্দন জানিয়েছে, আমার সঙ্গে হাসিঠাট্টাও করেছে। ও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়, এই ক্লাবের ইতিহাসের সেরা।’

তবে মেসিহীন এই বার্সা দলেও একজনের মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার সব উপকরণ দেখেন জাভি—ওসমান দেম্বেলে। ফরাসি ফরোয়ার্ডকে নিয়ে জাভির কথা, ‘আমি চাই ও এই ক্লাবে চালিয়ে যাক। ওর চুক্তি নবায়ন আমাদের প্রথম কাজগুলোর একটি হবে। আমার চোখে, সেরা ছন্দে থাকা দেম্বেলে অনন্য, ওর পজিশনে বিশ্বের সেরা হতে পারে।’

কিন্তু দেম্বেলে তো এখন চোটে। বার্সার আরেক আশার বাতি আনসু ফাতিও চোটে। ছোট্ট কোচিং ক্যারিয়ারে উইঙ্গারদের ঘিরেই খেলার পরিকল্পনা সাজানো জাভি তাই জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলের বাজারেও চোখ রাখছেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের হাতে যে খেলোয়াড়েরা আছে, তাদের নিয়েই কাজ করব। আমাদের কয়েকজন উঁচুমানের উইঙ্গার আছে। চোটে পড়া খেলোয়াড়দের আগে চোট সারিয়ে তুলতে হবে, তাহলেই আমরা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন