সেই চিরচেনা উদ্‌যাপন, শুধু জার্সিটা বদলেছে।
সেই চিরচেনা উদ্‌যাপন, শুধু জার্সিটা বদলেছে। ছবি: টুইটার

লুইস সুয়ারেজ কাল যেন মাঠেই নেমেছিলেন বার্সেলোনাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য। তাঁকে ছাড়াই বার্সেলোনা ৪-০ গোলে জয় পেয়েছে কাল। কিন্তু ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনার সে জয়ের আগেই নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন সুয়ারেজ। মাত্র মিনিট বিশেক খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন কাল। তাতেই আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে অভিষেকের যত একবিংশ শতাব্দীর রেকর্ড আছে, সব ভেঙে দিয়েছেন।

৭০ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন। তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বার্সেলোনা কী ভুল করেছে সেটা বোঝাতে সময় নিয়েছেন মাত্র ২ মিনিট। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার মার্কোস ইয়োরন্তেকে দিয়ে গোল করিয়ে নিয়েছেন। এর পর নিজে করেছেন দুই গোল। ম্যাচ শেষে তাই উচ্ছ্বসিত সুয়ারেজ জানাচ্ছেন, বার্সেলোনা ছেড়ে ভালোই করেছেন কারণ অনেক দিন পর মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছেন।

বিজ্ঞাপন

এ মৌসুমে রোনাল্ড কোমান কোচ হওয়ার পর বার্সেলোনায় বিদায়ঘণ্টা বেজে যায়। যদিও বার্সা কোচ দাবি করেছেন, সুয়ারেজের ব্যাপারে বার্সেলোনা বোর্ড আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল। কোমান নাকি শুধু সে সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন। এ নিয়ে মেসিও ইনস্টাগ্রামে ক্লাবের বিরুদ্ধে দু’ছত্র লিখেছেন। তবে সুয়ারেজ বলছেন যা হয়েছে ভালোই হয়েছে, একদম সঠিক সময়েই বার্সেলোনা ছেড়েছেন তিনি, ‘অভিষেক হওয়ায় খুব খুশি, তিন পয়েন্ট পাওয়ায় আরও খুশি। যখন অভিষেকে গোল করে দলকে সাহায্য করেন, আপনি সব সময় খুশি থাকবেন। আমার মুক্ত বাতাস খুব দরকার ছিল, একটা পরিবর্তন দরকার ছিল এবং সেটা মেনে নেওয়াও দরকার ছিল।’

পরিবর্তনটা যে দরকার ছিল সেটা মাঠেই বোঝা গেছে। দুটি গোল করেছেন, একটা গোলে সহায়তা করেছেন। একটা পেনাল্টিও আদায় করেছিলেন, সেটা অবশ্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বাদ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে সুয়ারেজের কোনো ক্ষতি হয়নি। এই শতাব্দীর প্রথম আতলেতিকো খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকেই গোল ও গোলে সহায়তা করেছেন। ২০০০ সালের পর প্রথম আতলেতিকো খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকে দুই গোলও করেছেন সুয়ারেজ।

default-image
বিজ্ঞাপন

এমন একজনকে দলে পেয়ে তাই খুবই খুশি দিয়েগো কস্তা। কাল একসঙ্গে মাঠে নামা হয়নি দুজনের। তাঁর বদলি হিসেবেই নেমেছিলেন সুয়ারেজ। কিন্তু উরুগুয়ের ফরোয়ার্ডের সঙ্গে খেলার কথা ভেবে খুশি কস্তা। তাঁর মাথায় আসছে না এমন একজনকে কীভাবে ছেড়ে দেয় বার্সেলোনা, ‘আমি লুইস সুয়ারেজকে পছন্দ করি। এটা খুবই ভালো, আমাদের একজন কামড় দেয় (সুয়ারেজ), অন্যজন লাথি মারে (কস্তা)। আমি জানি না বার্সা তাঁকে কেন ছেড়ে দিল, কিন্তু এটা তাদের ব্যাপার। তাঁর মাঝে শিরোপা জেতার মতো যোদ্ধার সত্তা আছে, আশা করি আমরা সমর্থকদের সেটা দিতে পারব।’

সুয়ারেজকে দলে পেয়ে খুশি কোচ দিয়েগো সিমিওনেও। গত মৌসুমে গোলের জন্য মাথা কুটে মরেছে তাঁর দল। একের পর এক ম্যাচ ড্র করে একপর্যায়ে তো লিগে সাত-আটে নেমে গিয়েছিলেন তাঁরা। এবার যে তেমনটা হচ্ছে না সেটা প্রথম ম্যাচেই জানিয়ে দিয়েছে আতলেতিকো। আর সুয়ারেজের মতো একজনকে পাওয়া মানে মৌসুমে অন্তত ২০ গোলের নিশ্চয়তা। তবে সিমিওনেকে মুগ্ধ করেছে সুয়ারেজের দলের জন্য খেলার মনোভাবটা, ‘ওর দুই গোল আমার জন্য বিশেষ কিছু মনে হয়নি, কিন্তু তার গোলে সহায়তা, তার দৌড় আর মাঠে জায়গা বের করে নেওয়া—এসব মনে ধরেছে।’

মন্তব্য পড়ুন 0