এই মুহূর্তে বার্সেলোনায় যাওয়া নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই সের্হিও আগুয়েরোর।
এই মুহূর্তে বার্সেলোনায় যাওয়া নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই সের্হিও আগুয়েরোর।ছবি: রয়টার্স

আগামী জুনে তাঁর বয়স হয়ে যাবে ৩৩। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিও শেষ হয়ে যাবে। ইংলিশ ক্লাবটির সঙ্গে সের্হিও আগুয়েরোর চুক্তি নবায়ন হবে—এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও তা জোরালো নয়। আগামী মৌসুমে তাহলে কোথায় খেলবেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার?

পিএসজির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গুঞ্জন শোনা গেছে। গুজবে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ডেভিড বেকহামের ক্লাব ইন্টার মায়ামিসহ আরও কয়েকটি ক্লাবের নাম। তবে গত কদিনে আগুয়েরোকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি যে নামটি শোনা যাচ্ছে, সেটি বার্সেলোনা। কাতালান ক্লাবটির নবনির্বাচিত সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার সঙ্গে আগুয়েরোর এজেন্ট এর্নান রেগেরার কথা হয়েছে, এমনই জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। রেগেরার অফিস বার্সেলোনা শহরে, মেসির সঙ্গে আগুয়েরোর গাঢ় বন্ধুত্ব অনেক দিনের...গুঞ্জন তাই বাতাস পাচ্ছে আরও বেশি।

তবে কদিন ধরে চারদিকে তাঁর নামের বার্সাকে জড়িয়ে গুঞ্জন শুনতে শুনতে আগুয়েরো বুঝিবা একটু বিরক্তই হচ্ছেন! ম্যানচেস্টার সিটির আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার তাই গুঞ্জন ছড়ানো সবার উদ্দেশে বললেন, চুপ করো!

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সেলোনায় লিওনেল মেসিরও চুক্তি শেষ এই মৌসুমে। এরপর মেসি বার্সায় থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে লাপোর্তা সভাপতি হয়ে আসায় বার্সা সমর্থকেরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। লাপোর্তার সঙ্গে মেসির সম্পর্কটা যে দারুণ পারস্পরিক সম্মানের। এর মধ্যে আগুয়েরোকে নিয়ে আসা যে মেসিকে ক্লাবে ধরে রাখার চেষ্টায় আরেকটি চাল নয়, তা কে বলবে!

জাভি, ইনিয়েস্তা, ফ্যাব্রেগাস, নেইমার, সুয়ারেজ...বার্সায় সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর আমলে গত কয়েক বছরেই একে একে ‘বন্ধু’দের সবাইকে ক্লাব ছাড়তে দেখেছেন মেসি। শুধু মাঠে খেলাই তো সব নয়, ক্লাবে বন্ধুর মতো কেউ থাকলে মাঠের বাইরের জীবনে মাঝেমধ্যে ঘোরাফেরা, বেড়াতে যাওয়া যায়। সুয়ারেজ-নেইমারদের সঙ্গে যা নিয়মিতই করতেন মেসি। ২০০৫ যুব বিশ্বকাপ থেকেই আগুয়েরোর সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকায় আগুয়েরো এলে মেসি যে বার্সায় আরেকটু আনন্দে থাকবেন, তা হয়তো বলে দেওয়াই যায়!

default-image

এ তো গেল মেসিকে ধরে রাখার ব্যাপার, বার্সার জন্য আগুয়েরোকে আনা আর্থিকভাবেও লাভজনক। ম্যান সিটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় আগুয়েরোকে কিনতে আগামী জুনের পর বার্সার কোনো অর্থ খরচ হবে না। ম্যান সিটিতে আগুয়েরোর প্রায় ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর সমান বা কাছাকাছি বেতন দেওয়া অবশ্য এই মুহূর্তে আর্থিক দৈন্যে থাকা বার্সার জন্য প্রায় অসম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে, আগুয়েরো বেতন কম নিয়ে বার্সায় যেতে রাজি।

শুধু বেতনই নয়, ৩৩ বছর বয়সী আগুয়েরো এলেও দেম্বেলে-গ্রিজমান-ফাতি-মেসিদের টপকে একাদশে তো নিয়মিত হওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন না, সে ক্ষেত্রে আগুয়েরো ক্যারিয়ারে প্রথমবার কোনো ক্লাবে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনায়ও রাজি হবেন বলে জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। মূলত এই মৌসুমে বার্সা ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে যাওয়া লুইস সুয়ারেজের বিকল্প হিসেবেই আগুয়েরোকে ভাবছে বার্সা। সে ক্ষেত্রে বিনা দলবদল ফি-তে এমন একজন প্রতিষ্ঠিত গোলস্কোরারকে পাওয়া বার্সার জন্য লাভজনকই বটে। আর্থিকভাবে দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে থাকা বার্সা এবারের দলবদলে মূলত ডেভিড আলাবা, আগুয়েরো, জর্জিনিও ভাইনালডাম, মেম্ফিস ডিপাই, এরিক গার্সিয়াদের মতো ‘ফ্রি এজেন্ট’দের দিকেই ঝুঁকছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে এসবই তো গুঞ্জন, শেষ পর্যন্ত আগুয়েরো কি সত্যিই যাবেন বার্সায়? ক্লাবটার সমর্থকদের এদিক থেকে দিন দুয়েক আগে নিশ্চিত করতে চেয়েছিল আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্ত। তাদের প্রতিবেদন, আগুয়েরোকে ‘আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব’ দিয়েছে বার্সা। ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যম টুইচে আগুয়েরো বেশ নিয়মিত, সেই টুইচেই তারকা বনে যাওয়া বার্সা–সমর্থক ইবাই লিয়ানোসও আগুয়েরোর দলবদলের গুঞ্জনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

স্প্যানিশ টিভি লা সেক্সতার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কদিন আগে লিয়ানোস বলেছেন, ‘আমার মনে হয় নির্বাচনের পর বার্সা আর্জেন্টাইন এক বড় তারকাকে নিয়ে আসবে।’ ফিরতি প্রশ্নে প্রশ্নকর্তা সাংবাদিক যখন গত মৌসুম থেকে বার্সার সঙ্গে গুঞ্জনে জড়িয়ে যাওয়া আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজের কথা বলেন, তখন লিয়ানোসের উত্তর ছিল, ‘লাওতারো? না, না, এর চেয়েও বড়...কুন আগুয়েরো। ওর (আগুয়ের) সঙ্গে আমার কথা হয়নি, তবে...ওর চুক্তি এই মৌসুম শেষে শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর ও বার্সায় এলে আমি খুশিই হব।’

default-image

কিন্তু আগুয়েরো যেন আপাতত এই গুঞ্জনটাকে বাড়তে দিতে রাজি নন। টুইচে গতকাল আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার নিজেই বলেছেন, ‘সবাই লিখছে বার্সা, বার্সা, বার্সা। একটু থামুন ভাইয়েরা! আগে দেখুন কী হয়, তত দিন পর্যন্ত চুপ থাকুন। আমি এখনো সিটিতেই আছি।’

ম্যান সিটিতে এই মৌসুমে আগুয়েরো খুব একটা আলোচনায় নেই। থাকবেন কী করে! মৌসুমজুড়ে এত এত চোটে পড়েছেন যে পুরো মৌসুমে মাত্র ৪টা ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। একে তো তাঁর বয়স ৩৩ হয়ে যাবে, তার ওপর এই চোটের রেকর্ডও আগুয়েরোকে সই করানোর ক্ষেত্রে বার্সার মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। গত মাসে বার্সেলোনাতেই একটা অস্ত্রোপচার করিয়েছেন ‘কুন’। সেটির ধকল কাটিয়ে ফেরার পর আবার চোটে পড়েছেন। ২০১২/১৩ মৌসুম থেকে এ পর্যন্ত ছোট-বড় ২০টি চোটে পড়েছেন আগুয়েরো।

বার্সার জন্য চিন্তার ব্যাপার, বয়সের ধাক্কায় আগুয়েরোর শরীর তো আরও জৌলুশ হারাচ্ছেই! চোটে পড়ার ঝুঁকি তাতে আরও বাড়ছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন