রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ২০১৫ সালে জর্ডানের বিপক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৪-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। জর্ডানের ওই দলের কোচ ছিলেন বেলজিয়ামের পল পুট। এবারের মৌসুমে সেই পুটের ওপরই ভরসা রাখতে চলেছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। আগামী মৌসুমে দ্রাগো মামিচ নন, পল পুট হতে যাচ্ছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ, বাফুফে ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে গতকালই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল এটি। কোচ হিসেবে পুটের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমন অবকাশ না থাকলেও, অতীতে মাঠ ও মাঠের বাইরের বেশ কিছু বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী এই কোচ।

default-image

এশিয়ার জর্ডানসহ আফ্রিকার গিনি, গাম্বিয়া, বুরকিনা ফাসো ও কেনিয়া জাতীয় দলের কোচ ছিলেন পুট। সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন মরক্কোর উইদাদ কাসাব্লাঙ্কা ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে। ২০১২ সালে নিজের দেশের ক্লাব লিয়ার্সের কোচ থাকাকালীন ম্যাচ পাতানোর দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন । বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন যে কারণে তাঁকে নিষিদ্ধ করেছিল তিন বছরের জন্য। শুধু তাই নয়, দুই বছরের জন্য তাঁকে জেলে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল বেলজিয়ামের আপিল কোর্ট, জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। শুধু পুটই নন, চীনা এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজশে ম্যাচ পাতানোর দায়ে প্রায় ডজনখানেক খেলোয়াড়, ম্যানেজার ও এজেন্ট তখন ফেঁসে গিয়েছিলেন। পুটের কপাল ভালো, সে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেয়নি ফিফা, বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করেনি তাঁকে। ফলে পুট চলে যান আফ্রিকায়, কোচিং করানোর জন্য।

তাঁর ব্যাপারে আমরা জানি সবই। ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু যাচাই বাছাই করেই তাঁকে আনা হয়েছে। তাঁর ব্যাপারে যে অভিযোগগুলো আছে, তার প্রতিটা কেসেই সে জিতেছে
নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব
বিজ্ঞাপন

জর্ডানের কোচ হয়েছিলেন ২০১৫ সালের জুনে। দেশটার দায়িত্বে থাকার সময় সেই ম্যাচ পাতানোর শাস্তি সংক্রান্ত ব্যাখ্যা চেয়েছিল জর্ডান ফুটবল ফেডারেশন। সেটি না পাওয়ায় একবার দুই সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল তাঁকে। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এসেই জর্ডানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে গিনি জাতীয় দলের কোচ থাকার সময় ফেডারেশনের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতা নিয়ে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ছাঁটাই হন। সে সময় গিনির আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সও খুব সুবিধের ছিল না। তাঁকে শুধু ছাঁটাই করেই ক্ষান্ত হয়নি গিনি ফেডারেশন। আজীবন নিষিদ্ধও করা হয়। পরে মরোক্কোর ক্লাব উইদাদ কাসাব্লাঙ্কার ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

কোচিং ক্যারিয়ারে দারুণ সফল এই কোচের বিতর্কিত অতীত সম্পর্কে জানা আছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবেরও। তবে সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই পুটকে আনা হচ্ছে বলে জানান ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ‘তাঁর ব্যাপারে আমরা জানি সবই। ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু যাচাই বাছাই করেই তাঁকে আনা হয়েছে। তাঁর ব্যাপারে যে অভিযোগগুলো আছে, তার প্রতিটা কেসেই সে জিতেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0