default-image

স্কোরলাইনটা দেখে ব্রাজিলের কোনো সমর্থক উচ্ছ্বাসে ভেসেছেন কি না, কে জানে!

ম্যাচটার সঙ্গে ব্রাজিলের কোনো সম্পর্ক নেই। স্কোরলাইনও পুরোপুরি মেলে না। মেলে শুধু গোলের পার্থক্যটা। আর মেলে হেরে যাওয়া দলের অপমান আর কষ্ট। উয়েফা নেশনস লিগে কাল স্পেনের কাছে জার্মানির ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষণেও তাই ফিরে ফিরে আসছে ছয় বছর আগের ব্রাজিলের কষ্ট।

কোন কষ্ট, তা ব্রাজিলভক্ত বটেই, ফুটবলপ্রেমী সবাই-ই জানেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার কষ্ট। সেদিন জার্মানি কষ্টটা দিয়েছিল, কাল নিজেরাই পেয়েছে। হারের পর সাবেক জার্মান স্ট্রাইকার ও বর্তমানে জার্মান দলের পরিচালক অলিভার বিয়েরহফও টেনে আনলেন ব্রাজিলের ৭-১-এর কথা!

বিজ্ঞাপন

মাঝে একটা বিশ্বকাপ গেছে। তিনটি কোপা আমেরিকাও খেলেছে ব্রাজিল, যার একটি জিতেছে। সেটিও নিজেদের মাটিতেই। কিন্তু এত কিছুর পরও ছয় বছর পুরোনো সেই লজ্জার দিনটা ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে এখনো দগদগে ঘা হয়েই আছে। পুরোপুরি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হিসেবে সেটিকে মনে রেখেছেন ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকও।

৮ জুলাই ২০১৪। ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে বড় একটা ধাক্কা তার কয়েক দিন আগেই খেয়েছে ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার হুয়ান কার্লোস জুনিগার কড়া ট্যাকলে নেইমারের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা, নিষেধাজ্ঞায় সেমিফাইনালে খেলা হলো না অধিনায়ক থিয়াগো সিলভারও। একদিকে রক্ষণে দলের নেতা নেই, ওদিকে আক্রমণে নেই দলের প্রাণ।

default-image

মাঠে নামার আগেই নড়বড়ে ব্রাজিল জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালে সেদিন মাঠে আরও ছন্নছাড়া। ৩০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের জালে বল ঢোকে পাঁচবার! ক্রুস-মুলার-খেদিরা কিংবা ক্লোসারা যেমন অনায়াসে গোল করে বেরিয়ে আসছিলেন, ব্রাজিলের রক্ষণ বলে কিছুর অস্তিত্ব নিয়েই তখন প্রশ্ন। দ্বিতীয়ার্ধে শুরলা যোগ দেন জার্মানির নির্মম উল্লাসে। যোগ করা সময়ে ব্রাজিলের হয়ে অস্কারের গোলটা তখন ঘুটঘুটে অন্ধকারে কুপিবাতির আলো। অন্ধকার কমানোর বদলে যেটি আরও বেশি করে অন্ধকারকে চোখে লাগায়!

সেদিন জার্মানি যে কষ্ট দিয়েছিল ব্রাজিলকে, কাল তেমন নির্মম আগ্রাসনেরই শিকার জার্মানি হলো স্পেনের কাছে। মঞ্চ দুটিতে তুলনা হয় না। একটি ছিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, আরেকটি নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। যে নেশনস লিগকে ‘প্রীতি ম্যাচের টুর্নামেন্ট’ বলেও খোঁচা দেন অনেকে।

তবে গোলের ব্যবধানে মিল আছে, দুটি ম্যাচেই ব্যবধান ছয় গোলের। আর কাল যেভাবে একের পর এক গোল খেয়ে যাচ্ছিল জার্মানি, সেদিনের দাভিদ লুইজ, দান্তে, মাইকন আর মার্সেলোর গড়া ব্রাজিল রক্ষণকেই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল সুলা-কচ-গিন্টার-ম্যাক্সদের নিয়ে গড়া জার্মানির রক্ষণ।

জার্মান গোলকিপার মানুয়েল নয়্যারের জন্য বেশি হতাশার ব্যাপার এই যে এই ম্যাচ দিয়েই জার্মানি জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপার হয়েছেন তিনি! জাতীয় দলে তো নয়ই, ক্লাব ক্যারিয়ারেও এক ম্যাচে কখনো ছয় গোল খাননি নয়্যার!

ম্যাচটাতে যে বারবার ব্রাজিল ম্যাচের কথা ফিরে ফিরে আসছিল, সেটি বোঝা যায় ম্যাচের পর জার্মান টিভির এক উপস্থাপকের কথায়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে স্পোর্টস তাদের টুইটারে সেটি জানিয়েছে। ওই উপস্থাপক বলছিলেন, ‘এখন আমরা বুঝতে পারছি, ২০১৪ সালে ব্রাজিলের কেমন লেগেছিল।’

বিজ্ঞাপন

অলিভার বিয়েরহফও ম্যাচ নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণে টেনে এনেছেন ব্রাজিলের কথা, ‘২০১৪ সালে ব্রাজিল মাঠে ধসে পড়েছিল, আজ আমাদেরও একই অবস্থা হয়েছে। আশা করি, এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’

জার্মানির কোচ ইওয়াখিম লুভকেও এই ম্যাচ হতাশার সব রেকর্ড দিয়ে গেছে। ১৪ বছর ধরে জার্মানির কোচ লুভের জন্য এর আগে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় হার বলতে ছিল দুটি ৩-০ গোলে হার, একটি ২০০৭ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে ইউরো বাছাইপর্বে, অন্যটি গত বছর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেশনস লিগেই। জার্মানি জাতীয় দলের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৬-০ গোলে হার নেই!

কালকের হারের পর লুভের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতালেও ২০১৮ বিশ্বকাপে লুভের অধীন গ্রুপ পর্বে বাদ পড়েছে জার্মানি। এরপর থেকে পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া দলটা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না ঠিকমতো। কিন্তু লুভের চাকরি নিয়ে প্রশ্নে বিয়েরহফ সোজাসুজিই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘লুভের প্রতি আমাদের বিশ্বাস অটুট আছে, আজকের ম্যাচে সেদিক থেকে কোনো কিছুই বদলাচ্ছে না।’

মন্তব্য পড়ুন 0