দুই ছেলের সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গুনার সুলশার।
দুই ছেলের সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গুনার সুলশার।ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রতিপক্ষ দলের কোচদের সঙ্গে জোসে মরিনিওর কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। তেমনই একটি লড়াইয়ে মরিনিও এবার জড়িয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ ওলে গুনার সুলশারের সঙ্গে।

বাবা, সন্তান, সন্তানকে খাওয়ানো আর না খেতে দেওয়া—এসব মিলিয়ে সুলশার আর মরিনিও এবারকার কথার লড়াইটাকে অন্য রকম এক মাত্রা দিয়েছেন! কথার লড়াইয়ে বাবা–সন্তান এসে পড়ায় এর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন সুলশারের ২০ বছর বয়সী ছেলে নোয়াহ সুলশার। বাবা ওলে গুনার সুলশারের হয়ে মরিনিওকে জবাব দিয়েছেন তিনিও।

নোয়াহ সুলশারের ফুটবলের হাতেখড়ি তাঁর দেশ নরওয়ের একটি ক্লাব ক্রিস্তিয়ানসান্ডেতে। ২০১৪ থেকে ২০২০—নোয়াহ সুলশার এই ৬ বছর খেলেছেন ক্লাবটির যুব দলে। বাবার মতো মাঝমাঠে খেলা নোয়াহ সুলশার গত বছরই সুযোগ পেয়েছেন ক্রিস্তিয়ানসান্ডের মূল দলে।

নিজের বাবার পাশে দাঁড়াতে গিয়ে মরিনিওকে খোঁচা দিয়ে নোয়াহ যা বলেছেন তার মমার্থটা এ রকম—আর যা–ই হোক তিনি ভাগ্যবান যে তাঁকে রাতে না খেয়ে ঘুমাতে হয় না, ওলে গুনার সুলশারের সন্তান হতে পেরে তিনি গর্বিত!

বিজ্ঞাপন

নরওয়ের স্থানীয় একটি পত্রিকা টাইডেনস ক্রাভকে নোয়াহ সুলশার বলেছেন, ‘হ্যাঁ, রোববার আমি খুব হেসেছি। সবাইকে এটা নিশ্চিত করতে পারি যে আমি প্রতিদিন ঠিকঠাক খাবার পাই।’

নোয়াহ সুলশার একই সঙ্গে মরিনিওর দল টটেনহামের তারকা ফুটবলার সন হিউং-মিনকেও খোঁচা দিয়েছেন, ‘আমি আরও একটা কথা বলতে পারি, সনের মতো আমি কখনো মিথ্যাচার করি না।’ এরপর আবার মরিনিওর সমালোচনা করে নোয়াহ বলেছেন, ‘হারের বিষয়টি থেকে মনোযোগ ঘুরিয়ে দিতেই হয়তো মরিনিও এমন কথাবার্তা বলেছেন।’

default-image

নোয়াহ সুলশার এই কথাগুলো এসেছে আসলে সুলশার আর মরিনিওর কথার লড়াইয়ের পরম্পরা ধরে। তাই সুলশার–মরিনিওর কথার লড়াইটা এখানে একটু তুলে ধরলে নোয়াহ সুলশারের কথার মানেটা বুঝতে সবারই সুবিধা হবে। শীর্ষ চারে লিগ শেষ করার লড়াইয়ে থাকা টটেনহাম গত রোববার নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৩–১ গোলে হেরে গেছে। ম্যাচটিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে একটি ঘটনা।

এদিনসন কাভানির একটি গোল রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে বাতিল করেন। কাভানি গোলটি করেছেন পল পগবার পাস থেকে। ওই পাসের আগে খেলাটা তৈরি করার সময় ইউনাইটেডের স্কটিশ মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনের হাত লেগেছিল সনের চোখে। সনও মাঠে পড়ে যান। পরে রেফারি খেলা থামিয়ে ভিএআরের সাহায্য নেন।

ভিএআরে রেফারি দেখতে পান, সত্যিই ম্যাকটমিনের হাত সনের চোখে লেগেছিল।
দল জিতলেও ওই গোল বাতিল মেনে নিতে পারেননি সুলশার। ম্যাচ শেষে সনের সমালোচনা করেছেন ইউনাইটেড কোচ।

তাঁর দাবি, সন আসলে অভিনয় করেছেন। এ কারণেই রাগটা তাঁর বেশি। আর সেই রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে সুলশার বলেছেন, ‘আমার ছেলে যদি এভাবে তিন মিনিট ধরে মাঠে পড়ে থাকত এবং তাকে বাইরে নিয়ে যেতে ১০ জনের সাহায্য করা লাগত; সে তাহলে সেদিন খাবার পেত না।’

default-image

সুলশারের এ কথার জবাব কড়াভাবেই দিয়েছেন মরিনিও। সুলশারকে খোঁচা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সনি (সন ইউং মিন) খুব ভাগ্যবান যে তার বাবা ওলের চেয়ে ভালো! কারণ, একজন বাবা হিসেবে সন্তানকে আপনার খাবার দিতেই হবে। সন্তান কী করল, সেটা কোনো ব্যাপার নয়।’ এখানেই থেমে থাকেননি মরিনিও। টটেনহামের কোচ কথা এগিয়ে নিয়ে গেছেন এভাবে, ‘সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য আপনাকে যদি চুরিও করতে হয়, তা করতে হবে। আমি (ওলে গুনার সুলশারের কথায়) খুব খুব হতাশ হয়েছি। কিন্তু যা সত্য, সেটা তো বলতেই হবে।’

সুলশার আর মরিনিওর এই কথার লড়াই নিয়েই ইউনাইটেড কোচ ওলে গুনার সুলশারের ছেলে নোয়াহ মজা করে বলেছেন, ‘আমাকে না খেয়ে থাকতে হয় না!’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন