বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে কাল ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার গোলে এগিয়ে যায় লিওঁ। স্তব্ধ পার্ক দে প্রিন্সেসে প্রাণের সঞ্চার হয় ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নেইমার বল জালে জড়ালে। মেসি তখনো মাঠে ছিলেন। ৩৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড একেবারে খারাপ খেলেননি কাল, প্রথমার্ধে একবার নেইমারের ব্যাক হিল থেকে বল পেয়ে তাঁর শটে দুর্দান্ত সেভ করেন লিওঁ গোলকিপার আন্থনি লোপেস। এর কিছুক্ষণ পর মেসির দারুণ বাঁকানো ফ্রি-কিক বারে লেগে ফেরে।

কিন্তু গত বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্রুগার মাঠে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর কাল লিওঁর বিপক্ষে ম্যাচে পিএসজির খেলা দেখে এতটুকু বোঝা গেছে, মেসি-নেইমার-এমবাপ্পেকে একসঙ্গে নিয়ে মাঠে নামলে দলের ভারসাম্য কেমন হওয়া উচিত, সেটি এখনো ঠিক করে উঠতে পারেননি পিএসজি কোচ। দলের মাঝমাঠ এখনো নড়বড়ে।

ইতালিয়ান প্লেমেকার মার্কো ভেরাত্তির না থাকা, এই মৌসুমেই পিএসজিতে নাম লেখানো ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিও ভাইনালডামের এখনো ছন্দ খুঁজে না পাওয়া মাঝমাঠের এমন কাহিল দশার একটা কারণ।

তবে কারণ যা-ই হোক, গতকাল ৪-২-৩-১ ছকে মেসি-নেইমার-এমবাপ্পে-দি মারিয়ার পেছনে দুই মিডফিল্ডার হিসেবে আন্দের এরেরা ও ইদ্রিসা গেয়ে খুব একটা ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারেননি। রক্ষণের ডানদিকে কাল একাদশে না থাকা আশরাফ হাকিমির ক্লান্তিহীন দৌড়ের অভাবও ম্যাচের শুরু থেকে বোধ করেছে পিএসজি।

সে কারণেই কি না, ৭৫ মিনিটে হাকিমিকে নামান পচেত্তিনো। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে উঠিয়ে নেন মেসিকে! সিদ্ধান্তটা যে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের পছন্দ হয়নি, সেটা মাঠ ছাড়ার সময় পচেত্তিনোর বাড়ানো হাতে হাত মেলানোর সময়ে মেসির অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। অবশ্য দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার আগে উঠিয়ে নেওয়া কোনো খেলোয়াড় সহজে মেনে নিলে সেটিই বরং আশ্চর্য হতো। তার ওপর যেখানে খেলোয়াড়টির নাম লিওনেল মেসি!

default-image

নামটা মেসি বলেই ম্যাচের পর এই বদল নিয়েই কথা বলতে হয়েছে পচেত্তিনোকে। পিএসজি কোচ প্রথমে ফুটবলের আপ্তবাক্যেই ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, ‘সবাই জানে আমাদের দলে অসাধারণ অনেক খেলোয়াড় আছে। ৩৫ জনের দারুণ একটা স্কোয়াড আমাদের, এখানে এমন কিছু সিদ্ধান্ত তো নিতেই হয়। কোন ১১ জন একাদশে থাকবে সেটা ঠিক করতে হয়, এরপর ম্যাচে কারা কখন নামবে সেই সিদ্ধান্তও নিতে হয়।’

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তাঁর, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে ফলের নিশ্চয়তা দেয় না, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন পচেত্তিনো, ‘মাঝে মাঝে এসব সিদ্ধান্তে ভালো ফল আসে, মাঝে মধ্যে আসে না। কিন্তু এসব সিদ্ধান্তের জন্যই আমরা আছি, ডাগআউটের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবি কী করতে হবে। এই সিদ্ধান্তগুলো আমাকে নিতেই হবে, সেটাতে শেষ পর্যন্ত ভালো হোক বা না হোক, সেটা আপনার পছন্দ হোক বা না হোক।’

মেসির সঙ্গে পরে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পচেত্তিনো, ‘বদলের পর মেসিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ও ঠিক আছে কি না, ও বলেছে ও ঠিক আছে। তাই এসব নিয়ে মাতামাতি বন্ধ করুন।’

default-image

মেসিকে সম্ভাব্য চোট থেকে বাঁচাতেই এই বদল বলেও জানালেন পিএসজির আর্জেন্টাইন কোচ, ‘মেসিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা আমরা নিয়েছি যাতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য চোটের ঝুঁকি কমে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ম্যাচ আসছে, সেসব ম্যাচের জন্য ওকে আমাদের আগলে রাখতেই হবে।’

ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে পিএসজি। এতে সন্তুষ্ট পচেত্তিনো,যদিও দলের খামতি তিনি অস্বীকার করেননি। তাঁর বিশ্লেষণ, ‘দলের সঠিক ভারসাম্য খুঁজে নিতে আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। প্রতি তিন দিনেই ম্যাচ থাকে বলে অনুশীলনের তেমন সুযোগ তো পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে আমাদের ভিডিও থেকে একটু এদিক-সেদিক করে নিতে হবে। বিশেষ করে (দলের রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ কিংবা মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের মধ্যে) রেখার মাঝের এত বেশি ফাঁকা জায়গা কমানো নিয়ে কাজ করতে হবে আমাদের।’

পিএসজির পরের ম্যাচ আগামী পরশু, লিগে মেৎজের মাঠে। পিএসজিতে তিন ম্যাচ শেষেও এখনো গোল না পাওয়া মেসি হয়তো সেদিন অপেক্ষা ফুরানোর ক্ষণ গুনছেন।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন