ইউরোপে খেলা মেসি-দিবালা-লাওতারোদের ছাড়াই ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য রাজি হয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ইউরোপে খেলা মেসি-দিবালা-লাওতারোদের ছাড়াই ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য রাজি হয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনা।ছবি : রয়টার্স

আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল। মেসি বনাম নেইমার। লাওতারো বনাম ফিরমিনো। কুতিনিও বনাম পারেদেস। লাতিন আমেরিকার এই দুই পরাশক্তি মুখোমুখি হওয়া মানেই যেন উত্তেজনা। ফুটবলীয় রোমাঞ্চ পেতে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেন কোটি কোটি ফুটবলভক্ত। ম্যাচটাকে তো এমনি এমনি ‘সুপারক্ল্যাসিকো’ ডাকা হয় না!

এই মার্চেই এমন এক ‘সুপারক্ল্যাসিকো’র অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব। লাতিন আমেরিকার দুর্দান্ত খেলোয়াড়েরা এই ম্যাচে খেলতে নেমে নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাবেন, মুগ্ধ করবেন বিশ্বজোড়া দর্শকদের, এমনটাই আশা ছিল সবার মনে। কিন্তু যথারীতি এক বছর ধরে বৈশ্বিক যে সংকটের কারণে বিভিন্ন কাজকর্ম স্থবির হয়ে আছে, সে সংকট হানা দিয়েছে এই স্বপ্নের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচেও।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, করোনা মহামারির মধ্যে ভ্রমণে বিধিনিষেধের কারণে দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে ইউরোপে খেলা খেলোয়াড়দের ছাড়াই মাঠে নামতে হতে পারে কনমেবলের দলগুলোকে। আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, ইউরোপে খেলা খেলোয়াড়দের ছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে সমস্যা নেই তাদের। অর্থাৎ ইউরোপে খেলা মেসি-দিবালা-লাওতারোদের ছাড়াই ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য রাজি হয়ে গিয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল ছাড়াও আরেক লাতিন পরাশক্তি উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে নামার কথা তাদের।

করোনার কারণে এমনিতেই এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করা অনেক ঝক্কি। গেলেও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় খেলোয়াড়দের। অর্থাৎ ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় নিজের দেশে গিয়ে ম্যাচ খেলতে চাইলে সেখানেও কোয়ারেন্টিন বাবদ কিছুদিন নষ্ট হবে, একই ঝামেলা হবে দেশ থেকে ক্লাবে ফেরার পরও। ইউরোপীয় দেশগুলোয় এমনিতেই ভ্রমণে প্রচুর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধের কারণে দেখা যাবে, নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলানোর জন্য সেসব খেলোয়াড়কে পাবে না ক্লাবগুলো। ইউরোপে ফেরার পর ১০ দিন অন্তত খেলোয়াড়দের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবেই। তাই ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের দেশের ম্যাচ খেলার অনুমতি কেন দেবে?

গতকাল শুক্রবার কনমেবলের সদস্য ১০টি দেশের সভাপতি, কনমেবলের ও ফিফার সভাপতি মিলে একটি সভায় বসেছিলেন। সেখানেই আর্জেন্টিনা জানিয়েছে, ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড় বাদ দিয়ে খেলতে সমস্যায় নেই তাদের। ওদিকে ব্রাজিল এখনো নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা এই মাসে বাছাইপর্বের ম্যাচই খেলতে চাইছে না। দ্বিতীয় আরেকটি সভা হওয়ার কথা আছে আজকালের মধ্যেই। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, ফেডারেশনের সদস্যরা কী করবে না করবে।

default-image

এর মধ্যেই আর্জেন্টিনা মেনে নিয়েছে, ইউরোপে খেলা খেলোয়াড়দের ছাড়াই ব্রাজিল-উরুগুয়ের ম্যাচ দুটি খেলতে সমস্যা নেই তাদের। অর্থাৎ মেসি, লাওতারো, ওকাম্পোস, পারেদেস, দি পল, দিবালাদের ছাড়াই ব্রাজিল ও উরুগুয়েবধের ছক কষতে হবে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। কারণ, প্রত্যেকের ক্লাবই ইউরোপভিত্তিক। ক্লাব ক্যারিয়ারে বর্তমানে ইউরোপে খেলেন না কিন্তু নিয়মিত আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে খেলছেন, এমন খেলোয়াড় আছেন সাকল্যে দুজন—রিভার প্লেটের গোলকিপার ফ্রাঙ্কো আরমানি ও রাইটব্যাক গঞ্জালো মন্তিয়েল। এ ছাড়া বেঞ্চে বোকা জুনিয়র্সের গোলকিপার এস্তেবান আনদ্রাদা, গ্রেমিওর সেন্টারব্যাক ওয়াল্টার কানেমান, ইন্তারনাসিওনালের রেনজো সারাভিয়া, বোকা জুনিয়র্সের এদুয়ার্দো সালভিও ছিলেন সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয়। বাকি সবার ক্লাবই ইউরোপভিত্তিক।

বিজ্ঞাপন

২৭ মার্চে ঘরের মাঠ এস্তাদিও উনিকোতে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। চার দিন পর ব্রাজিলের মারাকানায় খেলতে যাওয়ার কথা আর্জেন্টিনার। ওদিকে একই সময়ে আর্জেন্টিনা ছাড়াও কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলার কথা ব্রাজিলের। ওদিকে আর্জেন্টিনা ছাড়াও বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে উরুগুয়ে।

মন্তব্য করুন