মেসিদের মনে ফিরে আসছে ৬-১–এর দুঃসহ স্মৃতি
এগারো বছর আগের সেই দুঃস্মৃতি কী এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় লিওনেল মেসিকে? সেই ম্যাচের কথা মনে হলে কী এখনো বিচলিত হন তিনি? হয়তো হন। হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায় বলিভিয়ার বিপক্ষে লা পাজের এস্তাদিও এর্নান্দো সাইলেসে মুখোমুখি হওয়ার আগে মেসিদের মাথায় হাজারো শঙ্কা কাজ করাই স্বাভাবিক।
কী হয়েছিল এগারো বছর আগে? ২০০৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে এই লা পাজেই ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল হেরেছিল ৬-১ গোলে। হ্যাটট্রিক করেছিলেন বলিভিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোয়াকিন বোতেরো, একটি করে গোল করেছিলেন মার্সেলো মার্তিনস মোরেনো, আলেক্স রদ্রিগো দা রোসা ও দিদি তোরিকো। আর্জেন্টিনার হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোল করেছিলেন মিডফিল্ডার লুচো গঞ্জালেস।
এমন নয় যে আর্জেন্টিনা দুর্বল দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল সেদিন। মূল একাদশে মেসি, হাভিয়ের মাচেরানো, কার্লোস তেভেজ, হাভিয়ের জানেত্তি, ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, গ্যাব্রিয়েল হাইন্সা— মোটামুটি সবাই-ই ছিলেন। তাও বলিভিয়া নাচিয়ে ছেড়েছিল আর্জেন্টিনাকে। কারণ একটাই। ম্যাচের ভেন্যু লা পাজের হার্নান্দো সাইলেস স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার উঁচুতে। শুধু মেসিরাই নন, বলিভিয়ার বিপক্ষে দেশটার ঘরের মাঠে যে-ই খেলতে যায় না কেন, সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয় লা পাজের আবহাওয়া। খেলা তো দূর, ঠিকমতো দৌড়াতেও কষ্ট হয় সফরকারী দলের, কষ্ট হয় নিশ্বাস নিতে। মাঠে বলের বাউন্স বোঝা যায় না। বলিভিয়ার খেলোয়াড়েরা এমন পরিবেশে খেলতে অভ্যস্ত, সে কারণেই অধিকাংশ সময়েই সুবিধাটা চুটিয়ে নিয়ে নেয় তারা। ওই ম্যাচের পর ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘বলিভিয়ার প্রতিটা গোল আমার বুকে বিঁধছিল। ম্যাচের আগে আমরা যদি দুঃস্বপ্নেও দেখতাম এমনটা ঘটতে যাচ্ছে, তাহলেও আমরা ভাবতাম এটা অসম্ভব।’
শুধু এই ম্যাচ বলেই নয়। এর পরে মেসিরা গত ১১ বছরে আরও দুবার খেলতে গিয়েছিলেন লা পাজে। কোনোবারই বিজয়ীর হাসি নিয়ে দেশে ফিরতে পারেননি। ২০১৩ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আরেক ম্যাচে আলেহান্দ্রো সাবেয়ার দল ১-১ গোল ড্র করেছিল বলিভিয়ার সঙ্গে। মার্সেলো মোরেনোর গোলে বলিভিয়া এগিয়ে গেলেও পরে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এভার বানেগা। ২০১৭ সালে আবারও সঙ্গী হয় পরাজয়। সেবার বলিভিয়া জেতে ২-০ গোলে। আবারও আর্জেন্টিনা-হন্তারকের ভূমিকায় চলে আসেন মার্সেলো মোরেনো, বাকি গোলটা ছিল হুয়ান আর্চের।
বলিভিয়ার এই মাঠে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ কবে জিতেছিল? খুঁজতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে দেড় দশক। ২০০৫ সালে লুসিয়ানো ফিগেরোয়া আর লুসিয়ানো গালেত্তির গোলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে লা পাজ ছেড়েছিল আর্জেন্টিনা। সে জয়কে এখন মেসিদের কাছে অস্পষ্ট স্মৃতি বলেই মনে হবে হয়তো!
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও বোঝেন, এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ আবহাওয়া, মাঠের এগারো জন নয়। তাই আগে আগেই দল নিয়ে লা পাজে চলে এসেছেন, যেন প্রস্তুতিটা অন্যান্য ম্যাচের চেয়েও ভালো হয়, ‘আমরা আগে আগে এখানে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওই একটা কারণেই। আমরা দেখেছি, অন্যান্য দল এখানে কয়েক দিন আগেই চলে আসে বাড়তি প্রস্তুতির জন্য। আমরাও সেটাই করব। অধিক উচ্চতায় ভালো খেলার কোনো সূত্র নেই আসলে। স্বাভাবিক ম্যাচের মতো কোনো ম্যাচ হবে না এটা, তাই আমরা আগেভাগে সতর্কতা অবলম্বন করছি।’
দেখা যাক, এই সতর্কতায় কতটুকু কাজ হয়!