ইতিহাসে নাম লেখাল বায়ার্ন মিউনিখ।
ইতিহাসে নাম লেখাল বায়ার্ন মিউনিখ।ছবি: রয়টার্স

স্থান, কাল, পাত্রভেদে বিশ্বের সেরা ক্লাব—এ তকমা জোটানোর উপায় কী? লিগে দাপট দেখানো দলটি মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় হেরে বসতে পারে। আবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলটির হাতছাড়া হতে পারে ঘরোয়া কাপের শিরোপা। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব কীভাবে প্রশ্নাতীত করতে হয়, সেটা প্রথম দেখিয়েছিল ২০০৯ সালের সর্বজয়ী বার্সেলোনা দলটি। পেপ গার্দিওলার অধীনে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলা যে দল একে একে সম্ভাব্য ছয়টা শিরোপার প্রতিটিই জিতেছিল এক মৌসুমে।

অনন্য কীর্তি, সন্দেহ নেই। না হয় এত দিন এক মৌসুমে ছয় শিরোপা জয়ের কীর্তি মাত্র শুধু এই একবার কেন? এত দিন পর এই চূড়ায় সঙ্গী পেল কাতালানরা। প্রায় এক যুগ পর একই কীর্তি গড়েছে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখও। এখন ক্লাব ফুটবলের সফলতম মৌসুমের আলোচনায় ২০০৯ সালের বার্সেলোনার পাশাপাশি ২০২১ সালের বায়ার্ন মিউনিখের নামও চলে আসবে।

গত রাতে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন তিগ্রেসকে ১-০ গোলে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছে বায়ার্ন। আর এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছে, ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে এক ক্লাব একই মৌসুমে জিতেছে ছয়-ছয়টি শিরোপা। পরম আরাধ্য ‘সেক্সটুপল’।

বিজ্ঞাপন
default-image

এর আগে বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, জার্মান সুপার কাপ, চ্যাম্পিয়ন লিগ, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ—সবকিছু জেতা বায়ার্নের বাকি ছিল এই এক শিরোপাই। কাতারের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম সেই এক অপূর্ণতাও ঘুচিয়ে দিল।

১২ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে ফরাসি রাইটব্যাক বেনজামিন পাভারের গোলই যথেষ্ট ছিল মেক্সিকোর ক্লাবকে হারানোর জন্য। ইতিহাসের প্রথম উত্তর আমেরিকান দল হিসেবে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠা তিগ্রেস প্রথম থেকেই বায়ার্নকে চেপে ধরেছিল বেশ। কিন্তু শেষমেশ ষষ্ঠ শিরোপার নেশায় খেলতে নামা বায়ার্নের মুখেই ফুটেছে হাসি।

ঐতিহাসিক এই অর্জনের আনন্দে বায়ার্ন কোচ হান্সি ফ্লিক দলকে দুই দিনের ছুটি দিয়েছেন। মাত্র ৬৮ ম্যাচ দলের দায়িত্বে থেকেই ৬টি শিরোপা জিতেছেন ফ্লিক! ওদিকে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান, বায়ার্নের সাবেক ও এই কীর্তি গড়া প্রথম কোচ পেপ গার্দিওলা প্রস্তাব দিয়েছেন, ইতিহাস গড়া দুই দলের মধ্যে একটা সপ্তম শিরোপার জন্য ম্যাচ আয়োজন করা উচিত!

default-image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় গার্দিওলা জানিয়েছেন, ‘এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য বায়ার্ন পরিবাররে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। ক্লাব বিশ্বকাপ জেতার জন্য ও সর্বোপরি এক মৌসুমে ষষ্ঠ শিরোপা জেতার জন্য। আমরা অনেক গর্বিত, আমি অনেক গর্বিত। হান্সি ফ্লিক, দলের খেলোয়াড়েরা, পেছনের কলাকুশলীরা—এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িত সবাইকে জানাই অসংখ্য শুভেচ্ছা।’
তারপরই মজার এই প্রস্তাব করেছেন গার্দিওলা, ‘তোমাদের আগে আরেক দল ছিল, যারা এই কীর্তি করেছিল, বার্সেলোনা। এসো আমরা দুই দল মিলে সপ্তম একটা শিরোপার জন্য ম্যাচ খেলি নিজেদের মাঝে। কোথায় কখন খেলতে হবে, আমাকে জানিও। আমি লিওনেল মেসি ও তার দলকে বলব চলে আসার জন্য!’

তবে আরেকটু হলে এই গার্দিওলাও বায়ার্নে ‘সেক্সটুপল’-এর স্বাদ পেতেন। ২০১৩ মৌসুমে লিগ, জার্মান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী বায়ার্নের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাকি তিন শিরোপা জেতানোর সম্ভাবনা জেগেছিল গার্দিওলার সামনে। বাকি দুটি জেতা হলেও ডর্টমুন্ডের কাছে জার্মান সুপার কাপ হেরে বসেছিল বায়ার্ন।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন