লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফাইল ছবি

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে আগেও কথা বলেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কখনো এগিয়ে রেখেছেন মেসিকে, কখনো আবার রোনালদোকে। কিন্তু এবার আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি হাঁটলেন মাঝ বরাবর—ম্যারাডোনা দুজনের কাউকেও একে-অপরের চেয়ে এগিয়ে রাখেননি বরং ‘বিস্তর’ ব্যবধানে পিছিয়ে রাখলেন বাকিদের।

ম্যারাডোনার সামনে উৎসবের উপলক্ষ। শুক্রবার ৬০ বছরে পা রাখবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এ বিশেষ দিন সামনে রেখে ম্যারাডোনার সাক্ষাৎকার নিয়েছে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’। ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ফুটবলার সেই সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন মেসি-রোনালদোকে নিয়ে। তর্কযোগ্যভাবে তাঁরা দুজন আধুনিক যুগের সেরা ফুটবলার। ৩০ পার করেও গোলের ধারাবাহিকতা অবিশ্বাস্য, ৬০টি ট্রফি ভাগাভাগি করেছেন তাঁরা, শিরোপা জিতেছেন স্পেন, ইংল্যান্ড ও ইতালিতে। দুজনের ঝুলি মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাসংখ্যা ৯টি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা হিসেবে ম্যারাডোনার মেসি-রোনালদোকে বেছে নেওয়াটা চমকে দেওয়ার মতো কিছু নয়। ম্যারাডোনা বলেন, ‘মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো, ক্রিস্টিয়ানো এবং মেসি—আমার মতে তারা দুজন বাকিদের চেয়ে বিস্তর এগিয়ে। কেউ তাদের ধারে-কাছে আসতে পারবে বলে মনে করি না। তাদের সাফল্যের অর্ধেকও অর্জন করতে পারবে না কেউ।’

default-image

সামনে যেহেতু জন্মদিন, তাই সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের আলোকে উপহার নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টিনার সাবেক এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ইংল্যান্ডকে খোঁচা মারার সুযোগটা ছাড়েননি। ৬০তম জন্মদিনে কোনটা হতো সেরা উপহার—এ প্রসঙ্গে ম্যারাডোনা বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি গোল করার স্বপ্ন দেখি। এবার ডান হাতে।’ ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডান হাতে বিতর্কিত এক গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। রেফারির চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল গোলটি। পরে ম্যারাডোনা ভীষণ বিতর্কিত সেই গোলকে ‘হ্যান্ড অব গড’ আখ্যা দেন।

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি নাপোলিকে সিরি ‘আ’ ও উয়েফা কাপ জিতিয়েছেন ম্যারাডোনা। ইতালিয়ান ক্লাবটিকে সাধারণ থেকে শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। নাপোলি সমর্থকদের কাছে ম্যারাডোনা এখনো তাই ‘ঈশ্বরতুল্য’ মর্যাদা পেয়ে থাকেন। ১৯৮৯ সালে উয়েফা কাপ জেতানোর পর ম্যারাডোনা নাকি নাপোলি ছাড়তে চেয়েছিলেন—এমন কথা জানিয়েছেন তিনি নিজেই, ‘মার্শেই কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বিগুণ বেতন দিতে চেয়েছিল। তখন নাপোলিতে খেলি এবং সভাপতি ফেরলাইনো বলেছিলেন ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতলে তিনি আমাকে যেতে দেবেন।’

নেপলসে ফিরে ক্লাব সভাপতিকে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘ধন্যবাদ সভাপতি, এতগুলো দারুণ বছরের জন্য। আমি যাচ্ছি।’ ম্যারাডোনার ভাষায় নাপোলি সভাপতি তখন ‘এমন ভাব করলেন যে কিছুই বুঝতে পারেননি এবং তিনি পিছু হটলেন। গল্প এখানেই শেষ।’ তবে ফরাসি ক্লাবটির কর্মকর্তারা নাকি তখন ম্যারাডোনার সঙ্গে কথা বলতে ইতালি পর্যন্ত গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0