বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মেসির ক্যারিয়ারের পালাবদলের মৌসুম ২০০৮-০৯। পেপ গার্দিওলার অধীন আগের চেয়ে অনেক বেশি গোল করায় মনোযোগী হয়েছেন মেসি। ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর থেকেই গোলক্ষুধায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে টেক্কা দিয়েছেন। গোল করার কাজটায় এতটাই সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছেন যে গোল করায় তাঁর আশপাশে নেই কেউ। পেশাদার ফুটবলে গোলসংখ্যায় রোনালদো তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন। কিন্তু ম্যাচপ্রতি গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি। এমন গোলক্ষুধাই ২০১২ সালে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়তে সাহায্য করেছে মেসিকে। এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১টি গোল করেছিলেন মেসি।

২০১২ সালের সে কীর্তির পেছনে দুটি ব্যাপার ভূমিকা রেখেছিল। প্রথমত ২০১১–১২ মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে ভয়ংকর রূপ নিয়েছিলেন মেসি। মেসির শেষ অর্ধে ক্লাবের হয়ে ৪৪ গোল করেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে করেছিলেন ১২ গোল। বছরটা শেষও করেছেন একই ছন্দে। ২০১২–১৩ মৌসুমের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জানুয়ারির আগেই ক্লাবের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলে ৩৫ গোল করেছিলেন মেসি।

সেই মেসিই কিনা এবার মৌসুমের প্রথমাংশে সব প্রতিযোগিতা মিলে পিএসজির জার্সিতে করেছেন মাত্র ৬ গোল! গার্দিওলার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়ার মৌসুমের পর থেকে তো বটেই, এমনকি এর আগের মৌসুমেও এতটা গোল–খরায় ভুগতে হয়নি মেসিকে। ২০০৭–০৮ মৌসুমেও ডিসেম্বরের মধ্যেই ১২ গোল করে ফেলেছিলেন মেসি। এরপর আর কখনো গোলসংখ্যা এক অঙ্কে থামেনি তাঁর।

২০০৭–০৮ মৌসুমের পর শুধু তিন মৌসুমেই শুরুতে গোল করায় একটু ‘আপত্তি’ দেখা গেছে। ২০১৩–১৪ মৌসুমে নেইমারের আবির্ভাবের বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪ গোল করেছিলেন মেসি। ২০১৫–১৬ মৌসুমেও মেসির গোল ছিল মাত্র ১২টি। সেবার অবশ্য চোটের কারণে বেশ অনেকগুলো ম্যাচ মাঠের বাইরে ছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। বার্সেলোনার জার্সিতে ফরোয়ার্ড মেসির সবচেয়ে বাজে শুরুটা ছিল গত মৌসুমে।

default-image

রোনাল্ড কোমানের অধীন গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে মাত্র ১০ গোল করেছিলেন মেসি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪ ম্যাচে ছিল ৩ গোল। আর লিগের ১৪ ম্যাচে করেছিলেন ৬ গোল।

নতুন দল পিএসজিতেও মেসির ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫ ম্যাচে দুই পেনাল্টিসহ ৫ গোল করেছেন। আর ফ্রেঞ্চ লিগে ১১ ম্যাচ থেকে মাত্র ১ গোল। ২০০৫–০৬ মৌসুমের পর এই প্রথম কোনো মৌসুমে লিগে এত কম গোল নিয়ে বড়দিনের ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন মেসি।

default-image

পিএসজি সমর্থকদের জন্য আশার খবর হলো, মেসি মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে সাধারণত প্রথমাংশের চেয়ে বেশি গোল করেন। ২০১৩–১৪ মৌসুমেই যেমন ২৭ গোল করেছিলেন। ২০১৫–১৬ মৌসুমে করেছিলেন ২৯ গোল। গত বছর কোমানের বার্সেলোনার হয়েও জানুয়ারির পর ২৮ গোল করেছেন মেসি। আর এই মৌসুমেই ফ্রেঞ্চ লিগে মেসির গোল অনায়াসে ৭ হতে পারত। ছয়বারই তাঁর শট গোলপোস্টে লেগে ফিরেছে!

আশার উল্টোদিকে শঙ্কাও আছে। ২০১৯-২০ মৌসুমের শুরুতে মাত্র ১৫ গোল করা মেসি দ্বিতীয়ার্ধেও করেছিলেন মাত্র ১৬ গোল। ২০০৭–০৮ মৌসুমের পর সেবারই মৌসুমে সবচেয়ে কম গোল ছিল মেসির। ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এবার তেমন কোনো মৌসুম কাটালে পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন এবারও দুরাশা বলেই পরিণত হবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন