default-image

আয়লাই মরিবা প্রথমবার যখন বার্সেলোনার মূল স্কোয়াডে ডাক পেলেন, সে উপলক্ষে একটা ভিডিও পোস্ট করেছিল কাতালান ক্লাবটা। ছোট্ট বয়স থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সাফল্য-ব্যর্থতা, চড়াই-উতরাইয়ের গল্পই চিত্রিত হয়েছিল সেখানে। সেই ভিডিওতেই একটা বিশেষ জিনিস চোখে পড়ে। দূরপাল্লার শট থেকে দুর্দান্ত সব গোল করতে বেশ পটু এই স্প্যানিশ-গিনিয়ান মিডফিল্ডার। বার্সার জার্সি গায়ে তাঁর প্রথম গোলেও সে ছাপই থাকল। আর বার্সার অধিকাংশ গোলের মতো এই গোলেও সহায়তা থাকল দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির।

শুধু মরিবার গোলেই নয়, আলবার গোলেও অবদান মেসির। এই দুই গোল মিলিয়েই গত রাতে স্প্যানিশ লিগের ম্যাচে ওসাসুনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।

জিতলেই শীর্ষে থাকা আতলেতিকোর মাত্র দুই পয়েন্ট দূরত্বের মধ্যে চলে আসা যাবে, এমন লক্ষ্য নিয়েই গত রাতে ৩-৫-২ ছকে নেমেছিল বার্সেলনা। আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী ছিলেন গ্রিজমান। আলবা আর সের্হিনিও দেস্তের ভূমিকা ছিল উইংব্যাকের, ফুলব্যাকের না। মাঝমাঠে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও সের্হিও বুসকেতসের সঙ্গে ছিলেন পেদ্রি। ওদিকে তিন সেন্টারব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অস্কার মিঙ্গেসা, ক্লেমঁ লংলে ও স্যামুয়েল উমতিতি। গ্রিজমানকে জায়গা দিতে গিয়ে ওসমানে দেম্বেলে ছিলেন বেঞ্চে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ম্যাচের দুই মিনিটেই বার্সার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল ওসাসুনা। বার্সার রক্ষণ ফাঁকা দেখে মাঝমাঠ থেকে দূরপাল্লার এক শটে গোল করতে চেয়েছিলেন ওসাসুনার আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার জোনাথান ক্যালেরি। বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন কোনো বিপদ হতে দেননি অবশ্য। ১২ মিনিটে আবারও বার্সার ত্রাতা এই টের স্টেগেন। ওসাসুনার আরেক স্ট্রাইকার কিকে বারহার বাঁ পায়ের জোরালো শট যেভাবে আটকালেন, অন্য কোনো সাধারণ গোলকিপার থাকলে হয়তো গোলই হয়ে যেত।

ম্যাচের ৩০ মিনিটেই স্বরূপে বার্সা। কিংবা বলা যায়, মেসিই স্বরূপে ফেরান বার্সাকে। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্তভাবে বের করলেন বাঁ প্রান্ত থেকে কীভাবে বক্সে ঢোকার অপেক্ষায় আছেন আলবা, সেটা দেখেই বাড়ালেন বল। আলবার বাঁ পায়ের জোরালো শট আটকানোর সাধ্য ছিল না ওসাসুনা গোলরক্ষক সের্হিও হেরেরার। চলতি মৌসুমে এই নিয়ে পাঁচ গোল হয়ে গেল আলবার।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ানোর জন্য উমতিতির জায়গায় দেম্বেলেকে মাঠে নামান বার্সা কোচ রোনাল্ড কোমান। ৪৮ মিনিটেই আরও এগিয়ে যেতে পারত বার্সা। বক্সের বাইরে থেকে মেসির গোলার মতো শট কোনোমতে আটকে দেন হেরেরা। ৬৫ মিনিটে বুসকেতসের জায়গায় মাঠে নামান হয় আয়লাই মরিবাকে। ৮৩ মিনিটে মেসির পাসেই হয় মরিবার স্বপ্নপূরণ। আর এই দুই গোল দিয়েই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

নিজের প্রথম গোল পেয়ে মরিবা যে কত খুশি, সেটাই বোঝা গেছে ম্যাচ শেষে, ‘আমি শট নিতে পছন্দ করি। আমি বুঝতে পারিনি কীভাবে আমি কাট ইন করে এরপর বাঁ পা দিয়ে গোল করলাম, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, গোলটা হয়েছে। আমি এই গোলের গর্ব নিয়ে কবরে যাব!’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন