বর্তমান রিয়াল কোচ জিদানের সঙ্গে সাবেক কোচ দেল বস্ক।
বর্তমান রিয়াল কোচ জিদানের সঙ্গে সাবেক কোচ দেল বস্ক।ছবি : টুইটার

আর্জেন্টিনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি যাঁরা পরেন, ফুটবল ইতিহাসে তাঁদের দাম একটু অন্য রকম। সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, সে পথ ধরে একে একে এগিয়ে এসেছেন জাদুকরি সব মিডফিল্ডার। আরিয়েল ওর্তেগা থেকে শুরু করে পাবলো আইমার, হুয়ান রোমান রিকেলমে-লিওনেল মেসির আবির্ভাবের আগে প্রত্যেকেই নিজের মতো করে আলো ছড়িয়েছেন সাধ্যমতো।

তবে শুধু খেলার ধরনের দিক দিয়ে নয়, দিয়েগো ম্যারাডোনা-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রত্যেক ‘নাম্বার টেন’ এক জায়গায় এসে মিলেছেন। ওর্তেগা, আইমার, রিকেলমে, মেসি—কেউই রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে চাপাননি কখনো। ওর্তেগা আর আইমার খেলেছেন ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে, ওদিকে রিকেলমে আর মেসি বার্সেলোনা হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। মেসিকে দলে না পাওয়া নিয়ে রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের আক্ষেপের কথা সবারই জানা, সময়-সময় অনেকবারই বার্সার সবচেয়ে বড় তারকাকে দলে পাওয়ার চেষ্টা করে গেছেন এই সভাপতি। এখন আরেক ‘নাম্বার টেন’কে না পাওয়ার আক্ষেপ শোনা গেল রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের কণ্ঠে। যিনি আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন মেসির পূর্বসূরি। রিকেলমের ক্যারিয়ার যখন অস্তাচলে, মেসি তখন ঝলক দেখানো শুরু করেছেন মাত্র।

বিজ্ঞাপন
default-image

রিকেলমেকে বলা হতো অলস জাদুকর। মাঠে অত দৌড়াদৌড়ি করতেন না। কিন্তু সবুজ মাঠকে শিল্পীর ক্যানভাস বানিয়ে হেঁটে হেঁটেই যেভাবে একের পর এক জাদু দেখাতেন বল পায়ে, তাঁর তুলনা ছিল না কোনো। আর রিকেলমে ভালো খেললে প্রতিপক্ষের কী হতে পারে, সে অভিজ্ঞতা দেল বস্কের ভালোই আছে। ২০০০ সালের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ (বর্তমান ক্লাব বিশ্বকাপ) এর ফাইনালে রিকেলমের বোকা জুনিয়র্সের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল দেল বস্কের রিয়াল। রিয়ালে তখন লুইস ফিগো, রবার্তো কার্লোস, রাউল ও ফের্নান্দো মরিয়েন্তেসের মতো তারকারা থাকলেও পাদপ্রদীপের আলো পুরোটা কেড়ে নিয়েছিলেন রিকেলমে। গোটা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে দেখেছিল এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের পায়ের জাদু।

ছয় মিনিটের মধ্যেই রিয়ালকে দুই গোল দিয়েছিল বোকা। জোড়া গোল করেছিলেন দলের স্ট্রাইকার মার্তিন পালের্মো। দুটি গোলই করিয়েছিলেন রিকেলমে। পরে রবার্তো কার্লোস এক গোল করে শুধু ব্যবধানই কমিয়েছেন, রিয়ালের আর জেতা হয়নি। সে ম্যাচের স্মৃতি দেল বস্কের মনে এখনো ভাস্বর, ‘রিকেলমে এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি গোটা দলের খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন ভালোভাবে। গোটা দলের ছন্দ ঠিক করে দিতেন।’

default-image

দেল বস্ক এখনো মনে করেন, রিকেলমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এলে সফল ক্যারিয়ার পেতে পারতেন। লা সেক্তা দেপোর্তিভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেনকে বিশ্বকাপ ও ইউরো জেতানো এই কোচ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে পারতেন চাইলে। আর এখানে খেললে তাঁর ক্লাব ক্যারিয়ারও অনেক সফল হত। আমাদের ক্লাবের অন্যতম তারকা হতে পারতেন তিনি। অন্তত আমার মনে হয় এটা। যাঁরা রিয়াল মাদ্রিদে খেলতে আসেন, তাঁরা অনেক ভালো খেলোয়াড় হয়ে থাকেন। আর যাঁরাই একটু ভালো খেলেন, তাঁরা ক্লাবে সফল হন।’

রিয়ালে না খেললেও রিকেলমে স্প্যানিশ লা লিগার স্বাদ পেয়েছিলেন বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলে। ইউরোপে ক্লাব ক্যারিয়ারে তেমন সাফল্য যে পেয়েছেন, তা বলা যাবে না। বার্সেলোনার হয়ে তিন মৌসুম খেলে তাঁর অর্জনের ভাঁড়ার শূন্য। ডাচ কোচ লুই ফন গালের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করে রেগেমেগে যোগ দিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালে। ওদিকে ভিয়ারিয়ালের হয়ে জিতেছিলেন সাকল্যে একটা ইন্টারটোটো কাপ। বার্সেলোনায় যে তিন বছর ছিলেন, ওই তিন বছরে তাঁর দল কিছু না জিতলেও রিয়াল জিতেছিল লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, উয়েফা সুপার কাপ, ও স্প্যানিশ সুপারকোপা।

বিজ্ঞাপন

বলা বাহুল্য, সিদ্ধান্ত বদলে রিয়ালে গেলে অনেক কিছুই জিততে পারতেন রিকেলমে!

মন্তব্য করুন