বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আর্থিক দেনায় জেরবার কাতালান ক্লাবটি। লা লিগা কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া বেতনসীমার মধ্যে থাকার বাধ্যবাধকতার জন্য লিওনেল মেসিকেও ধরে রাখতে পারেনি বার্সা। স্কোয়াডের পেছনে কত খরচ করতে পারবে, তা এরই মধ্যে জেনে গেছে লা লিগায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্লাবগুলো।

এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড়, কোচ এবং কোচিং স্টাফদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য ভর্তুকি। লা লিগায় ২০টি ক্লাব এসব মিলিয়ে মোট ২২৭৭.১১ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা) খরচ করতে পারবে।

করোনার কারণে গত মৌসুমে ক্লাবগুলো বেশির ভাগ ম্যাচ গ্যালারিতে দর্শক ছাড়াই খেলেছে। এতে ক্লাবগুলোর আয় কমেছে এবং তাতে লা লিগার ক্লাবগুলোর জন্য বেঁধে দেওয়া বেতনসীমাও কমেছে। তবে আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকায় রিয়াল মাদ্রিদকে এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর লা লিগায় বেতনসীমায় শীর্ষে রিয়াল—৭৩৯.১৬ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা)। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ কোটি ইউরো বেতনসীমা বেড়েছে রিয়ালের।

আর্থিক অবকাঠামো তথৈবচ হয়ে পড়ায় বার্সার বেতনসীমা গত মৌসুমের তুলনায় এবার কমেছে ২৮৪.৭৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা)। এবার বার্সার বেতনসীমা মাত্র ৯৭.৯৪ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৯৭৭ কোটি টাকা)।

লিওনেল মেসি বার্সেলোনায় বেতন ও বোনাস মিলিয়ে মৌসুমপ্রতি ১৩ কোটি ৮০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা) পেতেন। অর্থাৎ গোটা স্কোয়াডের জন্য বার্সা এবার যে পরিমাণ অর্থ খরচ করছে, তা মেসিকে দেওয়া বেতনের চেয়েও কম।

গত মৌসুমে (২০২০-২১) ক্লাবটির বেতনসীমা ছিল ৩৮২.৭১ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৮২০ কোটি টাকা)। এবার বার্সার বেতনসীমা এতটাই নিচে নেমেছে যে রিয়াল এই খাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সাত গুণ বেশি পরিমাণ অর্থ খরচের সুযোগ পাচ্ছে।

বেতনসীমার ক্রম তালিকায় লা লিগার ক্লাবগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বার্সা। অ্যাথলেটিক বিলবাও, রিয়াল সোসিয়েদাদ, ভিয়ারিয়াল, আতলেতিকো মাদ্রিদ, সেভিয়া ও রিয়াল মাদ্রিদ বেতনসীমায় তাদের ওপরে।

অবশ্য বার্সার বর্তমান বেতনসীমায় তাকিয়ে রিয়ালের সঙ্গে তুলনাটা বাড়াবাড়ি। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা ওয়াটফোর্ডেরও নিচে ক্লাবটির বেতনসীমা।

ইংলিশ ফুটবলে মাঝারি মানের (লিগ টেবিলে এবার ১২তম) এই দলের স্কোয়াডের পেছনে খরচ ১১১.২ মিলিয়ন ইউরোর (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা) কিছু কম।

ওয়াটফোর্ড ইংলিশ ফুটবলে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। অন্যদিকে বার্সা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পাঁচবার এবং লা লিগায়ও সফল দলগুলোর একটি।

ক্লাবের আয় ও বেতনকাঠামো দেখে বেতনসীমা ঠিক করে দেয় লা লিগা। গত মৌসুমে আনুমানিক ৪৮৭ মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা) আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বার্সা। গত জুনে ক্লাবটির সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা তথ্যটি বলেন, ‘আমরা ৪৮৭ মিলিয়ন ইউরো লোকসানের পথে আছি।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন