default-image

মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফার্নান্দোর ভয়ঙ্কর তিন অস্ত্র—হুগো বোমাস, লিস্টন কোলাসো ও ডেভিড উইলিয়ামস। যদিও কোলাসো, বোমাসের চেয়ে আবাহনীর রক্ষণে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড উইলিয়ামস। ২৮ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে ম্যাচটি এক অর্থে কোমায় পাঠিয়ে দেন এ অস্ট্রেলিয়ান। দুটি গোলই হয়েছে প্রায় একইভাবে। এরপর ৩৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারত উইলিয়ামসের। কিন্তু আবাহনী গোলররক্ষক শহীদুল আলমের দারুণ দক্ষতায় সে যাত্রায় হ্যাটট্রিকটা পাননি তিনি।

উইলিয়ামস যেন বাংলাদেশের ক্লাবের জন্য আতঙ্কের এক নাম। গত বছর বসুন্ধরা কিংসের এএফসি কাপের আন্ত–আঞ্চলিক পর্বে খেলার স্বপ্নটা নষ্ট করে দিয়েছিলেন উইলিয়ামস। পরের পর্বে যেতে বসুন্ধরা কিংসের তখন প্রয়োজন ছিল জয়। গোল করে সেই কাজ এগিয়ে রেখেছিল বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু উইলিয়ামসের গোলে ১–১ ব্যবধানে ড্র করে পরের পর্বে ওঠে মোহনবাগান।

আজও উইলিয়ামসের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ম্যাচের ৬ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে জনি কাউকোর ক্রস, উইলিয়ামস শুধু পা ছুঁয়ে বলের গতি বদলে পাঠান জালে। এরপর ২৮ মিনিটে ২–০ করে মোহনবাগান।

default-image

বাঁ প্রান্তে আক্রমণে ওঠে মোহনবাগান। এবার প্রবীর দাসের ক্রস, উইলিয়ামসের গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো গ্যালারি। ৩৫ মিনিটে দারুণ আক্রমণ নষ্ট হয়েছে মোহনবাগানের। এবার অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বেরিয়ে গিয়েছিলেন উইলিয়ামস। সামনে তখন আবাহনীর গোলরক্ষক শহীদুল আলম। কিন্ত ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে পারলেন না উইলিয়ামস। বলটি ফিস্ট করে ঠেকিয়ে দেন শহীদুল। নিশ্চিত হ্যাটট্রিকের সুযোগটা হাতছাড়া হয় উইলিয়ামসের।

প্রথমার্ধে মোহনবাগানের গতিময় ফুটবলের সামনে রীতিমতো অসহায় লেগেছে আবাহনীকে। আকাশি–নীল দলটা খেলেছে ছন্নছাড়া ফুটবল, ছিল না কোনো বিল্ডআপ। প্রথমার্ধে কোনো গোলের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আবাহনী। প্রথমার্ধে ৬১ ভাগ বল দখলে ছিল মোহনবাগানের ফুটবলারদের পায়ে। ৩৯ ভাগ ছিল আবাহনীর। চোটের কারণে ম্যাচের শুরুতেই কোচ তুলে নেন নাবিব নেওয়াজ জীবনকে। তাঁর বদলে জুয়েল রানাকে নামান কোচ মারিও লেমোস।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ভয়ডরহীন ফুটবল খেলেছে আবাহনী। পিছিয়ে পড়া আবাহনী তখন গোল শোধে মরিয়া। একের পর এক আক্রমণ শাণিয়েও পুরো তিন পয়েন্ট আনতে পারেনি। তবে ৬১ মিনিটে দানিয়েল কলিন্দ্রেসের গোলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতেও শুরু করে আবাহনী। বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে কলিন্দ্রেস করেন দুর্দান্ত গোল। ৬৭ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত আবাহনী। কিন্তু সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জুয়েল। গোলমুখ থেকে তাঁর নেওয়া শট সাইড পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। হতাশ জুয়েল বসে সেদিকে তাকিয়ে রইলেন।

অলআউট ফুটবল খেলেও শেষ রক্ষা হয়নি আবাহনীর। শেষ পর্যন্ত ৮৫ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উইলিয়ামস। গোলরক্ষক শহীদুল বক্স ছেড়ে অনেকখানি বাইরে বেরিয়ে এলে সহজেই তাঁকে পরাস্ত করেন উইলিয়ামস। পেছনে দৌড়ে এসেও বল ক্লিয়ার করতে পারেননি আবাহনীর এক ডিফেন্ডার।

২০১৭ সালে এএফসি কাপে মোহনবাগানের বিপক্ষে সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে ঘরের মাঠে ১–১ গোলে ড্র করলেও কলকাতায় ৩–১ গোলে হেরেছিল আবাহনী। এবারও সেই কলকাতা, এবারও সেই একই স্কোরলাইন!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন