এই হার মেনে নিতে পারছেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–কোচ
এই হার মেনে নিতে পারছেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড–কোচছবি: রয়টার্স

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ উলে গুনার সুলশার প্রচণ্ড খেপেছেন। তুরস্কের ক্লাব ইস্তাম্বুল বাশাকশেহিরের কাছে ২-১ গোলে হারের পর তিনি তো খেপবেনই। ম্যাচটিতে রক্ষণের যে অবস্থা তিনি দেখলেন, তাতে তিনি নিজ শিষ্যদের কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছেন না।

প্রথম থেকেই বাশাকশেহির ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ১২ মিনিটেই দেম্বা বার গোলে তুরস্কের ক্লাবটি এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটেই সেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এদিন ভিসচা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবশ্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল ৪৩ মিনিটেই। কিন্তু অ্যান্থনি মার্শিয়ালের গোলের পর সেখানেই থেমে যায় তারা।

default-image

ম্যাচে ইউনাইটেড খেলোয়াড়দের যে পারফরম্যান্স তাতে নিজের ক্ষোভ সামলাতে পারেননি কোচ সুলশার। তিনি রক্ষণকে রীতিমতো ধুয়েই দিয়েছেন ম্যাচশেষে। প্রথম গোলটির জন্য তিনি দলের রক্ষণকে তিনি ক্ষমা করতে পারবেন না বলেই জানিয়েছেন, ‘প্রথম গোলটি যেভাবে হজম করলাম সেটির জন্য আমি ক্ষমা করতে পারব না ডিফেন্ডারদের। আমাদের রক্ষণ সেনারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।’

বিজ্ঞাপন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কাল যে গোল হজম করেছে, সেগুলো ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে হয় না বলেই মনে করেন সুলশার, ‘এই পর্যায়ে এমন গোল কেউ খাবে না। এমন সহজ গোল হজম করা অপরাধ। যখন মাঠে এমন ভুলভ্রান্তি হবে, তখন ম্যাচ জেতাই তো কঠিন হয়ে যাবে।’

default-image

বাশাকশেহিরের বিপক্ষে এই হার ভাবিয়ে তুলেছে ম্যানচেস্টারের সাবেক তারকাদেরও। পল স্কোলস তো বলেই দিয়েছেন তুরস্কের এই ক্লাবের কাছে হারটা তাঁর জন্য রীতিমতো ‘বিব্রতকর’।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলা ইউনাইটেডের সোনালি সময়ের এই তারকার কাছে মনে হয়েছে অনূর্ধ্ব-১০ দলের খেলা, ‘মনে হচ্ছিল এক দল শিক্ষানবিশ বালক মাঠে খেলছে। আমার কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলের খেলাকে অনূর্ধ্ব-১০ দলের খেলা বলে মনে হয়েছে। মাঠে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ কী করছিল, সত্যি বলতে কি আমার মাথাতেই আসছে না। হজম করা দুটি গোলই ছিল হাস্যকর ও কৌতুক উদ্দীপক।’

প্রিমিয়ার লিগেও সর্বশেষ ম্যাচে আর্সেনালের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিছুদিন আগেই টটেনহামের বিপক্ষে ৬-১ গোলে উড়ে যেতে হয়েছে দলটিকে। আর্সেনালের বিপক্ষে হারের পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে কোচ সুলশারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। নরওয়েজীয় এই কোচ অবশ্য যতই বলেন, অস্থির হওয়ার সময় এখনো আসেনি, ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স কিন্তু বলে দিচ্ছে সুলশারের ওপর ঝুলছে চাকরি হারানো খড়্গ। শনিবার লিগে এভারটনের বিপক্ষে আরও একটি বড় পরীক্ষা দিতে হবে তাঁকে। বাশাকশেহিরের বিপক্ষে হার সেই পরীক্ষাটাকে কঠিনই করে তুলেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0