default-image

কথাটা কতটুকু যৌক্তিক, উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানের সাহায্য নেওয়া যাক।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এ মৌসুমে ২০টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। লিগে ১৫টি, চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫টি। লিগে করেছেন ৮ গোল, করিয়েছেন ৩টি। চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ৬ গোল। তার মানে সব মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ১৪ গোল।

সেরা ফর্মের রোনালদোকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের কাছে এটা খুব আহামরি পরিসংখ্যান মনে হবে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রোনালদোর বয়স এখন ৩৬ চলছে। এই বয়সেও ইউরোপের অন্য নামীদামি স্ট্রাইকারদের চেয়ে পরিসংখ্যানে অন্তত খুব বেশি পেছনে মনে হচ্ছে না তাঁকে।

তারপরও রোনালদোকে নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স দেখার পর। শনিবার রাতের ম্যাচগুলো হয়ে যাওয়ার পর লিগের পয়েন্ট তালিকায় তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে, ১৮ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেড আছে ৭ নম্বরে। লিগে ১৫ ম্যাচের ১৩টিতে শুরুর একাদশে ছিল রোনালদো, বদলি নেমেছেন ২টি ম্যাচে। এই ১৫ ম্যাচের মধ্যে ৭টি জিতেছে ইউনাইটেড, ড্র করেছে ৩টি ম্যাচ, হেরেছে বাকি ৫টিতে। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, যে ৭ ম্যাচে ইউনাইটেড জিতেছে, সবগুলোতেই গোল পেয়েছেন রোনালদো। পর্তুগিজ উইঙ্গার গোল পাননি, এমন কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি ইউনাইটেড। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এরপরও কেন বিশেষজ্ঞরা এমন কথা বলছেন!

default-image

গত ২৭ ডিসেম্বর নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচটার পর গ্যাব্রিয়েল আগবনলাহোর যুক্তি দিয়েছিলেন, রোনালদো শুধু নিজে গোল পাওয়া নিয়েই চিন্তিত থাকেন। দল কেমন খেলল, সেটা তাঁর ভাবনায় নেই। আগবনলাহোরের কথা ছিল, ‘আমার মনে হয়েছে, রোনালদো শুধু নিজের গোল পাওয়া নিয়েই চিন্তিত। পুরো ম্যাচে রোনালদো মুখ কালো করে ঘুরে বেড়িয়েছে। সুযোগ পাচ্ছিল না বলে বারবার হতাশা প্রকাশ করছিল। ম্যাচের পরও মুখ গোমড়া করে মাঠ ছেড়েছে। আমার ধারণা, ড্রেসিংরুমে গিয়েও এমন ছিল সে।’

তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ‘রোনালদো আসার পর থেকে রাশফোর্ড ও গ্রিনউডের ফর্ম পড়ে গেছে। ওরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারছে না। মনে হচ্ছে, ওরা ভাবছে—রোনালদোকে পাস দিতেই হবে, রোনালদোর জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়ী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে নিয়ে পল মারসনের সমালোচনাও অনেকটা এ রকমই। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত আর্সেনালে খেলা সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড মারসনও মনে করেন, ইউনাইটেডের একাদশে রোনালদোকে জায়গা দিতে গিয়ে দলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

default-image

দ্য সানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মারসন বলেছেন, ‘ইউনাইটেড দলটার কথা যদি বলি, আমি মনে করি, রোনালদোকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়া উচিত। আমি জানি, এটা ঘটবে না, কিন্তু তাঁর জায়গায় এদিনসন কাভানির খেলা উচিত, সঙ্গে জাডোন সাঞ্চো, মার্কাস রাশফোর্ড ও ম্যাসন গ্রিনউডের খেলা উচিত।’

রোনালদো থাকায় দলের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশটা নেই বলেও দাবি করেছেন মারসন, ‘কিছু একটা সমস্যা তো চলছেই। আমার মনে হয়, পর্দার আড়ালে অনেক কিছু ঘটছে, যা তাদের (ইউনাইটেডের) জন্য ভালো নয়।’

এভাবে চলতে থাকলে ইউনাইটেডের পক্ষে সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন মারসন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছ থেকে কী আশা করা যায়, সেটাই বোঝার কোনো উপায় নেই। আমি মনে করি না, ওরা সেরা চারে থেকে মৌসুম শেষ করতে পারবে। এই মুহূর্তে তাদের অনেক পেছনে দেখা যাচ্ছে। যদি কোনোভাবে ওরা সেরা চারে থাকতে পারে, তাহলে বলতে হবে, মৌসুমটা দুর্দান্ত কেটেছে ওদের।’

default-image

রোনালদো নিজেও অবশ্য নতুন বছর উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশার কথা বলেছেন, ‘ইউনাইটেডে আমাদের অর্জন নিয়ে আমি খুশি নই। আমাদের কেউই খুশি নয়, আমি নিশ্চিত। আমরা জানি, আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে, আরও ভালো খেলতে হবে, আরও বড় কিছু অর্জন করতে হবে।’

তবে নিজেই নিজেদের সমালোচনা করা আর অন্যের মুখ থেকে সমালোচনা শোনা, দুটোর মধ্যে কিছুটা পার্থক্য তো আছেই। বিশেষ করে অন্য কেউ যদি দলের বাজে পারফরম্যান্সের সব দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে দেন, সেটা রোনালদোর ভালো লাগার কথা না।
আর কিছু ভালো না লাগলে মাঠে সেটার জবাব কী করে দিতে হয়, সেটা তো রোনালদো আগেও দেখিয়েছেন। এবারও যদি দিতে পারেন, সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন ইউনাইটেডের সমর্থকেরাই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন