মেসিদের সঙ্গে গত মৌসুমে সমানতালে খেলার চেষ্টা করেছেন রিকি পুচ।
মেসিদের সঙ্গে গত মৌসুমে সমানতালে খেলার চেষ্টা করেছেন রিকি পুচ। ছবি : এএফপি

বেশ ক'দিন ধরেই রিকি পুচের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা শোনা যাচ্ছিল। বার্সেলোনার একাডেমির অন্যতম প্রধান এই প্রতিভা কী নতুন কোচ রোনাল্ড কোমানের অধীনে আছেন? প্রথমে নেতিবাচক অনেক কিছুই শোনা গিয়েছিল। এখন আবার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বার্সেলোনা। জানা গিয়েছে, পুচকে আগামী মৌসুমে দলে রাখবেন কোমান। ধার বা বিক্রি করে দেবেন না।

রিকি পুচ নিজেও বিভিন্ন সময়ে আকারে-ইঙ্গিতে জানিয়েছেন, যে ক্লাবে খেলে খেলে বড় হয়েছেন, সে ক্লাবের খারাপ সময়ে ছেড়ে যাওয়ার বিন্দুমাত্রও ইচ্ছে নেই তাঁর। সেই ইচ্ছেরই মূল্য দিচ্ছে কাতালান ক্লাবটা। গতকাল নিজের বাবাকে নিয়ে বার্সেলোনার অনুশীলন মাঠে গিয়ে ক্লাবকে স্পষ্ট জানিয়ে এসেছেন, ক্লাব ছাড়ার কথা ভাবছেন না তিনি। পুচের বাবা আবার তাঁর মুখপাত্রও।

default-image

ক্লাবের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের মন বদলাতে পেরেছেন পুচ, স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এস্পোর্তে এটাই জানিয়েছে। ২১ বছর এই তারকাকে রোনাল্ড কোমান চান না, এমন খবর বের হয়ে আসার পর থেকেই অনেক ক্লাব স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে দলে চেয়েছিল। কিন্তু পুচের বিশ্বাস, বার্সাতেই তাঁর উন্নতি হবে সবচেয়ে বেশি। তাই নিজের ক্লাব ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। কোমানের সামনে খেলে কোচকে ভুল প্রমাণ করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর এই তরুণ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে হোয়ান গাম্পার ট্রফির স্কোয়াড থেকে পুচকে বাদ দিয়ে বড় এক ঝড় তুলে দিয়েছিলেন কোমান। এর পরেই বোমা ফাটায় কাতালান রেডিও আরএসিওয়ান। তারা জানায়, নতুন মৌসুমে কোমানের পরিকল্পনায় জায়গা পাচ্ছেন না পুচ। আর এ সিদ্ধান্ত এই তরুণ মিডফিল্ডারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই অন্তত ধারে চলে যাওয়ার জন্য অন্য কোনো ক্লাব খুঁজে নিতে বলা হয়েছে তাঁকে, সেখানে খেলার সময় পাবেন পুচ।

ক্লাবে এসেই অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া খেলোয়াড়দের বের হওয়ার দরজা দেখাচ্ছেন কোমান। ত্রিশোর্ধ্ব লুইস সুয়ারেজ , আর্তুরো ভিদালদের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। ভিদাল চলে গেছেন ইন্টার মিলানে, ওদিকে সুয়ারেজের গন্তব্য লিগ প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদ। ইভান রাকিতিচও চলে গিয়েছেন সেভিয়ায়। কিন্তু মাত্র ২০ বছর বয়সী পুচে কোমানের এমন অনাগ্রহের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউ।

default-image

কিন্তু এই পুচই গত মৌসুমে আশার আলো হয়ে এসেছিলেন কাতালানপাড়ায়, আনসু ফাতির সঙ্গে। ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সীর সব রেকর্ড ভেঙে নামটা বেশি ছড়িয়েছে আনসু ফাতির। কিন্তু বয়সে ঋদ্ধ এক মধ্যমাঠের একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে পুচও কম আলো ছড়াননি। এই মিডফিল্ডারের মধ্যে কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ছাপ পাওয়া যাচ্ছিল। চটপটে এই খেলোয়াড় দারুণ ছন্দে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে নিতে জানেন। ওয়ান-টু-ওয়ানেও দক্ষ।

কোমানের এই সিদ্ধান্তের খবর বের হয়ে আসার পর থেকে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরক্তি দেখা গিয়েছিল। বার্সার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সমর্থকেরা এখন নিশ্চয়ই হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন!

মন্তব্য পড়ুন 0