বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

তা ক্লপ আর গার্দিওলা যখন প্রতিপক্ষের প্রশংসা আর নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে ভাবনায় ব্যস্ত, চেলসি কোচ টমাস টুখেল হয়তো হৃষ্টচিত্তে লিগের পয়েন্ট তালিকার দিকে তাকাচ্ছেন। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ দাপুটে ফুটবল খেলে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠে ৩-০ গোলে জিতেছে চেলসি। লিভারপুল আর সিটির পয়েন্ট হারানোর রাতে চেলসির এই জয় তাদের ৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তুলে নিল।

লিগে ১০ ম্যাচ শেষে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চেলসি, দুইয়ে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ২২। গার্দিওলার ম্যান সিটি ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে। দিনের প্রথম ম্যাচে লেস্টার সিটির মাঠে ২-০ গোলে জেতা আর্সেনাল ১০ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে পাঁচ নম্বরে। সিটির কাছে ৫-০ গোলে হারের পর থেকে এ নিয়ে টানা ৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকল আর্সেনাল। পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে থাকা ওয়েস্ট হাম (৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট) আগামীকাল খেলবে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে।

সৌদি মালিকানায় যাওয়ার পর এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাব নিউক্যাসলের মাঠে প্রথমার্ধে গোলশূন্যই ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির গোলগুলো এসেছে অপরিচিত উৎস থেকে। ৬৫ মিনিটে রাইটব্যাক রিস জেমসের গোলে চেলসির এগিয়ে যাওয়া, ১২ মিনিটে জেমসেরই দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ।

দুটি গোলই ছিল দেখার মতো! প্রথমটি বক্সের বাঁ দিক থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে, পরেরটিও জোরালো শটেই, তবে বক্সের প্রায় মাঝামাঝি থেকে ডান পায়ে। ৮১ মিনিটে চেলসির তৃতীয় গোলটি জর্জিনিওর, করেছেন পেনাল্টি থেকে।

চেলসি যখন গোল–উচ্ছ্বাসে ভাসছে, লিভারপুল আর ম্যান সিটি গোলের খোঁজে হন্যে হয়ে ছুটছে। অ্যানফিল্ডে শুরুটা অবশ্য দারুণভাবেই করেছিল লিভারপুল, ২৪ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল ২-০ গোলে। ৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে প্রথম গোলটি জর্ডান হেন্ডারসনের, চেম্বারলেইনের ক্রসে হেড করে দ্বিতীয় গোলটি সাদিও মানের। এর কিছুক্ষণ পর হ্যান্ডবলে মানেরই আরেকটি গোল বাতিল না হলে ৩-০ গোলেই এগিয়ে যেত লিভারপুল।

default-image

কিন্তু ওই গোল বাতিল হওয়ার পর ফিরে আসে ব্রাইটন। এই মৌসুমে সালজবুর্গ থেকে যোগ দেওয়া মোয়েপুর গোলে ৪১ মিনিটে ব্যবধান কমানো ব্রাইটন দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে চেপে ধরে লিভারপুলকে। ব্রাইটন কোচের ‘ফলস নাইন’ কৌশলের কারণে লিভারপুল যেন অনেকটা হতবুদ্ধিই হয়ে পড়ে, হেন্ডারসন-রবার্টসন-ফন ডাইকদের ক্লান্তিও চোখে পড়েছে।

সেটির সুবিধা তুলে নিয়েছে ব্রাইটন। ৬৫ মিনিটে দারুণ পাল্টা আক্রমণে ৫ পাসেই নিজেদের বক্স থেকে উঠে আসে, যেটির সমাপ্তিতে লিয়ান্দ্রো ত্রসার্দের শট জড়ায় লিভারপুলের জালে। ড্র করলেও বরং জয় না পাওয়ার হতাশাই বেশি থাকার কথা ব্রাইটনের!

সিটির মাঠ থেকে প্যালেস আর সেসব হতাশা নিয়ে ফেরেনি। ভিয়েরার অধীনে গতিশীল, আক্রমণাত্মক পাসিং ফুটবলে দলটা যে এগিয়ে চলছে, সেটিরই প্রমাণ যেন রেখে গেছে সিটির মাঠে তাদের ২-০ গোলের জয়টি। ৬ মিনিটে উইলফ্রায়েড জাহার গোলে এগিয়ে যায় প্যালেস, এরপর বিরতির আগে ১০ জনের হয়ে পড়া সিটির পক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে আর ফেরা সম্ভব হয়নি।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য দুই দলের দুটি গোল বাতিল হয়েছে ভিএআরে। প্রথমে প্যালেসের জাহার গোল বাতিল হলো, তার মিনিট দুয়েক পর সিটির হয়ে বল জালে জড়ান গাব্রিয়েল জেসুস। কিন্তু ভিএআরে দেখা যায়, যাঁর পাস থেকে গোলটা হয়েছে, সেই ফিল ফোডেন গোলের পথে আক্রমণের সময়ে মিলিমিটার ব্যবধানে অফসাইড ছিলেন।

সিটির সেই হতাশা ঘুচবে কি, উল্টো ৮৮ মিনিটে কনর গ্যালাঘারের গোলে প্যালেস এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে। সিটি সমর্থকেরা হতাশ, অ্যানফিল্ডে লিভারপুল সমর্থকেরাও সিটির হারের আনন্দে মজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। আর চেলসি সমর্থকদের আনন্দ হয়তো বাঁধ মানছে না!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন