শেখ রাসেলকে হারিয়ে দিয়েছে সাইফ।
শেখ রাসেলকে হারিয়ে দিয়েছে সাইফ।ছবি: প্রথম আলো

লিগে প্রথম সাত ম্যাচ খেলে মাত্র এক হার শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের। আজ জিতলেই তারা লিগে দুইয়ে চলে যেত। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ করতে দেয়নি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত শেখ রাসেলকে ২–১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছে সাইফ।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে উভয় দল। মোট তিন গোলের দুটি এসেছে স্থানীয় ফুটবলারদের পা থেকে। প্রথমার্ধে মোহাম্মদ আবদুল্লাহর গোলে রাসেলের এগিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমে রিয়াদুল হাসানের গোলে আবার সমতায় ফিরেছে সাইফ। তবে সাইফের জয় এনে দিয়েছেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার সিরোজিদ্দিন রাখমাতুলেভ। ম্যাচটি আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত সাইফ। গোলরক্ষককে একা পেয়েও দুবার গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের নাইজেরিয়ার মিডফিল্ডার জন ওকোলি।

সেটি না হলেও শেখ জামালের বিপক্ষে বাজে হার থেকে ঘুরে দাঁড়াল পল পুটের দল। আগের ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩ গোলে হেরেছিল তারা। আজ পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছে। এই জয়ে ৭ ম্যাচ শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে সাইফ। এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে শেখ রাসেল।

বিজ্ঞাপন

করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তিন ম্যাচ ধরে দলের বাইরে শেখ রাসেলের প্রধান কোচ সাইফুল বারী। কোচের সঙ্গে আজ গুরুত্বপূর্ণ দুই বিদেশি খেলোয়াড় ওবি মোনেকে ও বখতিয়ার দুশবেকভ ছিলেন মাঠের বাইরে। আগের ম্যাচে আরামবাগের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা মোনেকের সঙ্গে চোটাক্রান্ত দুশবেকভও। তাঁদের না থাকার অভাবটা ঠিকই ফুটে উঠেছে। তবে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আজ খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার জিয়ানকার্লো রদ্রিগেজ। কিন্তু করোনার ধকলটা ঠিকই ফুটে উঠেছে তাঁর খেলায়।

সমস্যায় জর্জরিত থাকা দলের আশার আলো হয়ে এসেছিলেন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ২০ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আবদুল্লাহর বাঁ পায়ের জোরালো শট সাইড পোস্ট লেগে ফিরে এসে সাইফ গোলরক্ষক সাইফুল ইসলামের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের লিগে এটি চতুর্থ গোল।

সাত মিনিট পরে বাঁ পায়ে আরও একটি দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন আবদুল্লাহ। বলের লাইনে থেকে সেটি ফিস্ট করেছেন সাইফ গোলরক্ষক। এর মাঝে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন সাইফের নাইজেরিয়ান মিডফিল্ডার জন ওকোলি। ফয়সাল আহমেদের থ্রুতে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্সের মধ্যে ঝড়ের গতিতে ঢুকলে তাঁর সামনে ছিলেন শুধু গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম। জোরে শট নিতে গিয়ে মারলেন আশরাফুলের হাতে।

default-image

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দুটি বদলি আনেন সাইফের বেলজিয়াম কোচ। এর মধ্যে আবু শাহিদের জায়গায় উজবেক মিডফিল্ডার সিরোজিদ্দিনের মাঠে নামাটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। উজবেক এই মিডফিল্ডারের উপস্থিতেতেই বদলে যায় সাইফের আক্রমণের গতি। ৫৭ মিনিটে রিয়াদুলের সমতা ফেরানোর গোলে আছে সিরোজিদ্দিনের অবদান। তাঁর ক্রস থেকে প্রথমে ইয়াসিন আরাফাত হেড নিলে সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সেন্টার ব্যাক ও অধিনায়ক রিয়াদুলের ফ্লাইং হেডে গোল।

৭৪ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করলেন সিরোজিউদ্দিন। বাঁ প্রান্ত থেকে লেফট ব্যাক ইয়াসিন আরাফাতের ক্রস আশরাফুলের হাত ফসকে বের হয়ে যায়। ফলো থ্রুতে থাকার ফল পেয়েছেন সিরোজিউদ্দিন। সামনে পড়া বল শুধু টোকা দিয়ে জালে জড়ানোর কাজটি করেছেন এই মিডফিল্ডার। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪–২ হলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। যোগ করা সময়ে দুটি গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন ইকেচুকু কেনেথ ও ওকোলি। প্রথমটিতে গোলরক্ষকে একা পেয়েও ব্যর্থ কেনেথ ও দ্বিতীয়টিতে কেনেথকে নিয়ে মিলেমিশে মিস করেছেন ওকোলি। দুটি গোল মিসের ভিডিও দেখলে তাঁরা নিজেরাই যে অবাক হবেন, এ নিয়ে কোনো ভুল নেই।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন