জুভেন্টাস আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেই মনে করেন রোনালদো।
জুভেন্টাস আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলেই মনে করেন রোনালদো। ছবি: রয়টার্স

একটি জয়, যেটি ছিল অর্থহীন। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠে পোর্তোর বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতেও পরের রাউন্ডে ওঠা হয়নি জুভেন্টাসের। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ গোলে সমতায় থাকা লড়াইয়ে অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে শেষ আটে উঠেছে পোর্তো। ম্যাচটিতে রোনালদোর একটি ভুল চোখে পড়েছে সবার। তাঁর পায়ের নিচ দিয়ে চলে যাওয়া বল জালে ঢুকেছে জুভেন্টাসের। সেই গোলটিই আসরে শেষ ষোলো থেকে ছিটকে ফেলেছে জুভদের।

ওই ম্যাচের পর জুভেন্টাসকে নিয়ে হতাশ দলটির সাবেক তারকারা। হতাশ তারা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়েও। জুভেন্টাসের সমর্থকেরা তো রীতিমতো খলনায়ক বানিয়ে দিয়েছেন রোনালদোকে। আর দলটির সাবেক সভাপতি জিওভান্নি কোবোল্লি তো কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, রোনালদোকে বিক্রি করে দেওয়া উচিত! পরিস্থিতি যখন এই, মুখ খুলেছেন রোনালদো। সব সমালোচনা শুনে এককথায় তিনি বলেছেন, ‘সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা কখনো ভেঙে পড়ে না!’

বিজ্ঞাপন

কোবোল্লি রোনালদোর অনেক সমালোচনা করলেও তাঁকে সত্যিকারের এক চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় বলে আখ্যা দিয়েছেন। রোনালদো অবশ্য নিজেকে নয়, সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন বলেছেন তাঁর সতীর্থদের, সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন বলছেন তাঁর দলকে। জুভেন্টাসের পরের ম্যাচটি সিরি ‘আ’তে, কালিয়ারির বিপক্ষে। সেই ম্যাচ দিয়ে জুভেন্টাস ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করেন রোনালদো, ‘সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নরা কখনো ভেঙে পড়ে না। আমাদের পুরো মনোযোগ এখন কালিয়ারি ম্যাচে। আমরা এখন সিরি ‘আ’, ইতালিয়ান কাপ আর এ মৌসুমে অন্য যা কিছু জিততে পারি; সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’

default-image

সবার জীবনেই চড়াই-উতরাই আসে। রোনালদোও সেটা জানেন। চড়াই-উতরাই রোনালদোর ক্যারিয়ারেও অনেক এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেটা জুভেন্টাসের পর্তুগিজ তারকা ভালো করেই জানেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জুভেন্টাসের সতীর্থদের একটা পরামর্শ দিয়েছেন রোনালদো, ‘জীবনে পা হড়কানোর পর যত দ্রুত শক্তভাবে উঠে দাঁড়ানো গেল, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ার পর যে জুভেন্টাসে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে। কদিন আগেও জুভেন্টাসের সমর্থকেরা আর ইতালির সংবাদমাধ্যম তাঁকে আখ্যা দিয়েছিল ‘চিরসবুজ’ হিসেবে। জুভেন্টাসে নাম লেখানোর পর থেকেই একের পর এক গোল করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ওই এক ম্যাচের ব্যর্থতার পর অনেকেই তাঁকে বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জুভেন্টাসকে।

default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৩৪ গোল করা ৩৬ বছর বয়সী রোনালদো বলেছেন, ‘এটা সত্যি যে অতীত জাদুঘরেই থাকে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত ফুটবলের স্মৃতি রয়ে যায়...আমার ক্ষেত্রেও তাই।’ রোনালদো এর সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘ইতিহাস বাতিল করে দেওয়া যায় না...যারা এগুলো বোঝে না তারা কখনোই সাফল্য পেতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন