বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যদিও সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা কিংবা লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ—কেউই এখন এই ট্রেবল-কোয়াড্রপল নিয়ে একটা টুঁ শব্দও করছেন না। ওই যে, যদি কুফা লেগে যায়!

কিন্তু এ কথাও সত্যি, এমন অবিস্মরণীয় অর্জনের পথটাও সুগম হবে না। এই দুই দল বর্তমানে তর্কসাপেক্ষে ফুটবলেরই সবচেয়ে কঠিন দুই প্রতিপক্ষ। এফএ কাপ, প্রিমিয়ার লিগ—দুই টুর্নামেন্টেই সিটি আর লিভারপুল একে অন্যের মুখোমুখি হবে। চ্যাম্পিয়নস লিগেও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বেশ। এক দলের হাতে মৃত্যু ঘটবে আরেক দলের স্বপ্নের, প্রত্যেক টুর্নামেন্টেই এক দলের রাস্তায় কাঁটা বিছিয়ে দেওয়ার জন্য হাজির আরেক দল। এফএ কাপের সেমিফাইনালে আজ ওয়েম্বলিতে মুখোমুখি হবে দুই দল, নিজ নিজ সেমিফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠলেও দেখা হবে তাদের। আর প্রিমিয়ার লিগের কথা তো বলাই বাহুল্য, সমানে-সমান টেক্কা দিয়ে যাওয়া দুই দল গত সপ্তাহেই নিজেদের মধ্যে মুখোমুখি হয়েছে একবার, যেখানে সিটির মাঠে গিয়ে ২-২ গোলে ড্র করে এসেছে লিভারপুল।

default-image

অর্থাৎ, দুই দলের সামনেই মাসখানেকের ব্যবধানে তিন প্রতিযোগিতায় তিন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার হাতছানি। সম্প্রতি ইংলিশ ফুটবলের ‘ক্লাসিকো’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ম্যাচটা পরপর তিনবার হলেও হতে পারে—দুই দলের সমর্থকদের জন্য তো বটেই, নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্যেও এক মহার্ঘ্য যেন। পেপ গার্দিওলা নিজেও আঁচ পাচ্ছেন এই উত্তেজনার। তাঁর কাছে এটিকে বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের ‘এল ক্লাসিকো’-র চেয়েও কম উত্তেজনার বলে মনে হচ্ছে না।

২০১০-১১ মৌসুমের এপ্রিল-মেতে ঠিক এভাবেই ১৭ দিনের ব্যবধানে টানা চার ম্যাচ খেলেছিল রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনা। ১৭ দিনের মধ্যে চার-চারবার জোসে মরিনিওর কৌশল ব্যর্থ করার পরিকল্পনা করতে হয়েছিল গার্দিওলাকে। এবারের ব্যাপারটাও ঠিক ওরকমই মনে হচ্ছে গার্দিওলার কাছে, ‘আমি যখন বার্সেলোনায় ছিলাম, ঠিক ওই সময়ের মতো মনে হচ্ছে। আমরা দশ দিনের ব্যবধানে (আসলে ১৭) মাদ্রিদের বিপক্ষে চারবার খেলেছিলাম। আমার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এমন হচ্ছে। একই দলের বিপক্ষে লড়ছি বারবার।’

default-image

সেবার অবশ্য চার ম্যাচের তিনটিতে গার্দিওলার বার্সেলোনাই ছড়ি ঘুরিয়েছিল মরিনিওর রিয়ালের ওপর। লিগ ম্যাচে ড্র করেছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই লেগ মিলিয়ে জিতে উঠেছিল ফাইনালে। মরিনিওর রিয়ালের একমাত্র জয়টাও অবশ্য একেবারে ফেলনা নয়—কোপা দেল রে’র ফাইনালে!

অবশ্য সেবার গার্দিওলার বার্সা মরিনিওর রিয়ালের বিপক্ষে ১৭ দিনের ব্যবধানে ৪ বার খেলতে নামলেও, এবার ক্লপের লিভারপুলের বিপক্ষে অত অল্প সময়ের ব্যবধানে অত বেশি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে না। মৌসুমের এই পর্যায়ে একে অন্যের বিপক্ষে সর্বোচ্চ তিনটা ম্যাচ খেলতে পারবে সিটি-লিভারপুল, যার একটা এর মধ্যেই হয়ে গেছে। দ্বিতীয় পর্ব মঞ্চস্থ হবে আজ। তৃতীয় পর্ব আদৌ মঞ্চস্থ হয় কি না, সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল পর্বের শেষ পর্যন্ত। নিজ নিজ ম্যাচ জিতলেই কেবল নিজেদের সম্ভাব্য ‘ট্রিলজি’র শেষ পর্ব রচনা করার সুযোগ পাবেন ক্লপ-গার্দিওলা।

আপাতত দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষা। মঞ্চ এফএ কাপ সেমিফাইনালের। প্রস্তুত ওয়েম্বলি। প্রস্তুত লিভারপুল-সিটিও।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন