বিজ্ঞাপন

দল: সুইজারল্যান্ড

ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ১৩

দলে আছেন যাঁরা

গোলকিপার

ইয়ান সোমের (বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), ইভন এমভোগো (পিএসভি), ইয়োনাস অমলিন (মঁপেলিয়ে)

সেন্টারব্যাক

নিকো এলভেদি (বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), ম্যানুয়েল আকাঞ্জি (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), লরিস বেনিতো (বোর্দো), ফাবিয়ান শায়ের (নিউক্যাসল ইউনাইটেড), বেচির ওমেরাগিচ (জুরিখ), ইয়েরেই কোয়েমের্ত (এফসি বাসেল)

রাইটব্যাক/রাইট উইংব্যাক

কেভিন এমবাবু (ভলফসবুর্গ), সিলভান উইদমার (এফসি বাসেল), জর্ডান লোতোম্বা (নিস)

লেফটব্যাক/লেফট উইংব্যাক

রিকার্দো রদ্রিগেজ (তোরিনো), স্টিভেন জুবার (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট)

সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার/ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার

গ্রানিত শাকা (আর্সেনাল), রেমো ফ্রয়লার (আতালান্তা), ডেনিস জাকারিয়া (বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), জিব্রিল সো (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট)

অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার

এদিমিলসন ফার্নান্দেস (মাইঞ্জ), জের্দান শাকিরি (লিভারপুল)

উইঙ্গার/ওয়াইড মিডফিল্ডার

ব্রিল এমবোলো (বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), রুবেন ভারগাস (অগসবুর্গ), ক্রিস্টিয়ান ফাসনাখট (ইয়ং বয়েজ)

স্ট্রাইকার

হারিস সেফেরোভিচ (বেনফিকা), আদমির মেহমেদি (ভলফসবুর্গ), মার্কো গাভরানোভিচ (দিনামো জাগরেব)

default-image

কোচ

ভ্লাদিমির পেতকোভিচ

অধিনায়ক

গ্রানিত শাকা

ইউরোয় সেরা সাফল্য

দ্বিতীয় রাউন্ড (২০১৬)

গ্রুপে প্রতিপক্ষ

ওয়েলস (১২ জুন)

ইতালি (১৬ জুন)

তুরস্ক (২০ জুন)

default-image

শক্তি

দলটার সবচেয়ে শক্তির জায়গা মাঝমাঠ। শাকা, শাকিরি, জুবার, ফ্রয়লার, জাকারিয়ার মতো অনেক মিডফিল্ডার আছে, যাঁরা কোচের আদেশ পালন করতে পারেন অক্ষরে অক্ষরে। বুন্দেসলিগায় খেলার কারণে প্রেসিংটাও বেশ ভালোই রপ্ত আছে তাঁদের। কাগজে-কলমে দলটার রক্ষণও বেশ সমীহজাগানিয়া।

দুর্বলতা

সুইজারল্যান্ডের গোল করায় বড্ড অনীহা। মূল স্ট্রাইকার সেফেরোভিচ গোল করার জন্য ঠিক পরিচিত নন; বরং একটু নিচে নেমে খেলা গড়ে দেওয়া, উইঙ্গারদের জায়গা বানিয়ে দেওয়া, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের টেনে এনে ইনসাইড ফরোয়ার্ডদের ঢুকতে সাহায্য করা—সেফেরোভিচ এসব কাজে বেশ পটু। ব্রিল এমবোলো ও শাকিরির গতি থাকলেও ক্লাব ক্যারিয়ারে সেভাবে গোল করতে পারছেন না, যা চিন্তায় ফেলতে পারে সুইসদের।

default-image

সম্ভাব্য একাদশ ও খেলার কৌশল (৩-৪-২-১)

সুইজারল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ এই ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। দলকে টানা দুই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলেছেন। কিন্তু ওই পর্যন্তই। দলকে আরও ওপরে তোলার বাসনা থেকেই কিনা, পছন্দের ৪-৪-২ ছক থেকে বেরিয়ে এসে ৩-৪-২-১ ছকে খেলানো শুরু করেছেন দলকে। এর পেছনে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, নির্ভরযোগ্য রাইট উইংব্যাক, সাবেক জুভেন্টাস, আর্সেনাল ও লাৎসিও তারকা স্টেফান লিচস্টাইনারের অবসর।

এই পোড় খাওয়া ডিফেন্ডারের অবসরের কারণে রক্ষণ ও আক্রমণের মান, নেতৃত্বগুণ—সব দিক দিয়েই একটু করে পিছিয়েছে সুইজারল্যান্ড। সেই পেছানোটা যেন দলের ইউরো–স্বপ্নে আঘাত না হানতে পারে, এ জন্যই পেতকোভিচ ৩-৪-২-১ ছকে খেলানো শুরু করেছেন দলকে।

default-image

গোলবারের নিচে ইয়ান সোমেরের জায়গা নিশ্চিত। তিন সেন্টারব্যাকের মধ্যে বাঁ দিকের জায়গাটায় খেলবেন এসি মিলানের সাবেক তারকা রিকার্দো রদ্রিগেজ, যিনি কিনা আগে লেফটব্যাক হিসেবেই খেলতেন। ডান দিকের সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলবেন বল পায়ে দক্ষ, পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার কাজে পটু নিকো এলভেদি।

মাঝের জায়গাটা নিয়ে লড়াই হবে ডর্টমুন্ডের ম্যানুয়েল আকাঞ্জি ও নিউক্যাসলের ফাবিয়ান শায়েরের মধ্যে। ডিফেন্ডার হিসেবে আকাঞ্জির চেয়ে শায়ের তুলনামূলকভাবে ভালো। হুটহাট গোলও করে বসেন। কিন্তু পেছন থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ব্যাপারে আকাঞ্জির জুড়ি নেই।

মাঝমাঠে আর্সেনালের গ্রানিত শাকার সঙ্গে খেলবেন আতালান্তার রেমো ফ্রয়লার। শাকা যেন ঠিকঠাক আক্রমণ গড়ে দিতে পারেন, সেটা ক্রমাগত দৌড়ানো, ট্যাকল করা ও বল কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করবেন ফ্রয়লার, যে কারণে বেঞ্চে বসে থাকতে হবে ডেনিস জাকারিয়ার মতো দুর্দান্ত মিডফিল্ডারকে।

default-image

দুই উইংব্যাক হিসেবে বাঁয়ে মিডফিল্ডার স্টেফান জুবার ও ডানে কেভিন এমবাবুর খেলার সম্ভাবনা বেশি সবচেয়ে।

আক্রমণভাগে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন বেনফিকার বর্ষীয়ান স্ট্রাইকার হারিস সেফেরোভিচ। পেছনে দুই ইনসাইড ফরোয়ার্ডের জায়গা নেবেন লিভারপুলের জের্দান শাকিরি ও মনশেনগ্লাডবাখের ব্রিল এমবোলো।

সেফেরোভিচ নিজে অত গোল করতে পারেন না, কিন্তু দলগত খেলায় বেশ ভালো অবদান রাখতে পারেন। বল ধরে রেখে নিচে নেমে এসে শাকিরি ও এমবোলোদের সাহায্য করবেন, যাতে তাঁরা নিজেদের গতির সাহায্যে ওপরে উঠে যেতে পারেন।

আমরা সব সময় আমাদের নিজেদের খেলাই খেলতে চাই। আমাদের খেলার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো প্রেসিং। আমরা কখনো প্রতিপক্ষ বিবেচনা করে নিজেদের খেলার ধরন পাল্টাই না, আর এটা করি প্রতিপক্ষের সামর্থ্যের প্রতি সম্মান রেখেই
ভ্লাদিমির পেতকোভিচ, সুইস কোচ

প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

নকআউট রাউন্ডে ম্যাচ জিততে হলে নকআউট পর্ব পর্যন্ত উঠতে হবে অন্তত। এই গ্রুপে ইতালি ছাড়া বাকি তিন দলই মোটামুটি একই মানের, ফলে সুইজারল্যান্ড অবশ্যই চাইবে ওয়েলস বা তুরস্ককে টপকে নকআউট পর্বে উঠতে। এর থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা হয়তো বাস্তবতার নিরিখে অমূলক হবে দলটার জন্য।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন