গোলের পর অবামেয়াংয়ের উচ্ছ্বাস।
গোলের পর অবামেয়াংয়ের উচ্ছ্বাস। ছবি: প্রিমিয়ার লিগ

পেনাল্টি কমবেশি সবাই পায়, নাম হয় শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের!

ম্যানচেস্টারের লাল অংশের সমর্থকেরা গোসসা করে এমনটা বলতেই পারেন। গত মৌসুম থেকেই যে ইউনাইটেড সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি পায় বলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা প্রচারণা চলছে। সেই পেনাল্টিই আজ নিজেদের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে এল ইউনাইটেডের হতাশার নাম হয়ে। ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে আজ ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল, ৬৯ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আর্সেনাল স্ট্রাইকার পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং করেছেন পেনাল্টি থেকেই!

ইউনাইটেডকে জড়িয়ে পেনাল্টি নিয়ে প্রচারণার একেবারে যে ভিত্তি নেই, তা-ও নয়। গত মৌসুমে লিগে ১৪টি পেনাল্টি পেয়েছিল ইউনাইটেড, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। ১০টির বেশি পেনাল্টিই পেয়েছিল আর শুধু একটি দল—ম্যানচেস্টার সিটি (১১টি)।
এবার অবশ্য এখন পর্যন্ত ইউনাইটেড পেনাল্টি পেয়েছে ৩টি। এর চেয়ে বেশি পেনাল্টি পেয়েছে লেস্টার সিটি (৫টি) ও চেলসি (৪টি)। ৩টি করে পেনাল্টি পেয়েছে শেফিল্ড, লিভারপুল ও নিউক্যাসলও। অন্যদিকে গত মৌসুমে নিজেদের পক্ষে ৪টি পেনাল্টি পাওয়া আর্সেনালের আজকের পেনাল্টিটি ছিল এই মৌসুমে তাদের প্রথম!

বিজ্ঞাপন

পেনাল্টি নিয়ে কচকচানি বাদ দিলেও আজকের ম্যাচে হয়তো আর্সেনালের জয়ই প্রাপ্য ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে এসে ইউনাইটেড যা একটু দাপট দেখিয়েছে, এর আগে প্রায় পুরোটা সময়ে তো দাপট ছিল আর্তেতার আর্সেনালেরই! উইলিয়ান-লাকাজেতরা যেন ইউনাইটেডের পগবা-রাশফোর্ড-ফার্নান্দেজদের চেয়ে বল পায়ে ছিলেন বেশি ক্ষুরধার!
দাপটটা প্রথমার্ধেই ছিল বেশি।

default-image

কতটা নিষ্প্রাণ তখন ছিল ইউনাইটেড, সেটির প্রমাণ পরিসংখ্যানও দেয়। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে আর্সেনালের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটিই শট নিতে পেরেছে ইউনাইটেড—২০১৫ সালের অক্টোবর (ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যাচে) থেকে নিজেদের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে যা প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে যা ইউনাইটেডের সর্বনিম্ন! ২১ মিনিটে রাশফোর্ডের দারুণ পাসে বল পেয়ে ম্যাসন গ্রিনউডের সে শটটি অবশ্য আর্সেনাল গোলকিপার বার্নড লেনো দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন।

এর আগে-পরে প্রথমার্ধজুড়ে পুরোটাই আর্সেনালের দাপট। ১৫ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আর্সেনাল। ডান দিক থেকে রাইটব্যাক এক্তর বেয়েরিনের ক্রসে শুধু পা ছোঁয়ালেই হতো পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াংয়ের, কিন্তু তা করতে ব্যর্থ আর্সেনাল অধিনায়ক।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও চেপে ধরে আর্সেনাল। ৩৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে অবামেয়াংয়ের ক্রসে ইউনাইটেড ডিফেন্ডার ভিক্তর লিন্দেলভ কোনোরকমে পা ছোঁয়ানোয় বেঁচে যায় ইউনাইটেড। পাসটা বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো আর্সেনাল স্ট্রাইকার আলেজান্দ্রো লাকাজেতের দিকেই যাচ্ছিল, লাকাজেত শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লিন্দেলভ বলে পা ছোঁয়ানোয় বল আর লাকাজেতের পায়ে লাগেনি, বাতাসেই শটটা মারেন লাকাজেত।

এর দুই মিনিট পর ডান দিক থেকে অবামেয়াংয়ের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ে শট নেন উইলিয়ান, কিন্তু শট বারে চুমু খেয়ে চলে যায় বাইরে। বিরতির ঠিক আগের মুহূর্তে বেয়েরিনের ক্রসে আর্সেনাল মিডফিল্ডার সাকার হেড বার উঁচিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ইউনাইটেড কিছুটা ম্যাচে ফিরেছে।

তবে ভালো সুযোগ বলতে যা বোঝায়, দ্বিতীয়ার্ধেও তেমন সুযোগ আগে পেয়েছে আর্সেনালই। ৫২ মিনিটে ইউনাইটেড মিডফিল্ডার ফ্রেডের পা থেকে বল কেড়ে নেন আর্সেনালের লাকাজেত, তাঁর পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শট নেন অবামেয়াং। কিন্তু শটটা পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়। এরপর ৬৮ মিনিটে আসে আর্সেনালের গোলের মুহূর্ত। নিজেদের বক্সে আর্সেনালের রাইটব্যাক বেয়েরিনের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে গিয়েছিলেন ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার পল পগবা, কিন্তু পগবার পায়ের আঘাত লাগে বেয়েরিনের অ্যাঙ্কেলে। ব্যস, পেনাল্টি! সেটি থেকে গোল করতে কোনো সমস্যাই হয়নি অবামেয়াংয়ের!

বিজ্ঞাপন

পগবার এতে একটা হতাশার রেকর্ডও হলো! উলে গুনার সুলশার ইউনাইটেডের কোচ হয়ে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ দলগুলো ৩টি পেনাল্টি পেয়েছে পগবার কারণে, ইউনাইটেডের আর কোনো খেলোয়াড় একটির বেশি পেনাল্টি দেননি।

তা ওই পেনাল্টিতে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে একটু রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্সেনাল। চারজনের দুটি রেখায় রক্ষণ চালিয়ে পাল্টা আক্রমণে যাওয়াই তখন ছিল আর্সেনাল কোচ আর্তেতার কৌশল।

আর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ইউনাইটেডের কোচ সুলশার একে একে নামান স্ট্রাইকার এদিনসন কাভানি ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ডনি ফন ডি বিককে। ৮৫ মিনিটে ম্যাচে প্রায় সমতা ফিরিয়েই ফেলেছিল ইউনাইটেড! ডি বিকের ক্রস আর্সেনাল মিডফিল্ডার এলনেনির পায়ে লেগে দিক বদলায়, আর্সেনাল গোলকিপার লেনো তখন অসহায়! কিন্তু বলটা পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

বাকি সময়টা বিপদ ছাড়াই পার করে আর্সেনাল। ইউনাইটেডের বিপক্ষে এ নিয়ে লিগে সর্বশেষ ৪ ম্যাচের ৩টিই জিতল আর্সেনাল, অন্যটি হয়েছে ড্র। আর ইউনাইটেডের আরও বড় হতাশা? নিজেদের মাঠে এবারের লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের একটিও জিততে পারেনি সুলশারের দল। ড্র একটি, হেরেছে তিনটি!

এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট হলো আর্সেনালের। আর ইউনাইটেডের পয়েন্ট ৬ ম্যাচে ৭!

মন্তব্য পড়ুন 0