বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হেজাজী কিংবা সামির শাকিরের নাম বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ হিসেবে লেখা আছে ইতিহাসে। হেজাজী ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রতিনিধি ইরানের গোলকিপার ছিলেন। এশিয়ার অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবে পরিচিত হেজাজী ১৯৮৭ সালে কোচ কাম খেলোয়াড় হিসেবে মোহামেডানে নাম লেখান। খেলোয়াড় হিসেবে নাম রেজিস্ট্রেশন হলেও তাঁর কোচ পরিচয়টাই বড় হয়ে ওঠে। সাতাশির লিগে খেলেছিলেন কেবল একটি ম্যাচ। মোহামেডানকে তিনি ১৯৮৭, ১৯৮৮-৮৯—পরপর দুই মৌসুম লিগ জেতান। ক্লাবের হয়ে সাফল্যের কারণেই ১৯৮৯ ইসলামাবাদ সাফ গেমসে হেজাজীকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ করা হয়। সেবার সাফে রুপা জিতেছিল বাংলাদেশ। জাতীয় দলে একটি অ্যাসাইনমেন্টই ছিল তাঁর। মোহামেডানের কোচ ছিলেন তিনি ১৯৯২ পর্যন্ত।

default-image

সামির শাকির ১৯৮৭-তেই আবাহনীতে আসেন খেলোয়াড় হিসেবে। ইরাকের আল রশীদ ক্লাবের হয়ে তিনি এর আগেও ঢাকায় এসেছিলেন তিনি, এশিয়ান ক্লাব কাপের বাছাইপর্ব খেলতে। ’৮৭ মৌসুমে আবাহনীর অন্যতম সেরা তারকা হলেও দলকে লিগ শিরোপা জেতাতে পারেনি। সামির শাকির পরবর্তীকাল আবাহনীতে কোচ হিসেবে যোগ দেন ১৯৯৪-তে। মোহামেডানেরও কোচ হয়েছিলেন তিনি কিছু সময়ের জন্য। এর পরপরই ইরাকি তারকাকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ করা হয়। তাঁর অধীনে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালে সাফ গেমসে ফুটবলে অধরা সোনার পদক জয় করে। সাফ গেমসের আগে পরে আরও দুটি অ্যাসাইনমেন্ট ছিল তাঁর। ’৯৯-তেই গোয়ার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আর একই বছরের শেষে আবুধাবিতে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। সাফে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের সেই বাছাইপর্বে ভারতের সঙ্গে ২-২ ড্র আর শ্রীলঙ্কাকে ৩-১ গোলে হারালেও বাংলাদেশ হারে উজবেকিস্তান ও আরব আমিরাতের কাছে। সামির শাকির বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদ দীর্ঘায়িত করতে পারেননি সম্পূর্ণ অন্য কারণে। ফুটবল কোচিংয়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁর ছিল না। ফিফা ও এএফসির নিয়ম মানতে গিয়ে সামির শাকিরকে বাদ দিতে হয় বাংলাদেশকে। অবশ্য বাফুফের সঙ্গে সম্পর্কটাও তাঁর খুব ভালো যাচ্ছিল না।

default-image

বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আসেন স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন। প্রথম ফেডারেশন কাপে রানার্সআপ হওয়ার পর টানা দুটি লিগ ও তিনটি টুর্নামেন্টে বসুন্ধরাকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি। ক্লাবের সাফল্যের ওপর ভর করে তাঁকে জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নির্বাচন করেছে বাফুফে। সাফ ফুটবল সহ তিনটি টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। হেজাজী আর সামির শাকিরের পদাঙ্কই অনুসরণ করেই ব্রুজোনকে দায়িত্ব দিচ্ছে বাফুফে।

সামির শাকির তো জাতীয় দলের কোচ হিসেবে সফল হয়েছিলেন। হেজাজীও বাংলাদেশকে সাফ গেমসের ফাইনালে তুলেছিলেন। ব্রুজোন এই দুই পূর্বসুরির মতো হতে পারবেন কিনা, সেটা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন