বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

না, বেশিদিন আর এভাবে চলা যায়নি। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর জেনেছেন আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতানো কোচ ৮৪ বছর বয়সী বিলার্দো। তাঁর ভাই হোর্হে বিলার্দো ‘রেডিও ভিলা ত্রিনিদাদ’–এর ‘সুপার দেপোর্তিভো রেডিও’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিন-চার মাস আগেই বিলার্দো জেনেছেন শিষ্যের মৃত্যুর খবর। ‘চিকিৎসকেরা কার্লোস বিলার্দোকে জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন গেছেন ডিয়েগো’—জানান হোর্হে।

default-image

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আরও কিছুদিন আগে থেকেই স্মৃতিভ্রষ্টতা (ডিমেনশিয়া) আর পারকিনসনের মতো রোগের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন বিলার্দো। একটা পর্যায়ে তো তিনি কোমায়ই চলে গিয়েছিলেন। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে পরিবার বিলার্দোকে লালন–পালন করছেন শিশুর মতো। কোনো কিছুতে তাঁর শরীরে বা মনে চাপ পড়বে, এমন কিছু থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়।

গাইনি বিশেষজ্ঞ থেকে কোচ হওয়া বিলার্দো ১৯৮২ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, তখন অধিনায়ক ছিলেন ম্যারাডোনা। তাঁর অধীনেই খেলোয়াড় হিসেবে পরিপূর্ণতা পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা। বিলার্দো কোচ ছিলেন পরের বিশ্বকাপেও, যে বিশ্বকাপটা একটুর জন্য হাতছাড়া হয়ে যায় আর্জেন্টিনার।

ম্যারাডোনার কিছু একটা হয়েছে এমন কিছু আঁচ করতে পেরেছিলেন বিলার্দো। হোর্হে জানান, তিন থেকে চার মাস আগে টিভিতে প্রায় মাঠেই ম্যারাডোনার ব্যানার দেখে বিলার্দো জানতে চান, তাঁর কি খবর? কিছু ঘটছে নাকি?

এরপরই বিলার্দোকে খুব শান্তভাবে বলা হয়, ‘না, সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে।’ চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই খবর জানানোর জন্য বিলার্দোকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

হোর্হের ভাষায়, তাঁর কাছে খবরটি একদম গোপন রাখলে ‘পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে’ বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা। তবে বিলার্দো এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি যেন, ‘এই খবরটার অপেক্ষায়ই তিনি ছিলেন’ জানিয়েছেন হোর্হে।

হোর্হের ভাষায়, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে সত্যটা বলা হয়েছে। গোপন করে যাওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, তখনই তাকে খবরটা জানালে হিতে বিপরীত হতে পারে। সময় এগিয়ে চলার সঙ্গে তিনি এমনিতেই জেনে যাবেন কিংবা ধীরে ধীরে তাঁকে জানানো হবে, এমনটাই ভাবা হয়েছিল। খবরটি শুনে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। শান্তই ছিলেন, যেন এই খবরের অপেক্ষায়ই ছিলেন। ম্যারাডোনা ভুল পথে ছিলেন জানতেন তিনি।’

ম্যারাডোনার জীবন বিতর্ক ও অনিয়মে ভরপুর ছিল। মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। এদিকে বিলার্দো হাকিম-অ্যাডামস সিনড্রোম রোগে ২০১৭ সাল থেকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন