বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অথচ এমন পরিস্থিতি না হতে দিতেই ম্যাচের আগে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে রেখেছিল বার্সা! উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের মাঠের ৫ শতাংশ টিকিট প্রতিপক্ষ সমর্থকদের জন্য ছেড়ে দিতে বাধ্য ক্লাবগুলো, বার্সা সে হিসাব করেই তাদের প্রায় লাখো দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারির পাঁচ হাজার টিকিট ফ্রাঙ্কফুর্টকে দিয়েছিল। কিন্তু গত পরশু থেকেই বার্সেলোনা শহরে জমা হতে থাকেন ফ্রাঙ্কফুর্টের সমর্থকেরা।

বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগে জার্মান ক্লাবটির আরও সমর্থক জড়ো হবেন, এটি মাথায় নিয়ে পরশুই বুথে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয় বার্সা। শুধু নিবন্ধিত বার্সা–সমর্থকদের কাছে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করা হয়। টিকিট অফিস খোলা হয় গতকাল ম্যাচের চার ঘণ্টা আগে, সেটিও শুধু টিকিট নিয়ে জটিলতা নিরসনে সাহায্যের জন্য খোলা হয়।

কিন্তু কাল মাঠে কী দেখা গেল? গ্যালারিতে প্রায় ৮০ হাজার দর্শক ছিলেন, এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারই ফ্রাঙ্কফুর্টের সমর্থক বলে জানাচ্ছে ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন। বার্সেলোনার ‘হোম’ গ্যালারিতেও ফ্রাঙ্কফুর্টের সাদা জার্সির দাপট! বার্সার পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, ফ্রাঙ্কফুর্টের সমর্থক ছিল ২০ হাজারের মতো।

default-image

সংখ্যা যা-ই হোক, ম্যাচের আগে থেকে ক্যাম্প ন্যুতেই ‘অ্যাওয়ে ম্যাচের’তেতো স্বাদ পাচ্ছিলেন বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা। ম্যাচপূর্ব গা গরমের সময়ে বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা নামতেই শিষ বাজিয়ে, দুয়ো দিয়ে তাঁদের ‘অভ্যর্থনা’ জানান সাদা জার্সির ফ্রাঙ্কফুর্ট–সমর্থকগোষ্ঠী। ম্যাচজুড়ে বার্সার মাঠে তাঁদের দাপটই বেশি দেখা গেছে।

এমনই অবস্থা, নিজেদের মাঠে এত ফ্রাঙ্কফুর্ট–সমর্থক কেন, এ নিয়ে প্রতিবাদে বিরতির পর ১০ মিনিট মাঠেই ঢোকেননি বার্সার অতি-আবেগী আলট্রাস–সমর্থকগোষ্ঠী। সাধারণত একটা গোলপোস্টের পেছনে বসে গান গেয়েটেয়ে খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করার দায়িত্বটা তাঁদেরই থাকে।

সব মিলিয়ে ম্যাচ শেষে জাভির হতাশা, ‘আজকের পরিস্থিতি মোটেও আমাদের পক্ষে ছিল না। এটা আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে, আমরাও ভালো খেলিনি। এটা কোনো অজুহাত নয়, আমাদের ফ্রাঙ্কফুর্টকেও অভিনন্দন জানাতে হবে।’

ম্যাচটিকে নিজেদের মাঠের কোনো ম্যাচ নয়, বরং কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত ফাইনাল বলেই মনে হয়েছে জাভির। সাধারণত ফাইনালে দুই দলের সমর্থকদেরই উপস্থিতি প্রায় সমান থাকে কি না!

default-image

‘মনে হচ্ছিল, কোনো ফাইনাল খেলছি, স্টেডিয়াম দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। এমনকি আমাদের খেলোয়াড়েরাও এ নিয়ে কথা বলেছে। ড্রেসিংরুম জানতে চায়, কীভাবে এমনটা হলো। আমরা একটা ব্যাখ্যা চাইব। আপনি যখন নিজের মাঠে খেলছেন, তখন এমনটা হতেই পারে না। এখানে হিসাবে, পরিকল্পনায় কোনো ভুল হয়েছে। ক্লাব খুঁজে দেখবে কী হয়েছে’—জাভির ক্ষোভ।

অথচ প্রথম লেগে ফ্রাঙ্কফুর্টের মাঠে ফ্রাঙ্কফুর্ট–সমর্থকেরা যেভাবে নিজেদের দলকে সমর্থন দিয়ে বার্সার জন্য কাজটা কঠিন বানিয়েছেন, সেটা দেখে দ্বিতীয় লেগেও বার্সার সমর্থকদের কাছে জাভির অনুরোধ ছিল, তাঁরাও যেন ফ্রাঙ্কফুর্টের মতোই কিছু করেন।

সেখানে এমন অবস্থা হওয়ার পেছনে ধারণা করা হচ্ছে, বার্সেলোনার সমর্থকেরাই নিজেরা ক্লাবের কাছ থেকে টিকিট কিনে সেটি চড়া দামে বিক্রি করেছেন ফ্রাঙ্কফুর্টের সমর্থকদের কাছে। আবার অনেকে ভাবছেন, পুরো মৌসুমের টিকিট (সিজন টিকিট) কিনে ফেলা বার্সেলোনার নিবন্ধিত সমর্থকেরাই নিজেদের টিকিট বিক্রি করেছেন।

কারণ কী, সেটি খুঁজে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্সার সভাপতি লাপোর্তা, ‘জাভি ঠিকই বলেছে। এখানে গুরুতর একটা ভুল কোথাও হয়েছে। গ্যালারিতে যা হয়েছে, এটা একটা বিপর্যয়। এমনটা আর হওয়া যাবে না। আমাদের হাতে যা তথ্য-উপাত্ত আছে, সেটি দেখেশুনে আমরা ব্যবস্থা নেব। এটা হতেই পারে না! আমাদের আরও কঠোর হতে হবে, কিছু জিনিস হতে দেওয়া চলবে না। বার্সেলোনার সমর্থক হিসেবেই আমার লজ্জা লাগছে। আমরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখে পরে ব্যাখ্যা দেব।’

প্রথম লেগে ১-১ গোলে ড্র করা বার্সেলোনা কাল নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগে হেরেছে ৩-২ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল, মৌসুমে এবার কোনো শিরোপা জেতার আর বাস্তব সুযোগ নেই বার্সার।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন