বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছয় ম্যাচে মাত্র এক জয়, সর্বশেষ চার ম্যাচে জয়হীন বার্সা লিগে ১২ ম্যাচ শেষে এখন ১৮ পয়েন্ট নিয়ে আছে পয়েন্ট তালিকার নয় নম্বরে। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে শীর্ষে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের (১২ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট) চেয়ে পিছিয়ে ৭ পয়েন্টে। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিজেদের মাঠে খেলবে রাদামেল ফালকাওয়ের রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে। তিন নম্বরে থাকা সেভিয়ারও পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ২৪, তারা আগামীকাল নামবে ‘সেভিয়া ডার্বিতে’, রিয়াল বেতিসের মাঠে।

বার্সার অবশ্য এখন লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান নিয়ে সম্ভবত অত ভাবনা নেই। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়াই যে এখন বড় চ্যালেঞ্জ! কাল বার্সেলোনার কোচ হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর জাভি উচ্ছ্বাস জানিয়েও বলেছিলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে এটি।’ বার্সেলোনার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার কি তখনো ভাবতে পেরেছিলেন, চ্যালেঞ্জটা আসলে এত বড়!

একে তো দল ছন্দে নেই, আত্মবিশ্বাসও তলানিতে, তারওপর বার্সার একের পর এক খেলোয়াড় চোটে পড়ছেন। ফাতি ও গার্সিয়াকে নিয়ে বার্সার মূল দলের ১১ জন খেলোয়াড় এই মুহূর্তে চোটের কারণে দলের বাইরে। জাভি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অনুশীলনে চোটের কারণে যে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পাবেন না, তাঁদের তালিকাটাই একবার দেখে নিন—সের্হিও আগুয়েরো, মার্টিন ব্রাথওয়েইট, উসমান দেম্বেলে, সের্হি রবার্তো, এরিক গার্সিয়া, আনসু ফাতি, পেদ্রি, সের্হিনিও দেস্ত, জেরার্দ পিকে। একাদশ সাজাতেই তো হিমশিম খাওয়ার দশা!

default-image

অথচ সেল্তার মাঠে আজ প্রথমার্ধে বার্সার খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, রক্ষণের হিসাব এক পাশে রাখলে চাইলে এই মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগই নিশ্চিন্তে ম্যাচের পর ম্যাচ নামিয়ে দিতে পারবেন জাভি। গোলপোস্টে মার্ক–আন্দ্রে টের স্টেগেন, চার ডিফেন্ডার অস্কার মিঙ্গেসা, এরিক গার্সিয়া, ক্লেমঁ লংলে ও জর্দি আলবা। মাঝমাঠে সের্হিও বুসকেতসের সঙ্গে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও নিকো গঞ্জালেস। আর আক্রমণে ফাতির সঙ্গে ছিলেন গাভি ও মেম্ফিস।

প্রথমার্ধে বার্সা খেলেছেও কী দারুণ! মাঝমাঠে নিকো গঞ্জালেস দেখিয়েছেন, কেন তাঁকে নিয়ে কদিন আগে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। ফাতি-মেম্ফিসরা ছিলেন ক্ষুরধার। ৩৪ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে গেল ৩-০ গোলে। ৫ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে দারুণ বাঁকানো শটে ফাতি এগিয়ে দিলেন বার্সাকে। ১৮ মিনিটে দেখা মিলল বিরল দৃশ্যের - বুসকেতসের গোল! বক্সের বাইরে থেকে শটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন বার্সা অধিনায়ক। এরপর ৩৪ মিনিটে বার্সার তৃতীয় গোলটি মেম্ফিসের।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গল্পে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি বদল। এবারে তেড়েফুঁড়ে নামল সেল্তা, বার্সা যেন হঠাৎই দিশেহারা হয়ে গেল। প্রথমার্ধেই ইয়াগো আসপাস দুবার সেল্তাকে গোল এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধেও ৫০ মিনিটে গালার্দোর শট জালে জড়ালেও গোল বাতিল হয় অফসাইডে। কিন্তু হাল ছাড়েনি সেল্তা। হাল ছাড়েননি আসপাস। ম্যাচের শেষ পর্যন্তই আসলে হাল ছাড়েননি তিনি। ৯৫ মিনিটে তাঁর শটেই সমতাসূচক তৃতীয় গোলটি পেয়েছিল সেল্তা, ক্লাবটার ফিরে আসার শুরুও আসপাসেরই পায়ে।

৫২ মিনিটে ক্রস ধরতে গিয়ে টের স্টেগেনের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান আসপাস। এরপর ম্যাচটা হয়ে ওঠে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমজমাট। এর মধ্যে ৬৯ মিনিটে সেল্তার নোলিতো বল জালে জড়ালেও হ্যান্ডবলের কারণে গোল বাতিল হয়। মজার ব্যাপার, সেই নোলিতোই ৭৪ মিনিটে দারুণ হেডে করেন সেল্তার দ্বিতীয় গোল। বার্সা তখন দুরুদুরু কাঁপছে, নিজেদের মাঠ বালাইদোসের সমর্থন নিয়ে সেল্তা তেড়েফুঁড়ে উঠছে।

এর মধ্যেই ৮৬ মিনিটে বার্সার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের শট সেল্তার বার কাঁপিয়ে গেল। এরপর ম্যাচ যত গড়িয়েছে, বার্সার তরুণ দলটা আরও চাপের মুখে ফাউল করে সেল্তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। এদিকে ঘড়ি এগিয়ে যাচ্ছিল। ৯৩ মিনিট, ৯৪ মিনিট, ৯৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড...বার্সার খেলোয়াড়দের কাছে হয়তো মনে হচ্ছিল, সময় কেন ফুরায় না!

ঘড়ির কাঁটা ৯৫ মিনিটের ঘর পেরোতে সময় যেন থেমেই গেল! শেষবার আক্রমণে উঠল সেল্তা, বাঁদিক থেকে গালানের ক্রস এল বার্সা বক্সের ঠিক ওপরে দাঁড়ানো আসপাসের কাছে। প্রথম স্পর্শেই শরীর বাঁকিয়ে, বাঁ পা-টাকে দারুণভাবে ঘুরিয়ে এমনভাবে শট নিলেন আসপাস যে, বার্সা গোলপোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়া টের স্টেগেনের বাড়ানো হাতও সেটির নাগাল পেল না। বল জড়িয়ে গেল জালে!

এরপর খেলা শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই রেফারির ম্যাচ শেষের ঘোষণাসূচক বাঁশি। ডি ইয়ংরা লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে, বালাইদোস তখন উচ্ছ্বাসে ভাসছে। আর জাভি হার্নান্দেজের ভাবনার জগতে হয়তো শুরু হয়ে গেছে তোলপাড়। এই বার্সাকে সামলানো হয়তো তাঁর ভাবনার চেয়েও কঠিন হবে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন